Jhargram News : পুলিশি টহলদারির পথে উদ্ধার! ৫ বছরের ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে শবর বোনদের ফিরে পেল পরিবার – two jhargram minor girls get back their family after five years good news


পুলিশের টহলদারির সময় জঙ্গলের রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল দুই নাবালিকা শবর কন্যাকে। নাম পরিচয় বলতে না পারায় তাদের ঠাঁই হয়েছিল হোমে। অবশেষে ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের প্যারালিগাল ভলেন্টিয়ার শ্যামল মিস্ত্রির হস্তক্ষেপে দুই নাবালিকা শবর কন্যা ফিরে পেল তাদের পরিবারকে।

জানা গিয়েছে, বেলপাহাড়ির প্রত্যন্ত গ্রাম মাজুগেড়িয়া। মানসিক ভারসাম্যহীন স্বামী ভাটু শবর নিখোঁজ হয়ে যান বহুদিন আগে। ৩ কন্যা সন্তান ও এক পুত্র সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম হয়ে পড়েছিল মাজুগেড়িয়া গ্রামের গৃহবধূ বুধলি শবর। তাঁর নিজস্ব বাড়ি না থাকার কারণে গ্রামের এক সহৃদয় ব্যক্তির বাড়িতে তাঁরা থাকতেন। গ্রামের এক বাসিন্দা, বুধলি দুই কন্যা শুকুরমনি ও সংক্রান্তি শবরকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিড়াকাটার এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। সেখানে তারা ভালো থাকবে ও পড়াশোনা করতে পারবে বলে জানিয়েছিল ওই সদস্য।

সেইমত ২০১৮ সালে বুধলি তাঁর দুই নাবালিকা কন্যা সন্তানকে পিড়াকাটা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু সেখানে তাদের মন না বসার কারণে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। লালগড় থানার পুলিশ পিড়াকাটা জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় টহলদারি করছিল। সেই সময় দুই বোনকে দেখতে পেয়ে পুলিশকর্মীদের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পরই গোটা বিষয়টি পরিষ্কার হয়। তারপর পুলিশ তাদেরকে আদালতে পেশ করে। আদালতের নির্দেশে ২০১৮ সাল থেকেই মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর হোমে ঠাঁই হয় তাদের। তারা সেখানেই পঠন পাঠন শুরু করেছিল। শুকুরমণি পঞ্চম ও সংক্রান্তি এখন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

Joynagar News : ‘এটা বড় ঘটনা…’, দোলুয়াখাকির পাশে দাঁড়িয়ে দাবি কামদুনির মৌসুমী-টুম্পার
এর মধ্যেই ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিনপুর ২ নম্বর ব্লকের প্যারালিগাল ভলেন্টিয়ার শ্যামল মিস্ত্রি বাড়ি বাড়ি আইনি সচেতনতার সার্ভে করছিলেন। সার্ভের কাজে মাজুগেড়িয়া গিয়ে দু’জন নাবালিকা বিদ্যাসাগর হোমের থাকার কথা জানতে পারেন। তারপরেই শ্যামল দুই নাবালিকার মা বুধলির সঙ্গে কথা বলে বিষটি সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত হন।

শ্যামলের মাধ্যমে ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের কাছে একটি মামলা রুজু করেন বুধলি। তারপর প্রায় তিন মাসের মধ্যে সমস্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে বিদ্যাসাগর হোম থেকে ওই দুই শবর কন্যাকে নিয়ে আসা হয়। শবর কন্যাকে তাদের দিদি বীরমূল শবরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বীরমূল বলেন, ‘আমরা খুব গরিব মানুষ। আমাদের নিজের বাড়ি পর্যন্ত নেই । বোনেদেরকে মানুষ করার জন্য গ্রামের এক বাসিন্দার আত্মীয়ের বাড়িতে পাাঠানো হয়েছিল। তাদের আর খোঁজ নিতে পারিনি তারা এই অবস্থায় ছিল তাও ভাবতে পারিনি। আজ তাদের কাছে ফিরে পেয়ে খুব ভালো লাগছে’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *