জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: তামার পাত্রের প্রচলন রয়েছে বহু বছর থেকেই। আয়ুর্বেদে উত্পন্ন এবং বিজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত এই প্রাচীন অভ্যাসের রয়েছে অনেক গুণাগুণ। তামার পাত্রে জল পান করেন অনেকেই। আয়ুর্বেদে এটাও বলা আছে যে, সারা রাত তামার পাত্রে জল ঢেকে রেখে দেওয়া উচিত। তারপর সেই জল সকালবেলা খালি পেটে খেলেও মিলবে অনেক উপকার। তাম্র জল শরীরের তিনটি দোষ- ভাতা, পিত্ত এবং কাফার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করে। তামার মধ্যে জীবাণুনাশক, প্রদাহনাশক এবং ক্ষত নিরাময়ের গুণাগুণ রয়েছে। এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, হজমজনিত সমস্যা দূর করা এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করে।
বহুদিন আগে তামার পাত্রের প্রচলন থাকলেও বর্তমানে এর ব্যবহার অনেকটাই কমে গিয়েছিল। পুজোয় তামার বাসন ব্যাবহার করা হলেও, তামার পাত্রে জল পান করার সুফল সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। তবে সাম্প্রতিক এর ব্যবহার দেখা যাচ্ছে ঘরে ঘরে। তামার তৈরি বোতল, পিউরিফায়ার, গ্লাস, থালার ব্যবহার শুরু করেছেন অনেকেই। তবে জানেন কী এই তামার উপকার? কোন কোন সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়?
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য– তামা, ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক বিনাশ করতে সাহায্য করে। তামার পাত্রে জল রাখা শুরু করুন। তামা জীবাণু বিনাশ করার সাথে রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।
থাইরডের সমস্যা- মানবদেহে কপারের পরিমাণ কমে গেলে থাইরডের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে অনেকের মতে, তামার পাত্রে জল পান করলে তামার ঘাটতি মিটে যেতে পারে।
প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে- তামায় থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। রোজ কসালে খালি পেটে তামার পাত্রের জল পান করলে মিলতে পারে অনেক উপকার। প্রদাহের সমস্যায় উপশম মিলতে পারে। এছাড়া বাতের সমস্যাও কমাতে পারে।
হজমের সমস্যা দূর করে- গ্যাস -অম্বলের সমস্যায় মোটামুটি সকলেই ভুগে থাকেন। তবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন, যদি তামার পাত্রে জল পান করা শুরু করেন।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়- হার্টের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। প্লাস্টিক, কাঁচের পাত্র বাদ দিয়ে তামার পাত্র ব্যাবহার করা শুরু করুন। এছাড়া এই অভ্যেসে ক্যান্সারের আশঙ্কা কমাতেও সাহায্য করে।
তামার পাত্র ব্যবহার করা ভালো, তবে সীমার মধ্যে। অতিরিক্ত তামার পাত্রের ব্যবহার শরীরের ক্ষতিও করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুযায়ী, মানবদেহে ০.৪৭ মিলিগ্রামের বেশি তামা যাওয়া উচিত নয়।
