Anwarul Azim Anar Case : সেক্সটরশন প্ল্য়ান ফেল! তাই মার্ডার, আজই কলকাতায় বাংলাদেশের গোয়েন্দারা – bangladeshi detectives went to kolkata today for investigate mp anwarul azim anar case


বন্ধ ঘরে একপ্রস্ত ধস্তাধস্তির পরে ক্লোরোফর্ম মাখানো বালিশ চেপে ধরা হয় মুখে। তার জেরে অজ্ঞান হয়ে পড়েন সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার। সে অবস্থাতেই তাঁর জামা কাপড় খুলিয়ে মূল অভিযুক্ত আখতারজ্জামানের বান্ধবী শিলাস্তি রহমানকে পাশে রেখে তোলা হয় ন্যুড ভিডিয়ো। পরিকল্পনা ছিল, সেই ছবি দেখিয়ে দু’দিন ধরে আদায় করা হবে মোটা অঙ্কের টাকা।যেভাবে ভারত সহ বিভিন্ন দেশে চলে সেক্সটরশন র‍্যাকেট। ব্ল্যাকমেল করে আদায় করা টাকা হুন্ডির মাধ্যমে চলে এলেই ঘরের মধ্যে আটকে রাখা আওয়ামি লিগের নেতাকে খুন করে লোপাট করা হবে দেহ। কিন্তু, আততায়ীদের প্ল্যান-বি রেডি ছিল না। ফলে ৫৬ বছর বয়সি সাংসদের জ্ঞান আর ফিরে না আসায় চৌপাট হয়ে যায় সব পরিকল্পনা। তড়িঘড়ি বদল করতে হয় সিদ্ধান্ত।

ঘরের মধ্যে আলোয়ারুলের দেহ চপার দিয়ে মাংসের কিমার মতো কেটে ফেলেন ‘কসাই’ জাহির। ট্রলি এবং পলিথিনের ব্যাগে ভরে সেই ছোট ছোট টুকরো ফেলে দেওয়া হয় খালের জলে। নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেন আবাসনে বাংলাদেশের এমপি খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের জেরা করে এমন তথ্যই জানতে পেরেছে পুলিশ।

এদিকে, বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান হারুন অর রশিদ শনিবার রাতে ‘এই সময়’-কে ফোনে বলেন, ‘রবিবার সকাল সাড়ে দশটায় আমি এবং আমার টিম কলকাতা পৌঁছব। সরাসরি ঘটনাস্থলে যাব আমরা। তারপর সিআইডির কর্তাদের সঙ্গেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করব।’

প্রশ্ন উঠেছে, সাংসদকে যদি খুনই করা হবে তাহলে টাকা আদায় করার প্ল্যান কেন? গোয়েন্দা প্রধান বলেন,‘খুন করার প্ল্যান তো বহুদিন আগে করা ছিল। এই টাকা আদায় করা গেলে তা তুলে দেওয়া হতো কামলাদের(যাঁরা খুন করবে) হাতে। যাতে তাঁদের দিয়ে পরবর্তী কাট-আউট অপারেশন করানো যায়।’

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, আনোয়ারুলকে খুন করার জন্য এর আগেও দু-দুবার টার্গেট করা হয়েছিল। এরমধ্যে একবার বাংলাদেশে নির্বাচনের ঠিক আগে। আর দ্বিতীয়বার, গত জানুয়ারি মাসের ১৭-১৮ তারিখ কলকাতায়। কিন্তু কোনওবারেই তা সফল হয়নি। শেষ মুহূর্তে নিজের রুটিন বদলে ফেলায় প্রাণে বেঁচে যান সাংসদ। অবশেষে তৃতীয়বারের চেষ্টায় নিজেদের অপারেশনে সাকসেসফুল হয় আখতারুজ্জামানের কিলিং-টিম।

পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনার ঠিক আগে শিলাস্তিকে ওই ফ্ল্যাটের তৃতীয় ধাপের একটি ঘরে বসিয়ে রাখা হয়। এমপিকে অজ্ঞান করে দেওয়ার পরে তিনি নীচে নেমে আসেন। এরপর ছবি তুলিয়ে ফের তাঁকে উপরে যেতে বলা হয়। বেশ কয়েকঘণ্টা পরে খাবার খেতে শিলাস্তি যখন নেমে আসেন, ততক্ষণে আনোয়ারুলের দেহ কিমার মতো করে কেটে ফেলা হয়েছে। ওই ঘরে ঢোকার পরে তিনি ব্লিচিং পাউডারের গন্ধও পান বলে অভিযুক্ত তরুণী গোয়েন্দাদের জেরায় জানিয়েছেন।

