জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে সদাইপুর থানার বাঁধেরশোল রেলগেটের কাছে দুবরাজপুরের দিক থেকে সিউড়ি দিকে যাওয়ার সময় একটি মালগাড়ির বগি খুলে যায়। যদিও তখন সেটি বুঝতে পারেননি চালক। ফলে মালগাড়িটি বেশ কিছুটা এগিয়েও যায়। এদিকে লাইনের ওপরেই দাঁড়িয়ে যায় খুলে যাওয়া বগিটি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলকর্মীরা। প্রায় ঘন্টাখানেক পর পুনরায় মালগাড়িটিকে পিছিয়ে নিয়ে গিয়ে জোড়া লাগানো হয় খুলে যাওয়া বগিটি। এরপর ফের গন্তব্যের দিকে রওনা দেয় মালগাড়িটি।
এদিকে এই মালগাড়ির বগি খুলে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। কেউ কেউ মনে করছেন, সেই সময় লাইনে অন্য কোনও গাড়ি থাকলে ঘটে যেতে পারত বড়সড় দুর্ঘটনাও। কী ভাবে এই বগিটি খুলল তা তদন্ত করে দেখছেন রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। সেক্ষেত্রে মালগাড়ির বগিটি যেখান থেকে খুলেছে, সেখানকার যন্ত্রাংশ ঠিক ছিল কি না, রওনা দেওয়ার সময় গোটা মালগাড়ির যন্ত্রাংশ ঠিক মতো পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এই প্রথম নয়, এর আগেও ঘটেছে এই ধরণের ঘটনা। গতবছর ফেব্রুয়ারি মাসে, তমলুকের ধারিন্দায় হলদিয়া-পাঁশকুড়ার রেল লাইনের ওপর একটি মালগাড়ি যাওয়ার সময় খুলে যায় ১০টি বগি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল, হলদিয়া থেকে পাঁশকুড়ার দিকে যাচ্ছিল মালগাড়িটি। তমলুকের ধারিন্দা রেলগেটের সামনে মালগাড়িটি পৌঁছতেই ঘটে বিপর্যয়। ট্রেনটির ১০টি বগি হঠাৎ করেই ইঞ্জিনের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। সেই সময় রেলগেটটি বন্ধ থাকার কারণে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। ঘটনার জেরে দীর্ঘক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় হলদিয়া-পাঁশকুড়া রেল লাইন। রেলগেটের একদম সামনে বিচ্ছিন্ন বগি গুলি দাঁড়িয়ে পড়ায় দুই পাশের রাস্তায় সারি সারি গাড়িও আটকে যায়। রেললাইনের ওপর পারাপার বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গাড়ির চালকরা। বেশ কিছুক্ষণ ব্যহত হয় ট্রেন চলাচল।
