Uttarkashi Tunnel Rescue Operation : সুড়ঙ্গে ১৭ দিন কাটিয়ে ঘরে ফিরলেন সৌভিক-জয়দেব, বরণ করে নিলেন স্থানীয়রা – two bengali laborers detained in the uttarkashi tunnel returned home


এই সময়, পুরশুড়া: সকাল থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন সকলে- বাড়ির লোক, পাড়াপড়শি। সবাই চলে এসেছিলেন স্টেশনে। তারপর যেই আরামবাগ লোকাল থেকে তোকিপুর স্টেশনে নামলেন উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে আটক দুই বাঙালি শ্রমিক সৌভিক পাখিরা ও জয়দেব প্রামাণিক উচ্ছ্বাসের যেন বাঁধ ভাঙল। রজনীগন্ধার মালা পরিয়ে পুরশুড়ার দুই যুবককে বরণ করে নিলেন স্থানীয়রা। তারপর দু’জনে যে যার বাড়ির পথে রওনা দেন।

জয়দেবের বাড়ি পুরশুড়ার নিমডিঙিতে। স্টেশন থেকে বাড়ি না গিয়ে জয়দেবকে নিয়ে পরিবারের সকলে প্রথমে যান নিমডিঙি থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরের সোদপুরে বাবা পঞ্চাননের মন্দিরে। পুজো দেওয়ার পর বাতাসা ছড়ানো হয়। বহু মানুষ সেই বাতাসা কুড়িয়ে খান। ততক্ষণে নিমডিঙিতে জয়দেবের বাবা তাপস প্রামাণিকের চায়ের দোকানে ভিড় জমে গিয়েছে।

জয়দেব আসতেই সকলে ঘিরে ধরেন। কারও হাতে ফুল, কারও হাতে মালা, কারও হাতে আবার বাজি। সকলের সঙ্গে কথা বলে তবে ঘরে ঢোকেন জয়দেব। ছেলের ঘরে ফেরাকে কেন্দ্র করে প্রামাণিকদের বাড়িতে এ দিন হয়েছিল ভূরিভোজের আয়োজন। পাতে ছিল ভাত, ডাল, আলুভাজা, বেগুনভাজা, খাসির মাংস, পায়েস ও মিষ্টি। খাওয়াদাওয়া সেরে দুপুরে টানা ঘুম দেন জয়দেব।

একই ভাবে সৌভিক পাখিরার বাড়িতেও ছিল ভোজের আয়োজন। তার আগে এলাকার মানুষজনকে দেদার মিষ্টি বিতরণ করেন সৌভিকের বাবা। সৌভিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সুড়ঙ্গে ১৭ দিন আটকে থাকলেও তাঁরা ভয় পেয়ে যাননি। কারণ আলো, পর্যাপ্ত জল ও খাবারের ব্যবস্থা ছিল। নিয়মিত মনোবিদের কথাও তাঁদের শোনানো হতো। একই কথা জয়দেবের গলাতেও। আটকে পড়লেও কখনও ভয় পেয়ে যাননি তাঁরা।

উল্লেখ্য, সুড়ঙ্গ থেকে বের করে ৪১ জন শ্রমিককেই উত্তরাখণ্ডের হাসপাতালে দু’দিনের জন্য ডাক্তারদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তারপর একে একে সকলেই যে যাঁর বাড়ি ফিরছেন। যেমন এ দিন ফিরলেন জয়দেব-সৌভিক।

এ দিন সৌভিক পাখিরার মা লক্ষ্মী পাখিরা বলেন, ‘ছেলেকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া শিখিয়েছি। কিন্তু এ রাজ্যে কাজ নেই। বিপদ হবে জেনেও ভিন রাজ্যে কাজে পাঠিয়েছি। আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যদি এখানেই একটা চাকরির ব্যবস্থা করেন দেন, তা হলে আর বাইরে পাঠাব না।’ জয়দেবের মা তপতী প্রামাণিকও বলেন, ‘ছেলের এখানে চাকরি হয়ে গেলে খুব ভালো হয়।’

চাকরি হবে কি হবে না, তা পরের কথা। সুড়ঙ্গে আটকে পড়া জয়দেব-সৌভিক দু’জনেই বললেন, আপাতত তাঁরা যে কোম্পানির হয়ে কাজ করছিলেন, সেই কোম্পানিতেই থাকবেন। কারণ বিপদের দিনে সরকারের পাশাপাশি কোম্পানিও তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ঘরে ফেরার ট্রেনের টিকিটও কোম্পানির তরফে কেটে দেওয়া হয়েছিল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *