সেই জামিন মামলাতেই বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ সিআইডি-তদন্তের ফাঁকফোকর দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। সিআইডি-র এডিজি-কে হাইকোর্টের নির্দেশ— প্রয়োজনে তিনি ওই ঘটনায় ফের তদন্তের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন, প্রয়োজনে তিনি বর্তমান তদন্তকারী অফিসারকে (আইও) সরিয়ে নতুন আইও নিযোগ করবেন।
বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ প্রথমেই তাপস খানের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের বক্তব্য, যেহেতু মৃতের কন্যা ও অন্য সাক্ষীরা মামলার প্রধান দুই অভিযুক্ত রিয়া দাস ও অভিজিৎ দাসের সঙ্গেই আবেদনকারী অর্থাৎ তাপস খানের ভূমিকা নিয়ে মামলার তদন্তে বয়ান দিয়েছে, তাই তাপস খানের আবেদন খারিজ করা হলো।
প্রসঙ্গত, মাস দেড়েক আগে আলিপুর আদালতেও তাপস খানের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এ বছরের ৩ মার্চ ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসন থেকে ওই চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার দিন কয়েক পরেই রিয়া দাস ও অভিজিৎ দাসকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গত সপ্তাহে রিয়া দাসকে জামিন দেয় নিম্ন আদালত। ওই চিকিৎসককে ফাঁদে ফেলে একটি চক্র তাঁর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল বলে সিআইডি-র চার্জশিটেও উল্লেখ করা হয়েছে। সেক্সটরশনের শিকার হয়েছিলেন তিনি।
নথি দেখে হাইকোর্টের প্রশ্ন, ওই মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালের নাম মৃতের সুইসাইড নোটে থাকলেও কেন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি? আদালতে উপস্থিত মামলার তদন্তকারী অফিসার তার সদুত্তর দিতে পারেননি। তখন আদালত বিষয়টি সিআইডি-র এডিজি-কে দেখার নির্দেশ দেয়।
মৃত চিকিৎসকের দাদা তাঁর ভাইয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর কিছু দিন আগে ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি হিসেবে বদলি হয়ে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত প্রথমে ওই থানার হাতেই ছিল। পরে সিআইডি তদন্তভার নেয়। তার পর, লোকসভা ভোটের মধ্যে অন্যত্র বদলি হয়ে যান মৃত চিকিৎসকের দাদা।
