সূত্রের খবর, বনকর্তারা ঠিক করেছেন, এখন থেকে লেপার্ডের হানায় চা বাগান ও লোকালয়ে কোনও মানুষের মৃত্যু হলে, সেই জায়গায় একাধিক খাঁচা পাতা হবে। ছাগলের টোপে লেপার্ড খাঁচায় ধরা পড়লে কমপক্ষে তিনদিন কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তারপরে ওই চিতাবাঘকে ঘটনাস্থল থেকে যতটা দূরে সম্ভব নিয়ে গিয়ে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে পরানো হবে রেডিয়ো কলার।
বন দফতর সূত্রের খবর, সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কাছাকাছি কোথাও ছাড়া হলে ঘরের পোষা বেড়ালের মতো লেপার্ডও সহজে শিকার ধরার আশায় আগের জায়গাতেই ফিরে আসে। সেক্ষেত্রে লেপার্ডের প্রথম পছন্দ হলো, চা বাগান ও লাগোয়া লোকালয়গুলি। রেডিয়ো কলার পরানো হলে তাদের গতিবিধির উপর নজর রেখে আগাম সতর্কতা নিতে পারবে বন দফতর।
২০১৮-এর পর চলতি বছরে গত মাস দেড়েকের মধ্যে আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা ও মাদারিহাট ব্লকের ২৬ কিলোমিটার তল্লাটের মধ্যে পরপর তিনটি জায়গায় লেপার্ডের হানায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার তাসা চা বাগানের শ্রমিক মহল্লা থেকে দীপেশ ওঁরাও (১১) নামে এক নাবালককে চা বাগানের ঝোপে টেনে নিয়ে যায় চিতাবাঘ। স্থানীয়রা চিতাবাঘের খপ্পর থেকে ওই নাবালককে উদ্ধার করলেও শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে পৌঁছনোর পরেই তার মৃত্যু হয়।
চিতাবাঘের হামলায় পরপর মৃত্যুর ঘটনায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া শুরু করেছে বন দপ্তর। সম্প্রতি চিতাবাঘের হামলায় মৃত্যু হয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলার তিন জনের। আহত হয়েছেন অন্তত চারজন। উত্তরঙ্গের বন্যপ্রাণ শাখার মুখ্য বনপাল রাজেন্দ্র জাখর বলেন, ‘আমরা চা বাগানের শ্রমিক মহল্লাগুলিকে রাতে আলো রাখবার জন্য চা বাগান কর্তৃপক্ষগুলিকে চিঠি লিখেছি। এছাড়া এবার থেকে লেপার্ডের হামলা ঠেকাতে ধরা পড়া চিতাবাঘগুলিকে রেডিয়ো কলার পরিয়ে নজর রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