কে এই শিলাস্তি রহমান?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অপারেশনে তাঁকে হানি ট্র্যাপ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন আখতারুজ্জামান শাহিন। শিলাস্তি ওরফে সেলেনিস্কির গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুরে। তবে তিনি বড় হয়েছেন পুরোনো ঢাকায়। এখন থাকেন উত্তরা এলাকায়। তেমন ধনী পরিবারের কেউ না হলেও তাঁর চলনে-বলনে আভিজাত্য থাকে সবসময়। ২২ বছর বয়সী এই তরুণী এক সময়ে মডেল হতে চেয়েছিলেন।

কয়েক বছর আগে এক ক্লাব পার্টিতে শাহিনের নজর কাড়েন তিনি। এরপর তাঁর বান্ধবী হয়ে যান। পুরোনো ঢাকা ছেড়ে ওঠে আসেন উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায়। আমেরিকা থেকে আখতারুজ্জামান শাহিন দেশে এলে তিনি সঙ্গ দিতেন তাঁকে। এমপি আনারকে হত্যার চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে অংশ নিতে গত ৩০ এপ্রিল শাহিনের সঙ্গে বিমানে কলকাতা আসেন ওই তরুণী।

১৩ মে সাংসদকে খুন করার পরে শিলাস্তি দেশে ফিরে যান ১৫ মে। শুধু তাই নয়, কাজ ঠিকভাবে মিটে যাওয়ায় ঢাকায় শাহিনের বাড়িতে যে পার্টি দেওয়া হয়, সেখানেও তিনি হাজির ছিলেন। তদন্তে নেমে সিআইডি জানতে পেরেছে, ওই তরুণী এবং আখতারুজ্জামান থাকবেন বলে রবীন ভদ্র নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে মাসে একলক্ষ টাকা ভাড়ায় সঞ্জীবা গার্ডেনের ফ্ল্যাটটি নেওয়া হয়। আবার চুক্তিপত্রের কাগজ নথি হিসেবে জমা দিয়ে শিলাস্তির নামে বেশ কয়েকটি সিমও তোলা হয়।

সেই নম্বরগুলি খুনের ঘটনার পরে ব্যবহারও করেন আততায়ীরা। এমন চারটি মোবাইলের হদিশ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। যদিও বাংলাদেশ পুলিশের হাতে ধরা পড়া শিলাস্তি সাংবাদিকদের জানান, তিনি ওই ফ্ল্যাটে উপস্থিত থাকলেও বিষয়টি নিয়ে কিছু জানতেন না। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার ঠিক পরে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে অন্যতম অভিযুক্ত ফয়জ়ল সাংসদের মোবাইলটি নিয়ে বেশ খানিকটা দূরে চলে যান।

Anwarul Azim Anar News : ‘হানিট্র্যাপ’ পাতা হয় বাংলাদেশের সাংসদ আনোয়ারুল জন্য? কে এই লাস্যময়ী?

এরপর সেখান থেকে কয়েকজনকে মিসড কলও দেন। পরে ওই ফোনটি সিয়ামের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তিনি আবার নেপালে গা ঢাকা দেওয়ার আগে বিহারের মুজ্‌জফরপুরে সেটি ফেলে দেন। অন্যদিকে, বাকি অভিযুক্তরা বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার আগে বেনাপোল বর্ডার থেকে আনারের বিরোধী গোষ্ঠীর কিছু লোককে পরিকল্পনা করে মিসড কল দিয়ে সেখান থেকে সরে পড়েন। অভিযুক্তদের লক্ষ্য ছিল, যাতে সেই ফোনের সূত্র ধরে বাংলাদেশে থাকা লোকেদের পুলিশ তাড়া করতে শুরু করে।

বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে এদিন জানানো হয়েছে, এই অপারেশনের জন্য দুটি দল গঠন করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মদতদাতা গ্রুপ, অন্যটি কার্যকর গ্রুপ। দুটি দলেরই পরিচালক ছিলেন আখতারুজ্জামান। আপাতত তাঁর সন্ধানে রয়েছে পুলিশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *