Cyclone Dana,ধেয়ে আসছে দানা, ত্রস্ত সুন্দরবন উপকূল – sundarbans coastal dwellers are fearful of cyclone dana


এই সময়, কাকদ্বীপ: দানা ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্কে কাঁটা সুন্দরবনের উপকূলের বাসিন্দারা। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার নাগাদ ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়। ইতিমধ্যে মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি হয়েছে। আজ সোমবার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে সোমবার সন্ধের মধ্যে সমস্ত মৎস্যজীবী ট্রলারকে উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে।টানা তিন দিন ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঘন্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে। বাড়তে পারে সমুদ্র ও নদীর জলস্তর। ফলে সুন্দরবন উপকূলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কারণ, সুন্দরবনের উপকূলেই ঘূর্ণিঝড়ের বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন আবহবিদরা।

দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে উপকূলবর্তী সাগর, নামখানা, ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালি, পাথরপ্রতিমা ও রায়দিঘিতে মাইকে প্রচার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কাকদ্বীপ মহকুমার সাগর ব্লকে ১৮টি, কাকদ্বীপ ব্লকে ১০টি, পাথরপ্রতিমা ব্লকে ২০টি ও নামখানা ব্লকে ১৬টি মিলিয়ে মোট ৬৪টি সাইক্লোন সেন্টার খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে প্রশাসন।

বাঁধের উপর বা বাঁধের কাছে থাকা বাসিন্দাদের ধীরে ধীরে বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুছিয়ে নিয়ে উঁচু এলাকা বা সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাকদ্বীপ মহকুমাশাসকের দপ্তরে ২৪ ঘন্টা কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিভিল ডিফেন্স, এসডিআরএফ এবং এনডিআরএফকে সতর্ক করে সমস্ত রকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে সুন্দরবনের উপকূল এলাকায় তাঁদের জরুরি ভিত্তিতে মোতায়েন করা হতে পারে।

বাংলা-ওডিশার উপকূলই কি লক্ষ্য হবে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’-র
আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে বৈঠক চলছে। ব্লক প্রশাসন এবং পঞ্চায়েতগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সেচ দপ্তরের আধিকারিক এবং কর্মীরা বাঁধে নজরদারি রাখবেন। কোথাও কোনও বাঁধে কিছু বিপদ হলেও আপৎকালীন পরিস্থিতিতে মেরামতি করা হবে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। বর্ষা শেষে সুন্দরবনের উপকূল এলাকার খাল, বিল এবং নদীর এখন অতিরিক্ত জলধারণ ক্ষমতা প্রায় নেই বললেই চলে। ‘

ফলে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে প্রবল বৃষ্টিতে সুন্দরবনের উপকূল এলাকার নদী এবং সমুদ্রের বেহাল বাঁধগুলির মাটি নরম হয়ে গিয়ে আরও বেহাল হয়ে পড়েছে। দুর্যোগের জেরে নদী এবং সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সুন্দরবনের উপকূল এলাকার বাসিন্দারা। রবিবার সকাল থেকে নামখানা, পাথরপ্রতিমা, সাগরদ্বীপ ও মৌসুনি দ্বীপের ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা।

পঞ্চায়েত এবং ব্লক অফিসগুলিতে শুকনো খাবার এবং ত্রিপল মজুত করা হচ্ছে। উপকূল এলাকায় নজরদারি চালাতে বিডিও অফিসগুলিতেও একটি করে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা বলেন, ‘সরকারি ভাবে সমস্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রত্যেক ব্লকে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের ব্যবস্থা থাকছে। মেডিক্যাল টিম, পর্যাপ্ত ত্রিপল-সহ শুকনো খাবার মজুত করা হয়েছে৷ পরিস্থিতি বুঝে পুলিশ- প্রশাসন উপকূল এলাকার বাসিন্দাদের সাইক্লোন সেন্টারে তুলে আনবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *