নির্বাচনে ইভিএম-এ কারচুপি হতে পারে বলে অতীতেও আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার চতুর্থ দফার নির্বাচনে কৃষ্ণনগর কেন্দ্র নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুললেন তিনি। কল্যাণীর সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কৃষ্ণনগরে ইভিএম খুলেছে, দেখা যাচ্ছে তৃণমূলে ভোট দিচ্ছে, ভোটটা চলে যাচ্ছে বিজেপিতে। সঙ্গে সঙ্গে রুখে দাঁড়ান হয়েছে। আটকানো হয়েছে, মেশিন বদলানো হয়েছে। এরা (বিজেপি) যে কী করতে পারে, কল্পনা করতে পারবেন না। এরা জানে হারছে। তাই ইভিএম যেখানে থাকবে, সেখানে যাতে কোনওরকমভাবে আলো বন্ধ করতে না পারে, যাতে মেশিন বদলাতে না পারে, সেটা দেখা যেমন আয়োজকদের দায়িত্ব, তেমনই পুলিশেরও দায়িত্ব। মানুষ ভোট দেবে, সেই ভোটটা যেন সযত্নে রক্ষা হয়।’এদিন ভোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও মুখ খোলেন মমতা। এমনকী নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল কী হতে পারে, তারও ইঙ্গিত দিয়ে দেন তৃণমূল নেত্রী। মমতা বলেন, ‘আগেরবার আমরা জানতাম মোদী আসছেন, তার আগেরবারেও একটা আঁচ করেছিলাম মোদীবাবু আসছেন। এবার যদি জিজ্ঞাসা করেন, কোনও খবর আছে? আমি বলব হ্যাঁ খবর আছে। এবার হাওয়া বদল হচ্ছে। চতুর্থ দফা হয়ে গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত যা খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে ১৯৫ থেকে ২০০-র মধ্যে থাকতে পারে বিজেপি। আর ইন্ডিয়া জোট পাবে ২৯৫ থেকে ৩১৫। বলে বেড়াচ্ছে এবার ৪০০ পার, আমি বলি এবার পগারপার।’
কৃষ্ণনগরে ইভিএম খুলেছে, দেখা যাচ্ছে তৃণমূলে ভোট দিচ্ছে, ভোটটা চলে যাচ্ছে বিজেপিতে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সন্দেশখালি প্রসঙ্গে এদিনের সভা থেকে মমতা বলেন, ‘সিপিএম-এর হার্মাদগুলোই এখন বিজেপির ওস্তাদ। ওরা জানে না মা-বোনেদের টাকা দেওয়াটা বড় কথা নয়, মা বোনেদের অসম্মান করাটা বড় কথা। মা-বোনেদের না জানিয়ে তাদের দিয়ে যা তা লিখিয়ে নিয়েছ। তারা বলছে, আমাদের নামে লেখা হয়েছে, আমাদের বলেছে অন্য কথা।’ এক্ষেত্রে শুধু স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি নয়, যাঁরা মদত দিয়েছেন তাদেরও কার্যত শাস্তি দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ‘গ্যারান্টি’ নিয়েও এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেন মমতা।
Mamata Banerjee Election Campaign : ‘মহুয়াকে নিয়ে ওদের খুব জ্বালা’ বিজেপিকে কটাক্ষ মমতার
অন্যদিকে এদিন নাম না করে বনগাঁর বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে টাকা তোলার অভিযোগেও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা প্রশ্ন তোলেন, ‘৫ বছর তো মন্ত্রী ছিলে, কী করেছ? বড়মার ঘরটা তালাও দিয়ে দিয়েছ! বড়মার ঘরটা তালা দিয়েছে কেন? ওটাও বিক্রি করবে নাকি?’ একইসঙ্গে সিএএ প্রসঙ্গ তুলে শান্তনুর নাম না করে মমতার অভিযোগ, নাগরিকত্ব দেবে বলে কোথাও কোথাও তুলেছেন তিনি। এদিন মমতার সাফ কথা, কোনও মতুয়ার গায়ে হাত তিনি দিতে দেবেন না।