Snake Bite,সাপে কামড়ালেও তাল কাটল না কর্তব্যে, স্যালাইনের চ্যানেল হাতে রোগী দেখলেন চিকিৎসক – dhupguri hospital doctor srijita saha checkup her patient even after being bitten by snake


এই সময়, জলপাইগুড়ি: সাপে কামড়ালেও তাল কাটল না কর্তব্যে। রবিবার অসুস্থ অবস্থাতেই হাতে স্যালাইন নিয়ে রোগী দেখতে বসেন চিকিৎসক সৃজিতা সাহা। রবিবার হলেও ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে রোগীর চাপ ছিল যথেষ্ট। ধূপগুড়ি ও বানারহাট ব্লক ছাড়াও ফালাকাটা এবং মাথাভাঙা ব্লক থেকেও এদিন সরকারি হাসপাতালে এসেছিলেন অনেকে। কয়েক ঘণ্টা অন্তর স্যালাইন বদলে টানা ১২ ঘণ্টা ডিউটি করার পরে রাত আটটা নাগাদ নিজের ঘরে ফেরেন সৃজিতা।এদিন হাসপাতালে আসা রোগীর আত্মীয় রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘প্রচুর রোগীর ভিড় ছিল। মহিলা চিকিৎসককে দেখলাম একটু ঝিমিয়ে রয়েছেন। হাতে স্যালাইন লাগিয়ে রোগী দেখছেন। শুধু নামেই অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে রোগীদের চিকিৎসক নিজেই অসুস্থ। মহকুমা হাসপাতাল হয়েছে। পরিকাঠামো বদলায়নি।’

ডুয়ার্সের ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে সাপ বের হওয়াটা নতুন কোনও ঘটনা নয়। কখনও স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ার্টারে, কখনও রোগীদের ওয়ার্ডের ভিতর থেকে সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এক কথায় সাপের উপদ্রব হাসপাতাল জুড়ে। শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ ডিউটি করে নিজের কোয়ার্টারে ফেরার সময়ে হাসপাতাল চত্বরেই সৃজিতাকে সাপে কামড় দেয়। কী করবেন সাত-পাঁচ ভেবে তিনি সরাসরি চলে যান কুড়ি কিলোমিটার দূরে তাঁর পুরোনো হাসপাতাল ময়নাগুড়িতে। ওখানে সবাই তাঁর পরিচিত।

একসঙ্গে কাজ করার কারণে একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে সকলের সঙ্গে। ওখানে কাছাকাছি তাঁর পরিচিতরাও রয়েছেন। সেখানে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন সৃজিতা। সাপে কামড়ানোর প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনাম দেওয়া হয় তাঁকে। খানিকটা সুস্থ বোধ করেই রবিবার সকালে ফিরে আসেন কর্মক্ষেত্রে। একে রবিবার তার উপর চিকিৎসক কম। ফলে আউটডোরে রোগী দেখা শুরু করার কিছুক্ষণ পরে অসুস্থ বোধ করেন সৃজিতা। সিস্টারকে ডেকে স্যালাইনের চ্যানেল হাতে লাগিয়ে ফের শুরু করেন চিকিৎসা। সারাদিন হাতে স্যালাইন নিয়ে কর্তব্য শেষ করে রাত আটটা নাগাদ নিজের ঘরে ফেরেন তিনি।

সৃজিতা বলেন, ‘শুক্রবার রাতে ডিউটি শেষে ঘরে ফিরছিলাম। অন্ধকারের মধ্যে একটা সাপ কামড়ে দেয়। অন্ধকার থাকায় কী সাপ চিনতে পারিনি। গাড়িতে করে আমার পুরোনো হাসপাতাল ময়নাগুড়িতে গিয়ে ভর্তি হই। আজ, রবিবার আমার উপরে দায়িত্ব থাকায় ডিউটিতে জয়েন করি। মাঝে মধ্যে অসুস্থ হয়েছি বটে তবে হেরে যাইনি। একটু বিশ্রাম নিলে ভালো হতো। উপায় ছিল না। প্রচুর রোগীদের চাপ ছিল। অন্য চিকিৎসকও কম ছিল। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়ে স্যালাইন হাতে নিয়েই রোগী দেখেছি।’

হাসপাতালের নার্স লিনা দে বলেন, ‘ম্যাডামকে সাপে কাটায় অসুস্থ ছিলেন। যেহেতু রোগীর চাপ রয়েছে তাই স্যালাইন হাতে লাগিয়েই তিনি রোগী দেখতে বসে যান। আমি মানা করলেও শোনেননি। উল্টে বলেছেন, এতগুলো মানুষে সকাল থেকে দাঁড়িয়ে রয়েছে তাঁদের কে দেখবে? আগে কখনও কোনও ডাক্তারকে এ ভাবে ডিউটি করতে দেখিনি।’

ধূপগুড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অঙ্কুর চক্রবর্তী বলেন, ‘হাসপাতালে সাপের উপদ্রব রয়েছে এটা সত্যি। তবে নিয়মিতভাবে পরিষ্কার করা হয়। হাসপাতালের পিছন দিকে যেখানে আবর্জনা ফেলা হয় সেই জায়গায় সাপ রয়েছে। চিকিৎসক সৃজিতা সাহাকে শুক্রবার সাপে কামড়েছিল। তাঁর চিকিৎসা করা হয়েছে। ডিউটিতে যোগও দিয়েছেন।’

‘বেঁচে ফিরবে মেয়ে’, সাপের ছোবলে মৃত কিশোরীর দেহ নদীতে ভাসাল পরিবার
গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে সদ্য মহকুমা হাসপাতালের মর্যাদা পেয়েছে ধূপগুড়ি। তবে বাড়েনি চিকিৎসকের সংখ্যা। আগে বেডের সংখ্যা ছিল ৬০টি। মহকুমা হাসপাতালে উন্নীত হওয়ার পরে শয্যা সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০০। ২১ জন নার্স ও ৬ জন চিকিৎসককে দিয়ে সামলাতে হচ্ছে হাসপাতাল। অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন কয়েকজন। নতুন করে পাঁচ জন নার্স পাঠানোর কথা স্বাস্থ্য ভবনের তরফে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। বেড বেড়ে যাওয়ায় নতুন ডাক্তারের অনুমোদন শীঘ্রই মিলবে বলে দাবি করেছেন বিএমওএইচ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *