Sutapa Murder Case : ৪২ কোপ, হাতে পাবজি গান! – flipkart nodal officer ravi kumar testified in baharampur sutapa chowdhury murder case


চিত্রদীপ চক্রবর্তী

হাসপাতালের বেড থেকেই এরাজ্যের একটি চাঞ্চল্যকর খুনের মামলার সাক্ষ্য দিলেন ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্টের নোডাল অফিসার রবি কুমার। বিচারকের কাছে বেঙ্গালুরু থেকে তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে জানালেন, একবছর আগে বহরমপুরে সাড়া জাগানো সুতপা চৌধুরী খুনে ব্যবহৃত বন্দুকটি আসলে সাড়ে চারশো টাকা দামের একটি পাবজি গান! নিজের মোবাইল থেকে ওই ই-কমার্সের সাইটে ঢুকে খেলনা বন্দুকটি কিনেছিলেন ঘটনার মূল অভিযুক্ত সুশান্ত চৌধুরী।

বহরমপুরের তৃতীয় ফাস্টট্র্যাক আদালতে নোডাল অফিসারের এই বয়ানের ফলে ওই খুনের ঘটনায় সুশান্তের বিরুদ্ধে পোক্ত প্রমাণ পাওয়া গেল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। মামলার সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “রাজ্যে এই প্রথম কোনও খুনের মামলায় এভাবে সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হলো।”

Sutapa Chowdhury News: ড্রোনের সাহায্যে তদন্ত, সুতপা খুনে চার্জ গঠন
ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল?

২০২২ সালের ২ মে বহরমপুরের কাত্যায়ণীর গলিতে ভূগোল অনার্সের ছাত্রী সুতপা চৌধুরীকে তাঁর মেস বাড়ির সামনে চাকু দিয়ে পর পর পেটে আঘাত করে খুন করেন সুশান্ত। সেই সময়ে তাঁর হাতে একটি পিস্তল দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা পুরো ঘটনাটি মোবাইলে রেকর্ড করার পাশাপাশি চিৎকার করলেও কাছে যেতে ভয় পাচ্ছিলেন সুশান্তের হাতে থাকা পিস্তলের কারণেই।

ঘটনার সময় সুতপাকে ৪২ বার কোপানোর ফলে ধারালো চাকুর আঘাতে অভিযুক্তের বুড়ো আঙুলের একাংশ কেটে গিয়েও রক্ত পড়তে থাকে। গত জুলাই মাসে এই ঘটনার প্রায় ৩৮৩ পাতার চার্জশিটও জমা পড়ে আদালতে। পুলিশ জানায় এই মামলায় ৫৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সেখানেই খুনের সময় ব্যবহার করা চাকু এবং বন্দুকের কথা উল্লেখ করা হয়।

Sutapa Chowdhury Case : IPS হওয়ার স্বপ্ন অধরা, জেলে ‘ভালো আছে’ সুতপাকে প্রকাশ্যে কোপানোয় অভিযুক্ত ‘প্রেমিক’ সুশান্ত
তদন্তকারীরা যে দোকান থেকে চাকু কেনা হয়েছিল তা চিহ্নিত করতে পারলেও, বন্দুকটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল তা খোঁজ করতে গিয়ে অনলাইন সংস্থার কথা জানতে পারেন। তদন্তে পাবজি গানটি কেনার ক্ষেত্রে যে ডকেট নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল তা নিশ্চিত করতে রবিকুমারের বয়ান নেওয়া জরুরি বলে আদালতের কাছে জানানো হয়।

সেই আবেদন মঞ্জুরও করেন বিচারক। পুলিশ জানতে পারে সুতপা আদতে মালদার ইংরেজবাজারের বাসিন্দা। সেখান থেকে তিনি উদ্ভিদ বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে বহরমপুর গার্লস কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। মালদাতে থাকার সময় স্থানীয় বাসিন্দা সুশান্তের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।
Sutapa Chowdhury : আফতাবের মতোই ‘সাইকো’ ছিল সুতপা ‘প্রেমিক’ সুশান্ত? শ্রদ্ধা হত্যাকাণ্ড ফের একবার নাড়িয়ে দিল বহরমপুরকে
সুশান্তর দাবি, তাঁরা দুজনে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু বহরমপুরে আসার পরে অন্য একজনের সঙ্গে সুতপার সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই খবর কনফার্ম করতে সুশান্ত বহরমপুরের গোরাবাজারে সূর্যসেন রোডের একটি মেসে এসে থাকতে শুরু করেন। পুলিশের দাবি, তখন থেকেই তিনি খুনের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। এমনকী, কিনে ফেলেন চাকুও।

এরপর তাঁর মনে হয় এলাকাটি জনবহুল হওয়ায় স্থানীয় লোকজন চলে এলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই ঠান্ডা মাথায় ফ্লিপকার্টে পাবজি গান বুক করে মালদার বাড়িতে ডেলিভারি নেন। পরে বাড়ি থেকে সেটি নিয়ে বহরমপুরেও চলে আসেন।

Crime News : মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে ধর্ষণের শিকার নাবালিকা! আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই প্রতিবন্ধীর
ঘটনার ঠিক আগে সুশান্ত জানতে পারেন নতুন এক বন্ধুর সঙ্গে স্থানীয় শপিং মলে সিনেমা দেখতে গিয়েছেন সুতপা। এই খবর কানে যাওয়া মাত্র তাঁকে খুন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন এমটেকের ছাত্র সুশান্ত। এরপরেই ঘটে কলেজ ছাত্রীকে খুন করার নৃশংস ঘটনা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *