Calcutta High Court: ‘যা খুশি টাকায় শিক্ষা বিক্রি করা যায় না’, বেসরকারি স্কুলে অস্বাভাবিক ফি বৃদ্ধি নিয়ে কড়া হাইকোর্ট – calcutta high court question about state government role in private school fee hike case


ছেলে মেয়ে জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মা হিসাব কষতে শুরু করেন নিজেদের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোন বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে বাচ্চাকে পড়ানো যাবে। বেসরকারি ইংরাজী মাধ্যম স্কুলের ইচ্ছেমত ফি বাড়ানোর জেরে বেকায়দায় মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকেরা। ইচ্ছে মতো ফি বাড়ানো নিয়ে মামলা দায়ের কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলাতেই এদিন তীব্র ভর্ৎসনা বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর।

শিক্ষা সকলের অধিকার। সেই শিক্ষার জন্য এত চড়া ফি নিয়ে অভিযোগ। বেসরকারি স্কুলগুলি অস্বাভাবিক ফি বৃদ্ধির অভিযোগের পর্যবেক্ষণে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু বলেন, ”ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষা বিক্রয়যোগ্য পণ্য হতে পারে না। ইচ্ছেমতন টাকায় শিক্ষা বিক্রি এটা কখনই হতে পারে না।” একইসঙ্গে বেসরকারি স্কুলে ফি বৃদ্ধি মামলায় রাজ্যের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত।

D El Ed Admission: পর্ষদের ডি এল এড-এ ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ, মামলা ডিভিশন বেঞ্চে

মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি আরও বলেন, ” বেসরকারি স্কুলগুলোর ওপর রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ থাকা অত্যন্ত জরুরি। বেসরকারি স্কুলে ফি স্ট্রাকচার কী হবে তা রাজ্য সরাসরি ঠিক করে দিতে পারে না। কিন্তু, কোথাও তো বলা নেই রাজ্যের কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না বেসরকারি স্কুলগুলোর ওপর। রাজ্যের ২০১২ সালের আইন বলছে বেসরকারি স্কুলের ফি বৃদ্ধি সহ বিষয়ে রাজ্যের অনুমতি থাকতে হবে।”

Summer Holidays 2023 : তীব্র গরমে জেরবার অসম, বদল হল স্কুলের পঠন পাঠনের সময়

একইসঙ্গে বেসরকারি স্কুলগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে রাজ্যকে প্রশ্ন করে আদালত। কলকাতা হাইকোর্ট জানতে চায়, বেসরকারি স্কুলের ফিজ বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যে কোনও বক্তব্য থাকবে না কেন? এই প্রশ্ন বিবেচনায় এনে সুষ্ঠু সমাধান চায় আদালত। এর উপর নির্ভর করছে ছোট বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ। রাজ্যে অ্যাডভোকেট জেনারেলকে মামলায় সওয়ালের জন্য অনুরোধ জানালেন বিচারপতি। ২১ জুন মামলার রয়েছে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

Primary Teachers: ৩৬ হাজার চাকরিহারা! ‘ট্রমা’য় প্রাথমিক শিক্ষক ভাস্করও! ‘লড়াই হবে’!

উল্লেখ্য, কোভিড উত্তর পর্বে রাজ্যের একাধিক বেসরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে একলাফে অনেকটাই ফি বৃদ্ধির অভিযোগ ওঠে। অনেক সময় অনেক স্কুল থেকে ফি না দিতে পারায় পড়ুয়াকে ক্লাস না করতে দেওয়ারও অভিযোগ সামনে এসেছিল। এমনকী ফি বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের পরামর্শও মানে না বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী চলতি বছরের শুরুর দিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিকে নিয়মে বাঁধতে কয়েক বছর আগে যে ভাবে সরকার ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশন (স্বাস্থ্য কমিশন) গড়েছিল, সেভাবেই বেসরকারি স্কুলেই ইচ্ছেমতো ফি বাড়ানোর প্রবণতায় বাঁধ দিতে শিক্ষা কমিশন এমনই একটি মডেল তৈরির কথা ভাবছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *