নির্বাচিত প্রায় অর্ধেক MP-ই অভিযুক্ত ফৌদজারি মামলায় – criminal cases against 251 mp elected in 2024 lok sabha election


২০০৯ সালে সংখ্যাটা ছিল ১৬২ (৩০%)। পরের তিন ভোট পেরিয়ে এ বার লোকসভায় সেই সংখ্যাই পৌঁছল ২৫১-এ। দেশের আইনসভায় সদ্য নির্বাচিত যে জনপ্রতিনিধিরা শপথ নেবেন, তাঁদের মধ্যে ২৫১ জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে ফৌজদারি অপরাধের মামলা। এঁদের মধ্যে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অপারাধের ধারা। অর্থাৎ, নারী নির্যাতন থেকে খুনের অভিযোগও রয়েছে।পরিসংখ্যান বলছে, ‘ক্রিমিনাল কেস’ রয়েছে, লোকসভায় এমন এমপি-র সংখ্যা ২০০৯ থেকেই ধারাবাহিক ভাবে বাড়ছে। কিন্তু সেই সংখ্যা যে এ বার প্রায় ৫০ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলল, সেটাই চিন্তার বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, আইনসভায় নতুন আইন তৈরি বা সংশোধনের ভার থাকে সাংসদদের উপরেই।

এ ক্ষেত্রে রাজ্যওয়াড়ি হিসেবে তালিকায় সবার উপরে রয়েছে কেরালা। বাংলার স্থান ৭ নম্বরে। রাজনৈতিক দলগুলির তালিকায় উপরে রয়েছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)। ১০ নম্বরে তৃণমূল। বিজেপি-ও খুব পিছিয়ে নেই, তাদের স্থান ১২ নম্বরে।

মামলার রিপোর্ট কার্ড

ভোটে লড়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে হলফনামা দাখিল করতে হয় প্রার্থীদের। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, তা জানাতে হয় হলফনামায়। অভিযোগ থাকলে তা কী ধরনের, মামলা কোন পর্যায়ে এবং কোন আদালতে রয়েছে, জানাতে হয় সে কথাও। হলফনামা থেকেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিশদ তথ্য মেলে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে বেসরকারি সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস’ (এডিআর)।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৯ সালে লোকসভার এমপি-দের মধ্যে ১৬২ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ছিল। এর মধ্যে ৭৫ জনের বিরুদ্ধে ছিল সিরিয়াস ‘ক্রিমিনাল কেস’। এর মধ্যে রয়েছে খুন, খুনের চেষ্টা, ধর্ষণ, কিডন্যাপ, নারী নির্যাতনের মতো অভিযোগও। ২০১৪ সালের ভোটে দেখা যায়, ‘ক্রিমিনাল কেস’ রয়েছে ১৮৫ জন এমপি-র বিরুদ্ধে। তাঁদের মধ্যে ১১২ জনের বিরুদ্ধে ছিল গুরুতর অভিযোগ।

পরের লোকসভা ভোটে, অর্থাৎ ২০১৯ সালে ফৌজদারি মামলা রয়েছে এমন সাংসদের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩৩। তাঁদের মধ্যে ১৫৯ জনের বিরুদ্ধে ছিল গুরুতর অভিযোগ। ২০০৯ সাল থেকে ধরলে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, এমন এমপি-র সংখ্যা বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ। তার থেকেও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সময়ের মধ্যে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন এমপি-র সংখ্যা বৃদ্ধির হার ১২৪ শতাংশ!

TMC vs BJP: পোস্টাল ব্যালটেও পদ্মকে ছাপিয়ে গেল জোড়াফুল, ডিএ আন্দোলনের প্রভাব পড়ল না ভোটবাক্সে

এ বারের সদ্যনির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে খুন এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে ৩১ জনের বিরুদ্ধে। ১৫ জন এমপি ঘোষণা করেছেন যে তাঁদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন এবং ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। কিডন্যাপে অভিযুক্ত ৪ জন। এ বারের ভোট-প্রচারে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছিল ঘৃণাভাষণ নিয়ে। নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ — অনেকের বিরুদ্ধেই সেই অভিযোগ ওঠে।

যদিও অভিযোগগুলি এ বারের হলফমনামায় ঠাঁই পায়নি। পরিসংখ্যান বলছে, বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে ঘৃণাভাষণ সংক্রান্ত মামলা। যাঁদের বিরুদ্ধে এত ফৌজদারি মামলা, তাঁদের কেন প্রার্থী করা? এ ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলেরই মত এক। সকলেই বলছে, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগই সাজানো!



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *