Rg Kar Protest,বৃষ্টি মাথায় হাজারো পায়ের মিছিলের স্বর, ‘আর্জি নয়, দাবি কর’ – rg kar protest march continue in heavy rain at vikas bhawan to salt lake sector v


এই সময়: যত দূর চোখ যায়, শুধু ছাতা আর ছাতা। সেটা ছিল মিছিলের শুরুর দিকের ছবি। রবিবার বিকেলে সময় যত গড়িয়েছে, মিছিলও তত বেড়েছে। এক সময়ে ছাতায় আর ঠাঁই হলো না। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই মিছিলে হাঁটলেন আট থেকে আশি। অনেকে আবার নিজের ছাতা মেলে ধরলেন সহযাত্রীর মাথায়। বৃষ্টিতে মোমবাতি জ্বালানো যায়নি, তাতে অবশ্য আলোর অভাব হয়নি।সল্টলেকের বিকাশ ভবন থেকে সেক্টর ফাইভ মুখরিত হলো ‘আর্জি নয়, দাবি কর’ এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে। মিছিল শেষে আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা জনতার উদ্দেশে বার্তা দিলেন, ‘আপনারাই আমাদের শক্তি। এ ভাবেই পাশে থাকবেন।’ মিছিলের শুরু থেকে শেষ জনতা অবশ্য আগাগোড়াই জানিয়ে গেল, জাস্টিস না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

কালীঘাটের বৈঠক ভেস্তে যা‌ওয়ার পর রবিবার মহামিছিলের ডাক দিয়েছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। সেই মিছিল শেষে জনজোয়ার আটকাতে দিতে হলো ব্যারিকেড। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করে সাধারণ মানুষ বার্তা দিল, ‘আমরা তোমাদের পাশে আছি।’ এক দিনের ডাকে এই জমায়েত দেখে তাঁরা আপ্লুত—জানালেন জুনিয়র ডাক্তাররাও।

রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ শুরু হয় জমায়েত। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, মিছিলে যোগ দিতে এসেছিলেন দূরদূরান্তের মানুষও। ভিড় বেড়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি মিছিল শুরু করে দিতে হয়। করুণাময়ী মোড়ের আগে মেট্রোর লাইনের সেতুর নীচে মিছিল যখন পৌঁছয়, তখন আলো প্রায় নিভে এসেছে। হাতে হাতে জ্বলে ওঠে মোবাইল। করুণাময়ী পৌঁছতে না পৌঁছতেই বৃষ্টি নামে।

তাতেও কেউ মিছিল ছেড়ে যাননি। নদিয়া থেকে আসা আশা বিশ্বাস, সুপর্ণা মালিক, প্রিয়াঙ্কা সরকারেরা শুরু থেকেই ছাতা নিয়ে হাঁটছিলেন। বৃষ্টি নামতেই তাঁরা পাশের লোকটিকে ডেকে নিলেন নিজেদের ছাতার নীচে। খড়দহ থেকে তিন-চার জনের একটি দলে ছিলেন অণু প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘নির্যাতিতার বিচার চেয়ে আমরা রোজই কোথাও না কোথাও মিছিলে হাঁটছি। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।’

‘মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করলে সমস্যার সমাধান কোথায়?’ প্রশ্ন নির্যাতিতার মা-বাবার

মনে করা হচ্ছে, ৪০-৪৫ হাজার মানুষ এ দিনের মিছিলে হেঁটেছেন। মিছিল সেক্টর ফাইভে টেকনো ইন্ডিয়া মোড়ে পৌঁছনোর পরে স্বাস্থ্য ভবন যাওয়ার রাস্তায় ব্যারিকেড করা হয়। কারণ, অত মানুষ ওই রাস্তায় ঢুকে পড়লে পুরো এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। ভিড়ের চাপে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় মিছিলে হাঁটা মানুষকে ওই রাস্তায় না ঢুকতে অনুরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। তার জন্য মাইকে দুঃখপ্রকাশও করা হয়।

মিছিলে যোগ দেওয়া এক প্রবীণ বলেন, ‘আমরা চিকিৎসকদের প্রতি সমব্যথী। ওঁদের সঙ্গে আছি।’ চিকিৎসকদের তরফে কিঞ্জল নন্দ বলেন, ‘আপনারা যে ভাবে আমাদের পাশে থাকছেন, সেটাই আমাদের শক্তি দিচ্ছে। আপনারা নিজের নিজের এলাকায় মিছিল জমায়েত করে জাস্টিসের দাবি তুলুন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *