Bankura Kali Puja : কালীপুজোতেই মা দুর্গার বোধন! কেন এমন রীতি রক্ষিত বাড়ির পুজোয়? – durga puja celebrated during kali puja time in a family at bankura


গোটা বাংলা মেতে উঠেছে শ্যামা মায়ের আরাধনায়। কিন্তু, মা কালীর পুজোর দিনেই দুর্গা মায়ের পুজো! হ্যাঁ, এরকমটাই হয় বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের রক্ষিত পরিবারে। শুনতে অবাক লাগলেও, এই রীতি পালন হয়ে আসছে রক্ষিত বাড়ির পুজোয়।

কী জানা যাচ্ছে?

যেন ‘অকাল বোধনে’র অকাল বোধন। চারদিকে যখন আদ্যা শক্তির আরাধনা আর আলোর উৎসবে মেতেছেন মানুষ। ঠিক তখনই প্রায় এক প্রকার নিঃশব্দেই দেবী দুর্গার আরাধনায় মত্ত বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের পাটরাপাড়া-বোলতলার রক্ষিত পরিবার।

দেবী দুর্গার বোধন

প্রায় দু’শো বছরেরও বেশি সময় আগে কার্তিক মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অমাবস্যা তিথিতে কালী পুজোর দিন এখানে শুরু হয় দেবী দুর্গার বোধন। মা এখানে অসুরদলনী নন, নন সিংহবাহিনীও। এই সময় এখানে তিনি ঘরের মেয়ে উমা। লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ আর শিব সহ দুর্গা সপরিবারে পূজিতা হন এই রক্ষিত পরিবারে। শারদীয়া দুর্গোৎসবের মতোই এই সময় এখানে টানা চার দিন পুজো হয়। শুরুর দিন চাল কুমড়ো বলি প্রথাও চালু এখানে।

পুজোর ইতিহাস কী?

ব্যতিক্রমী এই পুজো শুরুর ইতিহাসের সন্ধান করতে গিয়ে রক্ষিত পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দু’শো বছর আগে তাঁদের বংশের কোন এক সদস্যাকে দেবী দুর্গা স্বপ্নাদেশ দেন। যেখানে দেবী দুর্গা, শিব সহ লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের মূর্তি তৈরি করে পুজোর নির্দেশ পান। যেহেতু তিনি কালী পুজোর আগে স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন, সেকারণে কালী পুজোর দিন থেকেই চার দিনের এই দুর্গোৎসবের সূচনা হয়।

মেতে ওঠেন পরিবারের সকলে

এই পুজোতে খুশি বাড়ির সবাই। এই সময় বাড়ির মেয়েরা পুজো কাটাতে বাড়ি ফেরেন৷ শ্বশুর বাড়িতে সবার সঙ্গে শারদোৎসবের দিন গুলি আনন্দে কাটানোর পর বাপের বাড়িতে এসে আবারও একটা দুর্গাপুজোর আনন্দ উপভোগের সুযোগ। এযেন তাদের একটা অন্যরকম পাওনা। পুজোর দিন গুলিতে আত্মীয় স্বজন থেকে পাড়া প্রতিবেশী সকলেই হাজির হয়ে সমানভাবে আনন্দ করেন।

Kali Puja 2023 : মেয়েকে হারিয়ে দেবীকে পেলেন হাড়িরাম, ঝাড়গ্রামের কেঁউদি কালীর অপার মহিমা
পরিবারের সদস্যরা কী বলছেন?

রক্ষিত পরিবারের সদস্য রাম প্রসাদ রক্ষিত বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষদের তসর ব্যবসা ছিল। ওই কাজ করতে গিয়ে আমাদের এক পূর্ব পুরুষ অজ্ঞান হয়ে যান। ওই অজ্ঞান অবস্থায় তিনি দেবী দুর্গা স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু হয়।’ সেই প্রথা এছনো সমানে চলে আসছে। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে এই পুজো হলেও দুর্গা পুজার নিয়ম নীতি মেনেই পুজা হয়। হোম, যজ্ঞ, বলিদান, চণ্ডীপাঠ বাদ যায়না কিছুই। টানা চার দিন সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমীর পুজো শেষে সপ্তাহের শনি, রবিবার বাদ দিয়ে ঘট বিসর্জন হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *