রাজারহাটের ‘সিলভার ওক এস্টেট’ আবাসনের এ বারের পুজো মণ্ডপ রাজস্থানের একটি মন্দিরের আদলে। সেই পরিকল্পনায় কাজ যখন অনেকটাই এগিয়েছে, ঠিক সেই সময়ে আরজি করের ওই নারকীয় ঘটনা। ওই অবস্থায় কেউ কেউ চাননি, অমন মণ্ডপ হোক। তবে আবাসনের পুজো কমিটির তরফে অমিত মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘মণ্ডপে খুব বেশি পরিবর্তন করার সময় আর আমাদের কাছে ছিল না। কিন্তু নিজেদের শহরে এমন সাংঘাতিক একটা ঘটনা থেকে মুখ ফিরিয়েই বা থাকি কী করে! তাই, আমরা পরিকল্পনা নিই, এ বছর আমাদের পুজো উৎসর্গ করা হবে নিহত চিকিৎসকের নামে।’
অমিতের কথায়, ‘পুজোর পরিকল্পনায় আগে ছিল না, এমন একটা কাজ আমরা সব আবাসিক মিলে করতে চলেছি। সেই পরিকল্পনা করা হয়েছে আরজি করের ঘটনার পর। সবাই মিলে ২০০টা ছবি আঁকা হবে। এই ছবিগুলো ছোটদের গুড টাচ, ব্যাড টাচ সম্পর্কে বোঝাবে। সেক্সুয়াল প্রিডেটররা কী ভাবে শিকার ধরে, সেই বিষয়ে ছোটদের সতর্ক করবে।’
কমিটি জানিয়েছে, আবাসনে প্রায় ১০০ খুদে রয়েছে, যাদের বয়স ৮ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। এই বয়সটায় ছোটদের নানা ধরনের বিপদের আশঙ্কা থাকে, তাই সতর্কতার প্রয়োজন খুব বেশি। কলকাতার অধিকাংশ পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদেরই বক্তব্য, থিম চূড়ান্ত করে মণ্ডপ তৈরির কাজ সাধারণত শুরু হয়ে যায় এপ্রিলেই।
অধিকাংশ পুজোরই ৭০ শতাংশ কাজ হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় মণ্ডপসজ্জার মধ্যে আরজি করের ওই মর্মান্তিক ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ফুটিয়ে তোলার সুযোগ খুব কম— তবে রাজারহাট-নিউ টাউনের সিলভার ওক এস্টেট যে পথে হেঁটেছে, তেমন কিছু করা যেতেই পারে।
