COVID Rules : নিয়মের গেরো, শেষ ইচ্ছা পূরণ হলো না করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের – beadon street 90 years old man lost life infected in corona


এই সময়: মৃত্যুর পরে তাঁর দেহ সৎকার যেন হয় নিমতলাতেই, পরিবারের কাছে এমন ইচ্ছের কথা আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন বিডন স্ট্রিটের বাসিন্দা জগন্নাথ বন্দ্যোপাধ‌্যায় (৯০)। রবিবার সকালে শহরের একটি নার্সিংহোমে মৃত্যু হয় করোনা আক্রান্ত ওই বৃদ্ধের। এরপর দেহ কলকাতা পুরসভার হাতে তুলে দেয় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ম মেনে করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের দেহ সৎকার করা হয় ধাপায়।

পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন পুরসভার কর্মীরা। করোনার প্রবল বাড়বাড়ন্তের সময়ে সংক্রমণ ঠেকাতে এমনই নিয়ম জারি করেছিল স্বাস্থ্য ভবন। সেই সংক্রমণ কমে যাওয়ায় রাজ্যের সব পুরসভা নিয়ম বদল করে দিয়েছে। কিন্তু কলকাতা পুর এলাকায় আগের নিয়মই রয়ে গিয়েছে। আর তার গেরোতেই করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ সৎকার নিয়ে সোমবার দিনভর টানাপোড়েন চলল শহরে।

আগের চালু করা নিয়ম নিয়েই আপত্তি তোলেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের প্রশ্ন, ‘শহরে এখন করোনার সংক্রমণ নেই বললেই চলে। এরপরেও কেন আগের নিয়ম জারি থাকবে?’ যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তাঁদের বোঝানোর পরে রাতে ধাপাতেই হয় সৎকার। আগের নিয়ম সামান্য বদলে দেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সেখানে হাজির ছিলেন।

পরে মৃত ব্যক্তির অস্থি নিমতলায় গঙ্গায় ভাসিয়ে দেন বাড়ির লোকেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, করোনায় কারও মৃত্যু হলে তাঁর দেহ সৎকার নিয়ে সরকারি নিয়মে এখনও কোনও বদল হয়নি। সে কারণেই নিয়ম মেনে যা করার সেটাই করা হয়েছে।

এদিকে, এখন করোনার প্রকোপ অনেকটা কমে যাওয়ার এতদিন পরেও এই নিয়ম জারি থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন চিকিৎসকদের একাংশ। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্তার বক্তব্য, ‘শহরে করোনায় কারও মৃত্যু হলে ধাপা-সহ তিনটি শ্মশানকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয় স্বাস্থ্য ভবনের তরফে। স্বাস্থ‌্যভবন থেকে নতুন নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত পুরোনো নিয়ম বদল করা সম্ভব নয়।’

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ‌্য অধিকর্তা সিদ্ধার্থ নিয়োগী জানিয়েছেন,‘রবিবারের ঘটনাটি শুনেছি। করোনার সময়ে জারি করা নিয়ম বদলের জন‌্য রাজ্যের সব পুরসভার মতো কলকাতাকেও আবেদন করতে হবে। তাহলেই ওই পুরোনো নিয়ম পাল্টে দেওয়ার কথা ভাবা হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *