পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টির জেরে মহানন্দা নদীতেও জল বেড়েছে। সমতলে তোর্সা, কালিচিনি, রায়ডাক, জলঢাকা সহ নানা নদীতে জল অনেকটাই বেড়েছে। ইতিমধ্যেই প্রতিটি জেলায় প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি সেরে রাখা হয়েছে। কিছু জায়গায় নদীগুলিতে বিপর্যয় মোকাবিলা দলগুলিকে নামানো হয়েছে।
তিস্তায় জল বাড়তে থাকার জেরে ব্যারেজ থেকেও জল ছাড়া হচ্ছে। শনিবার সকালে জলপাইগুড়িতে তিস্তা ব্যারেজ থেকে প্রায় ২৯৬৯ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। শিলিগুড়ির পাশাপাশি জলপাইগুড়ির একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। একইভাবে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের বহু নদীতে জলস্তর বেড়েছে। কিছু জায়গায় জল বিপদ সীমার কাছাকাছি রয়েছে। সেচ দফতরের তরফেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আগামী কয়েকদিন নদীগুলিতে জলস্তর বৃদ্ধি পাবে বলেই খবর। এদিকে ডুয়ার্সের বহু এলাকায় চাষের জমিগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারেও বিঘার পর বিঘা জমি জলের তলায়।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, শনিবার-রবিবারও উত্তরবঙ্গে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে উপরের দিকের পাঁচ জেলায়। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং-এ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি চলবে। বৃষ্টি চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা। অক্ষরেখা দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া থেকে কাঁথির উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর প্রভাবে রথযাত্রার দিন পর্যন্ত গোটা রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, বৃষ্টি যত বাড়ছে আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়েছে উত্তরবঙ্গের পর্বত পাদদেশীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের। লাগাতার বৃষ্টির কারণে তিস্তার জল ঢুকে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০ এর বেশি বাড়ি জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে। বহু জায়গায় জল জমে রাস্তা, কৃষিজমি একাকার হয়ে গিয়েছে। জলমগ্ন চাষের জমিতে নষ্ট হয়েছে ফসল। প্রতিবছর বর্ষা এলেই এই এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ে তবে এবছর পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ বলে জানাচ্ছেন তাঁরা।
