Mukutmanipur Tourist Spot : মুকুটমণিপুরে ওয়েলকাম গেট, অম্বিকানগরে সংগ্রহশালা – a welcome gate will be constructed in mukutmanipur to welcome tourists


দুর্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া
পর্যটকদের স্বাগত জানাতে মুকুটমণিপুরে এবার তৈরি হবে ওয়েলকাম গেট। সেই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রটিকে সাজাতে আরও চারটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মুকুটমণিপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। সংস্কার হবে রাস্তা, তৈরি হবে নিকাশি নালার দেওয়াল। করা হবে টোটো চার্জিং পয়েন্ট। পাশাপাশি অম্বিকানগরে রাজা রাইচরণ ধবলদেবের স্মৃতিতে মূর্তি সমেত একটি সংগ্রহশালা গড়তেও উদ্যোগী হয়েছে অথরিটি। খাতড়ার এসডিও নেহা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মুকুটমণিপুরকে ঢেলে সাজাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাজ্যের অনুমোদন মিলেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে।’

রাজ্যের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর। জল, জঙ্গল, পাহাড়ে ঘেরা এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হাতছানি দেয় ভ্রমণপিপাসুদের। সারা বছর কমবেশি আনাগোনা তো থাকেই। শীতের মরশুমে রীতিমতো উপচে পড়ে পর্যটকদের ভিড়। বেড়ানোর পাশাপাশি শীতের মিঠে রোদে জমে ওঠে পিকনিকের আসরও। কয়েক বছর হলো ডেভেলপমেন্ট অথরিটির হাত ধরে আরও নয়নাভিরাম হয়ে উঠেছে এই জায়গা। গত বছরই অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রের মতো মুকুটমণিপুরেও গড়ে তোলা হয়েছে সেলফি জোন। আর এবার তৈরি হবে ওয়েলকাম গেট।

খাতড়া-রানিবাঁধ রাজ্য সড়কের উপর দেদুয়া মোড় থেকে যাওয়া যায় মুকুটমণিপুর। ওই রাস্তাতেই মুকুটমণিপুর ঢোকার মুখে ওয়েলকাম গেটটি তৈরি হবে। এছাড়া নতুন প্রকল্পে মুকুটমণিপুর থেকে বারঘুটু গ্রাম পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার করবে ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। সেই সঙ্গে মুকুটমণিপুরে টোটো চার্জিং পয়েন্ট, নিকাশি নালার দেওয়াল তৈরির কাজও হবে। অম্বিকানগরে বিপ্লবী রাজা রাইচরণ ধবলদেবের মূর্তি সমেত সংগ্রহশালা গড়ার কথা জানিয়ে রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তথা মুকুটমণিপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান জ্যোৎস্না মান্ডি বলেন, ‘কয়েক বছরে মুকুটমণিপুরের সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। এখানে সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। পর্যটনকেন্দ্রটিকে সাজাতে আরও নানা পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যেই কয়েকটি প্রকল্পের কাজ খুব তাড়াতাড়ি শুরু হবে।’

মুকুটমণিপুর থেকে মাত্র দু’কিমি দূরে অম্বিকানগর গ্রাম। সেখানকার রাজবাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অগ্নিযুগের ইতিহাস। অম্বিকানগর রাজ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বীর যোদ্ধা রাজা রাইচরণ ধবলদেব। তিনি ছিলেন ষষ্ঠতম রাজা। পরবর্তীতে রাজপ্রাসাদের ঐশ্বর্য ও সুখভোগ ছেড়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন বিপ্লবের দুর্গম পথ। ব্রিটিশ শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার শপথ নিয়ে বিপ্লবীদের দলে নাম লিখিয়েছিলেন রাজা রাইচরণ।

তাঁর নেতৃত্বেই জঙ্গলমহলে গড়ে উঠেছিল বিপ্লবী বাহিনী। ইতিমধ্যে প্রশাসনিক উদ্যোগে অম্বিকানগরে রাজ পরিবারের প্রাচীন মন্দিরগুলির সংস্কার হয়েছে। এবার সেখানে বিপ্লবী রাজার স্মৃতিতে মূর্তি সমেত একটি সংগ্রহশালা গড়বে মুকুটমণিপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। রাজ পরিবারের বর্তমান সদস্য গৌরীশঙ্কর নারায়ণদেও বলেন, ‘ভালো উদ্যোগ। প্রচুর পর্যটক এখানে আসেন। সংগ্রহশালাটি গড়ে উঠলে রাজা রাইচরণ ও অম্বিকানগর রাজবাড়ির ইতিহাস সম্পর্কে সকলে জানতে পারবেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *