Calcutta High Court : স্কুলে ১১ বছর ধরে অনুপস্থিত শিক্ষিকা! নির্দেশ অমান্য করায় হাইকোর্টের ভর্ৎসনা পর্ষদকে – calcutta high court ordered wb secondary board to sack school teacher who is absent for eleven year


তৃণমূল সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির ভুরি ভুরি অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য। আদালতের রায়ে প্রাথমিক, উচ্চপ্রাথমিক সহ বিভিন্ন পদে কর্মরত অযোগ্যদের চাকরি গিয়েছে। এবার দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত এক শিক্ষিকার চাকরি বরখাস্তের মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ল স্কুল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের উপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা।

পূর্ব মেদিনীপুরের ঘোষপুর শ্রীনেহেরু হাই স্কুলে ২০১২ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনুপস্থিত শিক্ষিকা শুক্লা পাঁজা রজক। ২০২২ সালে ওই শিক্ষিকাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেয় আদালত। পাওনা-গণ্ডা মিটিয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলে আদালত অবমাননার মামলা হয়।

Calcutta High Court : আপনারা ভোট নিয়ে লাফাচ্ছেন, অন্য মামলা শুনব না?
সোমবার আদালতে এই নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা বলেন, ‘একজন শিক্ষিকা ১১ বছরের বেশি সময় স্কুলে অনুপস্থিত। তার মানে তিনি চাকরি করতে চান না। তাঁকে ইস্তফা দিতে বলবেন, এইটুকু বলার ক্ষমতা আপনাদের নেই! বোর্ড ও স্কুল কর্তৃপক্ষ, উভয়েই দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে। স্কুলে এতদিন ধরে শিক্ষিকা নেই, সেখানে তাঁর জায়গায় অন্য শিক্ষক দেওয়া যেত। কিন্তু পর্ষদ ও স্কুলের আইন নিয়ে খেলার কারণে আসল কাজটাই করা হয়নি। দু’পক্ষই নিস্পৃহ ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।’

Nawsad Siddiqui : ‘অসন্তুষ্ট’ নওশাদ, কেন্দ্রকে নিয়মিত নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ বিচারপতি মান্থার
ক্ষুব্ধ বিচারুপতি আরও বলেন, ‘ওই শিক্ষিকা কি আপনাদের কাছের লোক? প্রধান শিক্ষক ও বোর্ড সভাপতি পরস্পরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর খেলায় নেমেছে। এদের জন্য ওই স্কুলের পড়ুয়ারা নতুন শিক্ষক পাননি। স্কুলের পড়ুয়াদের ক্ষতি হচ্ছে। বোর্ড সভাপতি আমলাদের মতো আচরণ করছেন। কেন পড়ুয়াদের এতদিন ভুগতে হল? এটা স্পষ্ট, যে স্কুল চায় না ওই শিক্ষিকা চাকরি করুন।’

আদালতের রায় : অবিলম্বে শিক্ষিকা শুক্লা পাঁজা রজককে চাকরি ছাড়তে হবে। বোর্ড সভাপতিকে সতর্ক করা হল। ভবিষ্যতে এমন আচরণ যাতে না করা হয়, তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে পর্ষদ সভাপতির অক্ষমতা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

WB Panchayat Election : সৌদি আরবে বসে পঞ্চায়েতে মনোনয়ন জমা মিনাখাঁর তৃণমূল প্রার্থীর? CBI তদন্ত চেয়ে মামলা

উল্লেখ্য, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে একের পর এক নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে জেলবন্দি প্রাক্তন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সভাপতি থেকে শুরু করে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। এখনও নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত চালাচ্ছে ইডি-সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা। আগামী দিনে এই মামলায় নতুন করে কোনও প্রভাবশালীর নাম উঠে আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *