Kolkata Municipality Mayor,Firhad Hakim : ঘরে মূষিক-হামলা! নাজেহাল খোদ মেয়রই – rat infestation at kolkata municipality mayor firhad hakim house


দেবাশিস দাস

শুক্কুরবার-শুক্কুরবার তিনি বসেন ফোন নিয়ে। একেবারে নিয়ম করে। শহরের লোকের নানা অভাব-নালিশ শোনেন নিজের কানে। সমস্যার নির্দেশও দেন চটজলদি। করবেন না-ই বা কেন। তিনি যে মেয়র… কলকাতার পুরপ্রধান। কিন্তু এই শুক্রে একেবারে শনির দশা কিনা খোদ তাঁর ঘরেই! যে অনুষ্ঠানে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম নগরবাসীর সুরাহা করেন, সেই ‘টক-টু-মেয়র’ প্রোগ্রামেই ইঁদুরের উপদ্রবে নিজের নাকাল হওয়ার কথা শোনালেন। তাঁর ঘরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মূষিক-কুল।

একে তো তিনি মেয়র, তায় মন্ত্রী। নিরাপত্তার বজ্র-আঁটুনি ভেদ করে বাড়িতে মাছি গলার জো নেই। কিন্তু গণপতির বাহন তার দলবল-পরিবার-প্রতিবেশী নিয়ে জাঁকিয়ে বসেছে সেই বাড়িতেই। শুধু কি তা-ই? সোফা কেটেছে, তাতে সেঁধিয়ে বাসাও বানিয়ে ফেলেছে। সেই বাসায় তাদের ছানাপোনা পর্যন্ত হয়েছে। মেয়রমশাই আর কী করেন। বিষ দিয়ে মেরে ফেলার কথা তিনি ভাবছেনই না। তিনি আর তাঁর অফিসারেরা এখন বিকল্প রাস্তা খুঁজছেন হন্যে হয়ে। আর সেই ফাঁকে ইঁদুরেরাও রসে-বশে রয়েছে মেয়র-গৃহে।

তবে শুধু ফিরহাদের ঘরেই নয়, ছুঁচো বা ইঁদুরের উৎপাত কলকাতায় গত কয়েক বছর ধরে বেড়েছে। আর তার অন্যতম মূল কারণও চিহ্নিত করেছেন ফিরহাদ। তাঁর কথায়, ‘রাস্তায় খাবার ফেললে ইঁদুরের উপদ্রব আটকানো যাবে না। রাস্তায় খাবার সহজলভ্য হলে ইঁদুরও বেড়ে যাবে।’ ঘটনা হলো, চেতলায় মেয়রের বাড়ির কয়েকশো গজের মধ্যেই একটি জনপ্রিয় মিষ্টির দোকান রয়েছে।

অভিযোগ, সেই দোকান থেকে মিষ্টির অবশিষ্টাংশ, রস ইত্যাদি রাস্তায় ফেলা হয়। আর সেখান থেকেই পায়ে-পায়ে ইঁদুরের দল মেয়রের বাড়ি-সহ তাঁর পাড়া চেতলার অলিগলিতে অনুপ্রবেশ করেছে। এই ক’দিন আগে ঢাকুরিয়া ব্রিজের নীচ, তার আশপাশের পাড়ায় ইঁদুরের উপদ্রব সামলাতে নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল কলকাতা পুরসভার।

এমনকী ঢাকুরিয়া ব্রিজের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতুর ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তুলেছিল সেই সব ইঁদুর। কোনওমতে সেই সমস্যা আপাতত সামলানো গিয়েছে। এমন সমস্যা কলকাতার আনাকে-কানাচে রয়েছে। কিন্তু একেবারে খাস মেয়র-মহলে হামলার পরে বিষয়টি নিঃসন্দেহে অন্য মাত্রা নিয়েছে।

Land Dispute : জমি-জটের সংস্কার সেই স্বপ্নই ঢাকুরিয়া বাজারে
কলকাতা পুরসভার সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইঁদুরের উপদ্রবে শহরের একাধিক রাস্তারও ক্ষতি হয়েছে। এক পুর আধিকারিকের কথায়, ‘সেঁকো বিষ ঢেলে তো আর ইঁদুর মারতে পারব না! পশুপ্রেমী, পরিবেশকর্মীরাও তাতে আপত্তি করবেন। অগত্যা বিকল্প রাস্তা খুঁজতে হচ্ছে।’ ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে একাধিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শও চেয়েছে পুরসভা।

মেয়রের দাবিকে সমর্থন করে তাঁরাও পুরসভাকে জানিয়েছেন, কলকাতার রাস্তার পাশে যত্রতত্র খাবার পড়ে থাকাই ইঁদুরের বাড়বাড়ন্তের জন্য দায়ী। অজস্র স্ট্রিট ফুডের দোকান রয়েছে শহরে। উচ্ছিষ্টের পরিমাণও বিপুল। সে সব খাবার ইঁদুরদের পুষ্ট করতে যথেষ্ট। তাই মেয়রও বলছেন, ‘ইঁদুরের সমস্যা থেকে শহরকে বাঁচাতে সমস্ত খাবারের দোকানদারকে প্রথমে নোটিস দিয়ে জানানো হবে যে, রাস্তায় খাবার ও উচ্ছিষ্ট ফেলা যাবে না। এতে সতর্ক না হলে কড়া ব্যবস্থা।’

ইঁদুর হুইস্কি খায়? থানা থেকে ৬০ বোতল সুরা হাপিশ ঘিরে তোলপাড়
তবে নিজের ঘরে ইঁদুরের তাণ্ডব দেখে কলকাতা থেকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার দূরে জার্মানির এক ছোট্ট শহরের কথা কি মেয়র ফিরহাদের মনে পড়ছে না? হ্যামলিনের সেই বাঁশিওয়ালার মতো কেউ যদি এসে সব ইঁদুর নিয়ে আদি গঙ্গায় ফেলে দিত?
নাহ, গল্প হলেও তা সবসময়ে সত্যি হয় না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *