EL Nino : বর্ষায় ঘাটতির দোসর এল নিনো, কৃষি নিয়ে আশঙ্কায় আবহবিদরা – el nino the companion of monsoon deficiency meteorologists are worried about agriculture


কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়

বর্ষার বিপুল ঘাটতির ধাক্কা কি আদৌ সামলে উঠতে পারবে দেশ? মৌসম ভবন ২০২৩-কে খরার বছর ঘোষণা করার পর অস্বস্তিতে কৃষি বিশেষজ্ঞরা। দেশের ৭৬৬টি জেলার মধ্যে এ বার ৪৬০টি জেলাই গড়ের চেয়ে কম বৃষ্টি পেয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি দুর্বল হওয়ারও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গোলমেলে আবহাওয়া আগামী দিনে খাদ্যশস্য থেকে শুরু করে শাক-সব্জি—সব কিছুর ফলনকেই প্রভাবিত করবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

বর্ষার চার মাস শেষ হওয়ার পর গোটা দেশের অবস্থা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মৌসম ভবন জানাচ্ছে, দেশের পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব দিকের অবস্থা বাকি দেশের তুলনায় সবচেয়ে খারাপ। পূর্ব ও উত্তর-পূর্বে রাজ্য ১১টি। এর মধ্যে এ বছর একমাত্র সিকিমেই স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

বাকি ১০টি রাজ্যের প্রতিটাই স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টি পেয়েছে। এই রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মণিপুরের। ওই রাজ্যে বর্ষার ঘাটতি ৪৬ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ডে ঘাটতি যথাক্রমে ১১, ২৪ ও ২৭ শতাংশ। পুরোনো রেকর্ড ঘেঁটে আবহবিদরা জানাচ্ছেন, দেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বে গত দশ বছরে ন’বারই বর্ষায় ঘাটতি ঘটেছে। ২০১৪ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত একমাত্র ২০২০ সালেই এই অঞ্চল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি পেয়েছে। বাকি ন’বছরই ঘাটতি।

এর মধ্যে ২০১৮-তে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল ২৫ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চের বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘রাজস্থান, সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছ এবং গুজরাট—এই সব জায়গায় জুন থেকে অগস্ট অতিবৃষ্টি রয়েছে। কিন্তু তাতে কৃষিতে লাভ কিছু হবে না, কারণ এই জায়গাগুলিতে কৃষিজাত সামগ্রীর উৎপাদন খুব বেশি নয়।’

খাদ্যনীতি বিশ্লেষক এবং কৃষিবিজ্ঞানী দেবেন্দ্র শর্মার বক্তব্য, ‘দেশের মোট কৃষিজাত উৎপাদনের ৬৭ শতাংশই বৃষ্টির উপরে নির্ভরশীল। এর বড় অংশের জোগানই দেয় পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত। কাজেই ওই অঞ্চলে ঘাটতি খুবই চিন্তার।’ আবহবিদদের আরও বেশি চিন্তায় রেখেছে এল নিনোর অনড় অবস্থান।

Winter Update : শীতের বারোটা বাজাল এল নিনো! বাড়বে গরম, নভেম্বরেও চলবে পাখা-এসি
প্রশান্ত মহাসাগরে জলের উপরিতলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে গরম থাকলে তাকে ‘এল নিনো’ বলে। এল নিনো গোটা পৃথিবীর আবহাওয়াকেই প্রভাবিত করে। তবে ভারতে প্রভাব খুব বেশি। এল নিনোর বছরে সাধারণত বৃষ্টি কম হয়। এ বছর মার্চে এল নিনো তৈরি হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত তার দুর্বল হওয়ার কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

আবহাওয়া ও পরিবেশ নিয়ে কর্মরত বেসরকারি সংস্থা ক্লাইমেট ট্রেন্ডসের ডিরেক্টর আরতি খোসলা বলেন, ‘২০২২-এ গোটা দেশে যে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছিল, তার প্রভাব পড়েছিল রবিশস্যের উৎপাদনে। এ বছরও তাপপ্রবাহের তেজ যথেষ্ট ছিল। এর উপর বৃষ্টিও অপর্যাপ্ত। কাজেই শস্য উৎপাদন নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *