কৃষ্ণনগর জেলার পুলিশ সুপার অমরনাথ কে এই সময় অনলাইন-কে ফোনে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ময়নাতদন্ত করা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে যৌন নিগ্রহের কিছু আমরা পাইনি। শরীরের বাইরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। রিপোর্ট হাতে পেলে আরও কিছু জানা যাবে। ঘটনার রাতে ধৃত যে একটা সময় অবধি কৃষ্ণনগরেই ছিল তা স্পষ্ট হয়েছে।’
জেলা পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন দীর্ঘক্ষণ কৃষ্ণনগর কলেজ মাঠে ছিলেন ওই তরুণী। আশেপাশেই ছিল ওই যুবক। কৃষ্ণনগর শহরেই ছিল তার লোকেশন। তবে দু’জনের দেখা হয়নি বলেই প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। ফোনে তাঁদের কথা হয়। ফোনেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল ধৃত রাহুল। এরপর রাত ১১টা ১৫ নাগাদ বাড়ি ঢুকে যায়। রাত ১টা পর্যন্ত অন্য একজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সে। ওই তরুণী বেশ কিছুটা রাত অবধিই মাঠে ছিল। তাঁকে তাঁর কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবী সেখানে নামিয়ে দিয়ে গিয়েছিল। এরপর কী ভাবে পুজো মণ্ডপে গেলেন তিনি, ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘এই মিসিং লিঙ্ক জুড়ে দিতে পারলেই তদন্তে অনেকটা এগিয়ে যাবে।’
এরই মধ্যে ‘নির্যাতিতা’-র হোয়াটস অ্যাপ স্ট্যাটাস ও ফেসবুক স্টোরি আরও কিছুটা চিন্তা বাড়িয়েছে পুলিশকে। দু’জায়গাতেই ওই তরুণী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। পুলিশ সুপার বলেন, ‘তদন্তে এ দিকটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
বুধবার সকালে কৃষ্ণনগর শহরে এক তরুণীর অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ভোরের দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা পুজো মণ্ডপের পাশেই ওই তরুণীর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের পরে খুন করা হয় মেয়েকে। তাঁকে যাতে কেউ চিনতে না পারে তার জন্য পোড়ানোর চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর তাঁর ‘প্রেমিক’ রাহুল বসুকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় বুধবারই পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অপহরণ, গণধর্ষণ, খুন, অ্যাসিড বা অনুরূপ কিছু ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া, প্রমাণ লোপাট এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করেছে।
শুক্রবার ঘটনাস্থলে আসে ফরেন্সিক টিম। বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করেন তাঁরা। পুলিশ সুপার বলেন, ‘রিপোর্ট আসলেই সবটা বলা যাবে।’ তবে বোতলে যে কেরোসিনই ছিল, তা একটি সূত্রে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এ দিন ওই গলিতে প্রশাসনের তরফ থেকে আলো লাগানো হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি লাগিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ‘পুলিশ সুপারের বাংলো, সরকারি আবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গার একটি গলিতে এতদিন আলো ছিল না, এটা কি মেনে নেওয়া যায়!’
