Hooghly Artist : আইসক্রিমের কাঠি দিয়ে পাখির ‘ঘর’! হকারির ফাঁকে অসাধ্য সাধন বলাগড়ের সুজিতের – hooghly balagarh artist making craft by using ice cream stick


নিজের বাড়ি বানাবার অর্থ নেই, পাখির বাসা বানিয়ে পেট চালান বলাগড়ের কারুশিল্পী সুজিত দেবনাথ। শৈশব থেকেই ইচ্ছা ছিল শিল্পী হওয়ার। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা বারবার তাঁর শিল্পী হওয়ার লড়াইয়ে বাধ সেধেছে। মাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে পড়াশোনায় ইতি টানতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু তাই বলে কখনও সে হাল ছাড়েনি। ইচ্ছা শক্তির জোরেই আজ তার হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পায় মরা গাছের কাঠ।

সুজিতকে নিয়ে চর্চা

আইসক্রিমের কাঠি, কাঠ ও আঠা দিয়ে একের পর এক অনবদ্য সৃষ্টি করে চলেছে হুগলির বলাগড়ের ব্যানার্জি পাড়ার বাসিন্দা সুজিত দেবনাথ। মাথায় ফলের ঝুড়ি নিয়ে রোজ সকাল হলেই বেরিয়ে পড়তে হয়। ট্রেনে হকারি করাই তাঁর পেশা। সকাল থেকে পরিশ্রমের পর দুপুরে বাড়ি ফেরা। এরপরই শীতের রোদ গায়ে মেখে বাড়ির দাওয়ায় বসে আপন মনে পাখির বাসা তৈরি করেন সুজিত।

ইট-সিমেন্টের দেওয়ালে টিনের ছাউনি দেওয়া ছোট্ট একটা বাড়িতেই সুজিতের বসবাস। সেভই ভাঙা ঘরে বসে শিল্পের ছোঁয়ায় একের পর এক শিল্প তৈরি করে চলেছেন সুজিত। নিজের বাসা বানানোর অর্থ নেই অথচ কাঠ দিয়ে পাখির বাসা বানিয়ে আনন্দ পান হুগলি বলাগড়ের বাসিন্দা এই যুবক। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কাজে প্রথাগত প্রশিক্ষণ হয়নি তাঁর। শুধুমাত্র ইচ্ছেশক্তির জোরেই আজ তাঁর হাতে প্রাণ পায় মরা গাছের কাঠ।

তাঁর এই শিল্পকলা দেখে অনেকেই বিভিন্ন জিনিস তৈরির অর্ডার দিয়ে যান। সামান্য কিছু পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সুজিতের হাতে সেজে ওঠে হাজার হাজার সৃষ্টি। হকারি করে যা উপার্জন হয় তা দিয়েই কোনরকমে সরকার চললেও সুজিতেক চাওয়া-পাওয়া সীমিত। তাঁর এই কাজ আগামী দিনে গোটা রাজ্য ছড়িয়ে পড়ুক এটাই তিনি চান।

কী বললেন এই শিল্পী?

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুজিত বলেন, ‘ছোট থেকেই আইসক্রিমের কাঠি দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতাম। এখন আইসক্রিমের কাঠি দিয়েই পাখির বাসা তৈরি করছি। হকারি করে যেটুকু সময় পাই তার ফাঁকেই এই কাজ করি। অনেকে অর্ডারও দিয়ে যান। অষ্টম শ্রেণি অবধি পড়াশোনা করেছি, কিন্তু তারপর আর পড়াশোনার সুযোগ হয়নি। তবে এই হাতের কাজ কোনওদিন কারও থেকে শিখিনি। ছোটবেলা থেকে ভাল লাগত তাই করতাম। এখন সেটাই আরও ভালভাবে করি।’

সুজিতের এই কাজে খুশি এলাকাবাসীরাও। তাঁর প্রতিবেশী সন্দীপ নন্দী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই সুজিতকে দেখি সুন্দর সুন্দর বিভিন্ন হাতের কাজ করতে। এখনও সে সমান তালে সেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের বলাগড়বাসীর কাছে গর্বের। ওঁর কাজ আগামী দিনে স্বীকৃতি পাক, এটাই চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা অমিত রায় বলেন, ‘আমরা সুজিতের শিল্পকর্মের কথা লোকমুখেই শুনেছি। অনেকের কাছে ছবিও দেখছি। শুনেছি ছেলেটা সকাল থেকে হকারি করে। তারপর ফাঁকা সময়ে নানা ধরনের শিল্প তৈরি করে। মরা কাঠ দিয়ে পাখির বাসা তৈরি করে। এমন প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। খুবই ভাল লাগছে এটা দেখে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *