তাঁরা সবাই আটকে পড়েন। আটকে পড়েন স্থানীয় যাত্রীরাও। পরে পুলিশ এসে ভূতল পরিবহণ নিগমের কর্মকর্তা ও ভেসেল কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেয়। সন্ধে সাতটার নাগাদ ভেসেল পরিষেবা চালু হয়। তবে আগামী দিনে প্রশাসন ভেসেল কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত না করলে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিষেবা বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্মীরা।
মুড়িগঙ্গা নদীতে পলি জমে যাওয়ায় ভাটার সময় নাব্যতা কমে যায়। ফলে প্রত্যেকদিন ছ’ঘন্টার উপর বন্ধ থাকে ভেসেল চলাচল। কেবলমাত্র জোয়ারের সময় ভেসেল চলে। ফলে এমনিতেই ভাটার সময় নদী পারাপার করতে না পেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভেসেল ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের। এ ছবি আজকের নয়, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যায় নাজেহাল যাত্রীরা।
ফলে মাঝেমধ্যেই ক্ষোভ-বিক্ষোভও হয়। এ দিন বিকেলে সাগরের কচুবেড়িয়া ভেসেল ঘাটে ওঠার সময় এক পুণ্যার্থী দলের সঙ্গে ভেসেল কর্মী উত্তম মুনিয়ানের কোনও কারণে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, পুণ্যার্থী দল তাঁকে হেনস্থা করে। মারধরও করে বলে অভিযোগ। এরপরই ভূতল পরিবহণ নিগমের অফিসার-সহ ভেসেল কর্মীরা প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন। তাঁদের নিরাপত্তার দাবিতে ভেসেল পরিষেবা বন্ধ করে দেন।
ধীরে ধীরে কচুবেড়িয়া ভেসেল ঘাটে কাতারে কাতারে যাত্রী এসে জড়ো হন। শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি। এক সময় অধৈর্য হয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরাও। কিন্তু নদী পারাপারের কোনও উপায় নেই। খবর পেয়ে সাগর থানার পুলিশ এসে ভেসেল কর্মীদের বুঝিয়ে ভেসেল চলাচল শুরু করে।
ভেসেল কর্মী উত্তম মুনিয়ান বলেন, ‘নদীতে পলি জমে যাওয়ায় প্রত্যেকদিন নির্দিষ্ট সময়ে ভেসেল চলাচল বন্ধ থাকে। তা নিয়ে যাত্রীদের গালিগালাজ আমাদের শুনতে হয়। যাত্রীদের হাতে হেনস্থার পাশাপাশি মার পর্যন্ত খেতে হচ্ছে। তারপরও পুলিশ-প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে না পারলে আগামী দিনে অনির্দিষ্টকালের কালের জন্য ভেসেল বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছেন কর্মীরা।
