Rahul Gandhi : ‘গা..!’ রাহুলকে শুভেন্দুর সম্বোধন শালীন? – congress files police complaint against bjp leader suvendu adhikari for derogatory remarks on rahul gandhi


এই সময়: রাহুল গান্ধীকে ‘গান্ডু’ বলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেন শুভেন্দু অধিকারী। শব্দটি বাংলা অভিধানে নেই। গাল বা কপোল অর্থে রয়েছে ‘গণ্ড’। বালিশ অর্থে রয়েছে ‘গণ্ডু’ও। কিন্তু শুভেন্দু যে শব্দ ব্যবহার করেছেন, সেটা নেই। আর কাউকে এ ভাবে প্রকাশ্যে ‘গান্ডু’ বলা যায় কি না, তা নিয়েও বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

ইন্ডিয়া জোটে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের আপত্তি থাকলেও শুভেন্দুর আচরণের তীব্র নিন্দা করে রাহুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ জোড়াফুল শিবিরের নেতারা। রাহুলকে ‘গান্ডু’ বলায় শুভেন্দুর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে কংগ্রেস। দলের তরফে সুমন রায়চৌধুরী আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় কমপ্লেন্ট জানান। সমালোচনায় সরব বামেরাও। যদিও শুভেন্দুর দাবি, ‘গান্ডু’ মোটেই অসংসদীয় শব্দ নয়। বরং একটি চলতি শব্দ।

বিতর্কের সূত্রপাত কী ভাবে?

রাহুলের ‘ভারত জোড়ো ন্যায়যাত্রা’ পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছে রবিবার। সে দিনই এ সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তরে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু বলেন, ‘গত চারদিন ধরে রাহুল গান্ধী, রাহুল গান্ধী করে যাচ্ছেন। কে হরিদাস পাল! একটা গান্ডু। বলছে স্টোভের উপর কয়লা দিয়ে সকালবেলা চা তৈরি হয়, কয়েক দিন আগে আসামে বলেছে।… যাঁর এই সেন্স, তাঁকে কাউন্ট কেন করেন?’ ভিডিয়োটি ব্যাপক ভাবে ভাইরাল হয়।

বেশ ক’বছর আগে ‘চুদুর বুদুর’ শব্দটি অশালীন কি না, তা নিয়ে প্রবল বিতর্ক বেধেছিল। বাংলাদেশের সংসদে এ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন একজন সাংসদ। কিন্তু তার সঙ্গে ‘গান্ডু’ বলে রাহুলকে আক্রমণ করার সাযুজ্য নেই বলে মনে করছেন বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের অধ্যাপক, বাংলা স্ল্যাং নিয়ে গবেষণা করা অভ্র বসু। তাঁর কথায়, ‘গান্ডু-র প্রয়োগ একেবারেই শালীন অনুষঙ্গ বহন করে না। চুদুর বুদুর শব্দটি নিয়ে যে আলোড়ন হয়েছিল, এটি তার সঙ্গেও তুলনীয় নয়। কারণ কোনও কোনও উপভাষায় চুদুর বুদুর একটি স্বীকৃত শব্দ, তাতে অশালীন কোনও ইঙ্গিত স্পষ্ট করে নেই। গান্ডু শব্দটি কিন্তু অশালীন।’

অভ্র বলেন, ‘শুভেন্দু যে শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তা অত্যন্ত খারাপ গালাগালি বলেই বাংলায় গণ্য করা হয়। বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি কতটা তলানিতে ঠেকেছে, এটা তার উৎকৃষ্ট নিদর্শন।’ রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও বলেন, ‘শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ হলেও বাংলার সমৃদ্ধ মূল্যবোধ ও নীতিবোধ সম্পর্কে ওঁর শিক্ষা নেই।’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যেপাধ্যায়ের উক্তি, ‘রাহুলকে শুভেন্দুর মন্তব্য তাঁর রুচির পরিচয়। যে মেদিনীপুর জেলা থেকে বিদ্যাসাগর, ক্ষুদিরাম, সতীশ সামন্তের মতো মানুষ এসেছেন, সেই জেলার সংস্কৃতিকে কলুষিত করলেন।’

বাংলায় অশ্লীল গালাগালের ক্ষেত্রে ‘গান্ডু’-র অন্তর্ভুক্তি সম্ভবত হিন্দি থেকে। বাংলায় তা লেখা হয় ‘ন’ দিয়ে, হিন্দিতে সেটা ‘ণ’। হিন্দিতে এটি খুব খারাপ ধরনের গালাগাল। হিন্দিভাষীদের একাংশের বক্তব্য, প্যাসিভ সমকামী পুরুষকে বর্ণনা করতে এর উৎপত্তি। বাংলায় অবশ্য ‘গান্ডু’ বলতে সাধারণত বোকা লোক বা নির্বোধ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।

তামিল শব্দ ‘গুন্ডু’ অনেক সময়েই প্রয়োগ করা হয় ইংরেজিতে ‘ইডিয়ট’ অর্থে। বাংলায় ‘গান্ডু’ আর তামিল ‘গুন্ডু’র মানে এক। সে দিক থেকে হিন্দি ‘গাণ্ডু’ বাংলায় ‘গান্ডু’ হওয়ায় তার অর্থোন্নতি হয়েছে। যদিও তা কোনও অর্থেই শালীন শব্দ নয়। অশালীন শব্দ হিসেবেই বাংলা ভাষা ও সমাজে এখনও পর্যন্ত তাকে গণ্য করা হয়।

রাহুলকে বিজেপি বহুদিন ধরে ‘পাপ্পু’ বলে কটাক্ষ করে। কিন্তু শুভেন্দুর রবিবারের আক্রমণ শালীনতার সব সীমা ছাড়িয়েছে বলে মনে করছে সব মহলই। প্রবীণ ভাষাবিদ পবিত্র সরকারের বক্তব্য, ‘হিন্দিতে পশ্চাৎদেশের অশালীন প্রতিশব্দ গাঁড় থেকে গান্ডু শব্দ এসেছে। পার্লামেন্টে সংসদীয় শব্দের কোনও তালিকা রয়েছে কি না আমরা জানা নেই। তবে পশ্চাৎদেশের সঙ্গে যে শব্দ জড়িত, তা যদি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেটা অবশ্যই অভদ্রতা। রাহুলের সম্পর্কে এই শব্দ ব্যবহার অনুচিত।’

এক দশকেরও বেশি সময় আগে ‘গান্ডু’ নামে একটি ফিল্ম রিলিজ় করে। সাহসী ছবিতে প্রোটাগনিস্টের নামই ছিল সেটা। যে কারণে এই বিতর্কে সোমবার ফিল্মটির পরিচালক কিউ বলেন, ‘ছবিতে মূল চরিত্রের নামই ছিল গান্ডু। কারও নাম গান্ডু হলে কিছু বলার নেই। কিন্তু বিশেষণ অর্থে যদি কাউকে গান্ডু বলা হয়, তা অপমানজনক। গান্ডুর অর্থ মোটেই নেহাত বোকা নয়। কারণ বোকা বোঝাতে একটি চালু গালাগাল রয়েছে।’

‘কোনও অসংসদীয় শব্দ বলিনি,’ রাহুলকে কুরুচিকর মন্তব্যের সাফাই শুভেন্দুর
ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ‘গান্ডু’ নাম জুড়ে বেশ ক’টি পেজ রয়েছে। যার কনটেন্ট মূলত চটুল রসিকতা-কেন্দ্রিক। কোনও সিরিয়াস পরিসরে, শালীন আলোচনায় এ শব্দ ব্যবহারের নজির তেমন নেই। সিঙ্গাপুরেও স্থানীয় কথাবার্তায় বোকা অর্থে ‘গুন্ডু’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। আরও দূরে গেলে অবশ্য শব্দটির অন্যান্য মানে খুঁজে পাওয়া যাবে। যেমন ব্রাজিলের একটি শহর রয়েছে এ নামে।

পশ্চিম আফ্রিকায় এটি এক ধরনের পারিবারিক চুক্তি বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এ সবে তো বিতর্ক থামবে না। এত সুদূরপ্রসারী অর্থে তাকে ব্যবহারও করা হয়নি। চতুর্দিকে সমালোচনার মুখে পড়ে শুভেন্দুর প্রশ্ন, ‘আমি কী অসংসদীয় কথা বলেছি? আমি বোকা বলেছি, ক্ষতি কী করেছি?’ এই সূত্রে ফের স্টোভের উপরে কয়লা দিয়ে চা করার কথা টেনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘এটা কি বুদ্ধিমানের কথা? বাস্তবসম্মত কথা? নাকি বোকাদের কথা? কোনও অশালীন শব্দ ব্যবহার করিনি। পশ্চিমবঙ্গে বোকাদের চলতি ভাষায় যা বলা হয়, সেই শব্দ ব্যবহার করেছি। এর মধ্যে কোনও ব্যক্তিগত আক্রমণ নেই।’

‘প্রধানমন্ত্রীকে নরেন্দ্র বলে ডাকি?’ রাহুলকে গালিগালাজ করায় শুভেন্দুকে নিশানা অভিষেকের
তিনি এই যুক্তি খাড়া করলেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিনহার কথায়, ‘বাংলা অভিধানে গান্ডু শব্দ নেই। এই শব্দ যে অর্থে ব্যবহার করা হয়, তা সামাজিক পরিসরে জোর গলায় বলা যায় না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশে যিনিই এই শব্দ ব্যবহার করুন, এতে তাঁর অপরাধপ্রবণতার মনোভাব বেশি প্রকাশ পায়।’

বলিউডে জনি লিভার-অমরীশ পুরী অভিনীত একটি ছবিতে মিস্টার নান্ডু নামে এক ব্যক্তি দেখা করতে যান গৃহকর্তার সঙ্গে। গৃহকর্তার শ্যালক কানে কম শোনেন। তিনি শুনেছেন, আগন্তুকের নাম মিস্টার গান্ডু। চোখ কপালে তুলে শ্যালক আনখশির জরিপ করলেন আগন্তুককে। এবং তাঁর স্বগতোক্তি, ‘কই, চেহারা দেখে তো বোঝা যাচ্ছে না যে, ইনি…!’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *