কালীঘাটের বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর রবিবার মহামিছিলের ডাক দিয়েছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। সেই মিছিল শেষে জনজোয়ার আটকাতে দিতে হলো ব্যারিকেড। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করে সাধারণ মানুষ বার্তা দিল, ‘আমরা তোমাদের পাশে আছি।’ এক দিনের ডাকে এই জমায়েত দেখে তাঁরা আপ্লুত—জানালেন জুনিয়র ডাক্তাররাও।
রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ শুরু হয় জমায়েত। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, মিছিলে যোগ দিতে এসেছিলেন দূরদূরান্তের মানুষও। ভিড় বেড়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি মিছিল শুরু করে দিতে হয়। করুণাময়ী মোড়ের আগে মেট্রোর লাইনের সেতুর নীচে মিছিল যখন পৌঁছয়, তখন আলো প্রায় নিভে এসেছে। হাতে হাতে জ্বলে ওঠে মোবাইল। করুণাময়ী পৌঁছতে না পৌঁছতেই বৃষ্টি নামে।
তাতেও কেউ মিছিল ছেড়ে যাননি। নদিয়া থেকে আসা আশা বিশ্বাস, সুপর্ণা মালিক, প্রিয়াঙ্কা সরকারেরা শুরু থেকেই ছাতা নিয়ে হাঁটছিলেন। বৃষ্টি নামতেই তাঁরা পাশের লোকটিকে ডেকে নিলেন নিজেদের ছাতার নীচে। খড়দহ থেকে তিন-চার জনের একটি দলে ছিলেন অণু প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘নির্যাতিতার বিচার চেয়ে আমরা রোজই কোথাও না কোথাও মিছিলে হাঁটছি। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।’
মনে করা হচ্ছে, ৪০-৪৫ হাজার মানুষ এ দিনের মিছিলে হেঁটেছেন। মিছিল সেক্টর ফাইভে টেকনো ইন্ডিয়া মোড়ে পৌঁছনোর পরে স্বাস্থ্য ভবন যাওয়ার রাস্তায় ব্যারিকেড করা হয়। কারণ, অত মানুষ ওই রাস্তায় ঢুকে পড়লে পুরো এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। ভিড়ের চাপে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় মিছিলে হাঁটা মানুষকে ওই রাস্তায় না ঢুকতে অনুরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। তার জন্য মাইকে দুঃখপ্রকাশও করা হয়।
মিছিলে যোগ দেওয়া এক প্রবীণ বলেন, ‘আমরা চিকিৎসকদের প্রতি সমব্যথী। ওঁদের সঙ্গে আছি।’ চিকিৎসকদের তরফে কিঞ্জল নন্দ বলেন, ‘আপনারা যে ভাবে আমাদের পাশে থাকছেন, সেটাই আমাদের শক্তি দিচ্ছে। আপনারা নিজের নিজের এলাকায় মিছিল জমায়েত করে জাস্টিসের দাবি তুলুন।’
