রেশন দুর্নীতি মামলা : বন্ধ মিলকেও চাল সরবরাহের বরাত দিয়েছে খাদ্য দফতর – ration corruption case food department cited supply of rice to closed mills


তাপস প্রামাণিক

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাইস মিল। ঋণের টাকা মেটাতে না পারায় ব্যাঙ্ক মিলের গেটে অনেক আগে তালা ঝুলে গিয়েছে। অথচ, সেই মিলই আবার রেশনে চাল সরবরাহের বরাত পেয়ে গিয়েছে! যদিও সেই চাল আর সরকারের ঘরে ফেরত আসেনি। দিনের পর দিন এভাবেই কোটি কোটি টাকা গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে এক শ্রেণির রাইস মিল মালিকদের বিরুদ্ধে।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক খাদ্যমন্ত্রী থাকার সময়েই গোটা রাজ্যে এরকম মোট ১৬টি রাইস মিলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত রাইস মিল মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নিয়েছিল খাদ্য দফতর। তাদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করার পাশাপাশি কয়েকজনের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করেছিল তদন্তকারী সংস্থা।

তা সত্ত্বেও কোনও এক অজানা কারণে মাঝপথেই থমকে গিয়েছিল রেশন দুর্নীতির তদন্ত। বাকিবুর রহমান এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেপ্তার হওয়ার পরে এই প্রশ্নগুলি এখন সামনে আসছে। মুর্শিদাবাদের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী তথা একাধিক রাইস মিল এবং আটাকলের মালিক বাকিবুর এবং রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ইডি-র হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরে রেশন দুর্নীতি নিয়ে হইচই হলেও তা খাদ্য দফতরের নজরে এসেছিল বেশ কয়েক বছর আগেই।

খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রেশনের চাল ভাঙানোর নামে সরকারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭-১৮ সালে রাজ্যের মোট ১৬টি চালকল মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছিল খোদ খাদ্য দফতর। প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চাল ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

খাদ্য দফতরের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, ওই ১৬টি রাইস মিলের সবমিলিয়ে মোট ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের তরফ থেকে সরকারি গুদামে কোনও চাল আসেনি। তৎকালীন সময়ে বাজারে যার আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৭৫-৮০ কোটি টাকা। এই রাইস মিলগুলি পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং বাঁকুড়া জেলার।

Ration Corruption Case : রেশনের টান পড়বে? ভয়ে মেল মালিক থেকে ডিলার
ঘটনার তদন্তে নেমে খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা জানতে পারেন, যে ১৬টি রাইস মিল সরকারি টাকা গায়েব করে দিয়েছে, তার মধ্যে বাঁকুড়া এবং জলপাইগুড়ি জেলার দু’টি রাইস মিল পুরোপুরি বন্ধ অবস্থায় থাকলেও তাদের চাল সরবরাহের বরাত দেওয়া হয়েছিল। যার মূল্য ছিল প্রায় ৩ কোটি টাকা। এগুলি আবার কয়েকটি রাইস মিল সিল করতে গিয়ে খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা জানতে পারেন, সেই মালিকরা আগে থেকেই ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে বসে আছেন।

লোন শোধ না করায় মিল ক্রোক করে নিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। ফলে তাদের থেকে কোনও টাকা উদ্ধার করতে পারেনি খাদ্য দফতর। বেঙ্গল রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশীল চৌধুরীর বক্তব্য, ‘আমাদের রাজ্যে প্রায় ৬৫০ এর মতো রাইস মিল রেশনের চালের জোগান দেয়। তাঁদের মধ্যে দু’একজন খারাপ লোক থাকতে পারে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *