প্রস্তুতি শুরু কৃষ্ণনগরে
দুর্গাপুজো শেষ, সামনেই কালীপুজো। ইতিমধ্যেই আবার জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রস্তুতিও প্রায় শুরু হয়ে গিয়েছে কৃষ্ণনগরজুড়ে। তবুও যেন সেই প্রশ্নের ঘুরপাক খায় সকলের মনে, কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজোয় দেবী বেহারাদের কাঁধে চড়ে বিসর্জনের পথে যাবেন কি না। সবে দুর্গাপুজো শেষ হয়েছে। তারপর কালীপুজো। তাই সরকারিভাবে এখনও জগদ্ধাত্রী পুজোর সমন্বয় সভার আয়োজন করেনি প্রশাসন। কিন্তু ঐতিহ্যের সাং বন্ধ হবে না বলেই জানালেন, কৃষ্ণনগরের অন্যতম জাগ্রত দেবী বুড়িমা পুজো কমিটির অন্যতম কর্তা গৌতম ঘোষ। এই বিষয়ে গৌতম ঘোষ আরও জানান, যেটা পরম্পরা হয়ে আসছে তা বন্ধ হওয়ার কোন কারণই নেই। আর কৃষ্ণনগরের সাং এটা একটা ঐতিহ্য। এটা কোন মতেই বন্ধ হবে না।
কালীপুজোর পরেই সমন্বয় বৈঠক
পুজো উদ্যোক্তাদের মতে, এবারেও অন্যান্য বছরের মতো সাং প্রথা জারি থাকবে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের প্রতিষ্ঠিত কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পূজোয়। যদিও প্রশাসন সূত্রে খবর, সামনে কালীপুজো, তারপরেই কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে বিভিন্ন বারোয়ারি ও পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয় সভার আয়োজন করা হবে। সেখানে কৃষ্ণনগরের ঘট বিসর্জন থেকে শুরু করে প্রতিমা নিরঞ্জন, সব কিছু নিয়েই আলোচনা হবে। এদিকে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর) মাকওয়ানা মিতকুমার সঞ্জয় কুমার জানান, এখনও বারোয়ারি বা পুজো উদ্যোক্তাদের কো-অর্ডিনেশন মিটিংয়ের দিন ঠিক হয়নি। আগে পুলিশ ও প্রশাসনের মিটিং হবে, তারপর ক-অর্ডিনেশন মিটিংয়ের দিন ঠিক হবে। সেই মিটিংয়েই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, যুগ যুগ ধরে কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোয় চলে আসছে এই সাং প্রথা। রাজ্যের মধ্যে চন্দননগরের মতো কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রীও ভীষণই জনপ্রিয়। লাখ লাখ মানুষের ভিড় হয় এই জগদ্ধাত্রী পুজোয়। সেক্ষেত্রে এবারেও কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী সেই একইভাবে আয়োজিত হবে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
