Supreme Court : বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নজিরবিহীন নির্দেশ, শনিতে সুপ্রিম কোর্টের শুনানির দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ – supreme court hearing on calcutta high court justice conflict creates landmark in indian law history


অমিত চক্রবর্তী

গত দু’দিন ধরে কলকাতা হাইকোর্টে ঘটে যাওয়া ‘নজিরবিহীন’ এবং ‘অনভিপ্রেত’ ঘটনা নাড়া দিয়েছে গোটা দেশকে। শনিবার ছুটির দিনে সুপ্রিম কোর্টের ৫ বিচারপতির বেঞ্চ বসানোর সিদ্ধান্তে তা প্রমাণিত। সুপ্রিম কোর্টের এই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণের জরুরি পদক্ষেপ থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে নানা জল্পনা। তৈরি হয়েছে নানারকম প্রশ্ন। কিন্তু ঘটনা এতটাই স্পর্শকাতর যে আইনজীবীরাও কিছু বলতে গেলে দু’বার ভাবছেন।

শনিবার সকাল সাড়ে দশটার এই বেঞ্চ-এর মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কতটা সিরিয়াস তা প্রমাণিত রাতেই জারি করা আরও একটি বিজ্ঞপ্তিতে। যেখানে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার আইনজীবীদের কাছে আশা প্রকাশ করেছে, কোনও পক্ষই শুনানি স্থগিত করার জন্য অনুরোধ করবে না। আইনজীবীদের ব্যাখ্যা, শনিবার সুপ্রিম কোর্ট কিছু না কিছু নির্দেশ দিতে চায় এই মামলায়। তা নিশ্চিত করতেই আশা প্রকাশের মোড়কে আসলে সব পক্ষকে সতর্কতা দেশের শীর্ষ আদালতের।

তাঁদের মতে, জুডিশিয়াল ডিসিপ্লিন ভাঙার অভিযোগ বা জুডিশিয়াল ডেকোরাম না মানার অভিযোগ অথবা সিনিয়র বিচারপতির বিরুদ্ধে জুনিয়র বিচারপতির অনাস্থার অভিযোগ অতীতে হয়তো এসেছে। কিন্তু কখনোই সেগুলি একসঙ্গে হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টে গত দু’দিনে যা ঘটেছে তা এই সব কিছুর সমাহার। রসিকতার ছলে অনেকে বলছেন, ‘হরেক খারাপ ফুলের তৈরি একটি বোকে’। এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট-এর ৫ বিচারপতির বেঞ্চ বসানোটাকেই ঘটনার গুরুত্ব কতটা তা বোঝানোর চেষ্টা করছেন বর্ষিয়ান আইনজীবীরা। তাঁদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের ২ বিচারপতির রেগুলার বেঞ্চে এর বিচার করা যেত। অথবা তিন বিচারপতির লার্জার বেঞ্চ। কিন্তু সাংবিধানিক বিষয় ঘটনার মধ্যে যুক্ত হয়ে গিয়েছে তার ফলেই এই পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বসানো হয়েছে।

কেন সাংবিধানিক বেঞ্চ?

আইনজীবীদের বক্তব্য, কে সিবিআই তদন্ত দিয়েছেন বা সেই তদন্ত ডিভিশন বেঞ্চ স্টে করতে গিয়ে আইন মেনেছে কিনা, সেখানে লিখিত আবেদন ছিল কিনা, না থাকার পরেও স্থগিতাদেশ দেওয়া কতটা আইনি বা বেআইনি, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার নিশ্চয়ই অবকাশ রয়েছে। কোর্ট অফ রেকর্ড হিসেবে হাইকোর্টের জরুরি পরিস্থিতি দেখিয়ে ক্ষমতা প্রয়োগের এক্ষেত্রে প্রয়োজন ছিল কি না, তাই নিয়েও কাটাছেঁড়া করার জায়গা রয়েছে। কিন্তু তার থেকেও বড় বিষয়, একটি বিচারবিভাগীয় নির্দেশের মধ্যে সিনিয়র বিচারপতি সম্পর্কে বিস্ফোরক কিছু অভিযোগ লিখছেন। এর নজির ইতিহাসে নেই। আর সেই বিস্ফোরক অভিযোগকেই তার নির্দেশ না মানার কারণ হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। এটাও ভয়ংকর প্রবণতা। যা গোটা দেশের কাছে বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে একটা খারাপ বার্তা যাওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

আইনজীবীদের প্রশ্ন, আপনার যদি আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকে তাহলে আপনি অভিযোগ জানানোর পর তার বিচারও কি আপনি করতে পারেন? তাঁদেরই জবাব, না। একজন বিচারপতি অন্য এক বিচারপতি সম্পর্কে ভয়ংকর কিছু অভিযোগ আনলেন। তারপরে তিনি তার বিচার করে জানিয়ে দিলেন, তার রায় রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য, সে কারণেই সেই রায় তিনি মানবেন না। কিন্তু সেটা না করে সিঙ্গেল বেঞ্চ যদি অভিযোগ তুলে কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছে গোটা বিষয়টা বিচার করার জন্য প্রধান বিচারপতি কাছে পাঠিয়ে দিতেন, সেক্ষেত্রে জুডিশিয়াল সিস্টেমকে মান্যতা দিয়েও একটা ভালো ইমেজ জনমানসে রাখা যেত।

Supreme Court : কলকাতা হাইকোর্টের দুই বিচারপতির নজিরবিহীন সংঘাত, স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের
কী করতে পারে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ?

আইনজীবীরা বলছেন, অনেক কিছুই হতে পারে। তবে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ের দুটি অংশ আছে। একটি অংশ ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ না মানা প্রসঙ্গ এবং ফের সিবিআই তদন্তের পক্ষেই নিজের রায় ঘোষণা আর দ্বিতীয় অংশটি একজন সিনিয়র বিচারপতি সম্পর্কে কিছু অভিযোগ। ফলে সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় প্রাথমিকভাবে স্থগিত হতে পারে এবং মামলা জারি থাকতে পারে। আবার তাঁর তোলা অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনিকভাবে অনুসন্ধান কমিটি করতে পারে। যে কমিটির সামনে সিঙ্গেল বেঞ্চ এবং ডিভিশন বেঞ্চের সিনিয়র জাজ ও তৃতীয় যে বিচারপতির নাম আনা হয়েছে- তাঁকেও কমিটির মুখোমুখি হতে বলা সম্ভব। যে চেম্বারে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইতে পারে কমিটি। আরো অনেকের সঙ্গে অনুসন্ধান কমিটি কথা বলতে পারে। আবার সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ সরাসরি খারিজ করতে পারে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ। একই সঙ্গে জুডিশিয়াল ডেকোরাম ও সিস্টেম ভাঙার হয়েছে কিনা এই প্রসঙ্গেও কিছু মন্তব্য করতে পারে বেঞ্চ। বহু আগে ডিসিপ্লিন ভাঙা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় রয়েছে। এক্ষেত্রে সেই রায়কে ধরেই এগোতে পারে ৫ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *