ICDS : ‘দিদি, একবার শুনুন!’ বঞ্চনার অভিযোগে চিৎকার আশা কর্মীদের, বাধা পুলিশের – asha icds workers failed to tell their demand to cm mamata banerjee at hooghly public meeting


সরকারি প্রদান অনুষ্ঠানে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক যোজন দূরে। দিদিকে হাতের নাগালে পেয়েও নিজেদের দাবি জানাতে পারল না আশা কর্মীরা। আশা কর্মীদের ‘বঞ্চনা’ নিয়ে একাধিক অভিযোগ থাকলেও আশাহত হলেন তাঁরা। অনেকেই বলছেন, ‘দিদি যদি একবার আমাদের কথা শুনত!’

আরামবাগে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক সেই সময় কয়েকজন আশা কর্মী উঠে তাঁদের দাবি জানাতে চেষ্টা করেন। খানাকুল ব্লকের একাধিক আশা কর্মী উঠে দাঁড়িয়ে তাঁদের বঞ্চনার কথা জানাতে যাচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। কিন্তু সেই প্রতিবাদকে এক মুহুর্তে স্তব্ধ করে দিল পুলিশ।

তাঁদের দাবি ছিল, লক্ষীর ভাণ্ডার থেকে সিভিক ভলেন্টিয়ার সকলেই আর্থিকভাবে সহযোগিতা পেল এই বাজেটে। কিন্তু স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত নিচু স্তরের আশা কর্মীরা কিছুই পেলেন না মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তাই হাতের নাগালে মুখ্যমন্ত্রীকে পেয়ে দাবি জানাবার চেষ্টা করেন। বলতে ওঠার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তাঁদের বসিয়ে দিল পুলিশ।

যদিও তৃণমূলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্পে সকলেই লাভবান হয়েছেন। কেন্দ্র আইসিডিএস প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। তা সত্বেও এই প্রকল্প চলেছে। আগামী দিনে তাঁরা উপকৃত হবেন। অন্যদিকে, সভাস্থলে থেকে ক্ষোভের সুরে খানকুলের 2 নম্বরের আশা কর্মী নিতু সামন্তরা বলেন, ‘আমরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে এত পরিষেবা দিয়ে থাকি। আমরা কিছু পেলাম না। লক্ষী ভাণ্ডারে টাকা বাড়ল কিন্তু আমাদের কিছু পেলাম না।’ ধনেখালি ব্লকে আশাকর্মী শুভ্রা পান জানান, সবাই যেমন আশা করেছে, তাঁরা পেয়েছে আমরাও আশা করতে পারি। বর্তমানে আমরা সাড়ে চার হাজার টাকা ভাতা পাই। সেই ভাতা বৃদ্ধির আশায় এসেছিলাম। যদি আমাদের কিছু টাকাও বাড়ে কিছুই বললেন না।

ICDS West Bengal : বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ ধর্মতলায়, কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি আইসিডিএস কর্মীদের
অন্যদিকে, বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও পুড়শুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, ‘আশা কর্মী, আই সি ডি এসের কর্মীদের বেতন বাড়াবে না। যতই আশাকর্মীরা আন্দোলন করুক। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আন্দোলনের করেও লাভ নেই। উনি রাজনীতির জন্য এসব করছেন।’ পালটা, তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ‘এই আইসিডিএস ও আশা কর্মী প্রকল্পটা কেন্দ্র সরকারের প্রকল্প। 2009 সালে যখন এই প্রকল্পের শুরু হয়, কেন্দ্র সরকার 800 টাকা ভাতা দিত। মুখ্যমন্ত্রী ধীরে ধীরে আশা কর্মীদের সাড়ে চার হাজার টাকা ভাতা বাড়িয়েছেন।’ তাঁদের বক্তব্য, ভ্যাকসিনেশন করা ,পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া, অ্যাম্বুল্যান্স করে নিয়ে গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে পৌঁছনো নিয়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা তাঁরা বর্তমানে পান। এই প্রজেক্ট তুলে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। আগে 90 শতাংশ ভাতা তাদের জন্য এখন সেটা 10 শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। তারপরে আশা কর্মীদের কোন টাকায় দিচ্ছেন না। কেন্দ্র সরকার এখানে বঞ্চিত কেউ না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *