জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রেক্ষাগৃহে পোস্টার থাকলেও মিলল না শো। বড়দিনে বাংলা ছবির অন্দরে লড়াই তুঙ্গে। বড়দিন মানেই বাংলা ছবির বড় বাজার। কিন্তু ২০২৫-এর বড়দিন টলিউডের অন্দরমহলের এক তিক্ত লড়াইকে প্রকাশ্যে এনে দিল। একদিকে যখন কোয়েল মল্লিকের ‘মিতিন মাসি’ (Mitin Masi featuring Koel Mallick) এবং শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ (Laho Gouranger Naam Re featuring Subhasree Gangopadhyay) প্রেক্ষাগৃহে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, তখন নিজের ছবির ‘শো’ পাওয়া নিয়ে কার্যত যুদ্ধের মুখোমুখি সুপারস্টার দেব (Superstar actor Dev)।
একজন জনপ্রিয় অভিনেতা হলে বছরে যে কত রকম নাম জোটে, তা দেব নতুন করে বুঝেছেন। কোথাও তাঁকে ‘মাফিয়া’ বলা হয়েছে, কোথাও আবার ‘মেগাস্টার’। দেব নিজেও জানেন, খ্যাতির সঙ্গে এই তকমাগুলো অবধারিত। কিন্তু এই সব নামের আড়ালে চাপা পড়ে যায় তাঁর আসল পরিচয়—তিনি একজন অভিনেতা, একজন প্রযোজক এবং সর্বোপরি বাংলা ছবির জন্য লড়াই করা একজন কর্মী। সেই লড়াইয়েরই এক যন্ত্রণাময় দিক উঠে এসেছে তাঁর লেখায়, যেখানে তিনি স্পষ্ট করে জানান, সিনেমাহলে নিজের ছবির পোস্টার ঝুললেও ছবির প্রদর্শনের জায়গা মেলেনি।
বিতর্কের সূত্রপাত
সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার জনপ্রিয় সিঙ্গল স্ক্রিন ‘নবীনা’র (Navina Cinemahall) সামনে নিজের ছবি ‘প্রজাপতি ২’- (Movie Prajapati-2) এর সাজানো গেট ও পোস্টারের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন দেব। সেখানে দেখা যায়, পোস্টার থাকলেও সেই হলে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেতা-প্রযোজক।
এই আবহেই সামনে আসে ‘প্রজাপতি ২’-এর প্রসঙ্গ। ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রজাপতি’ শুধুমাত্র বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি, দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিল বাবা-ছেলের সম্পর্কের এক সংবেদনশীল কাহিনির মাধ্যমে। মিঠুন চক্রবর্তী ও দেবের যুগলবন্দিতে সেই ছবি হয়ে উঠেছিল আবেগের উৎসব। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় ‘প্রজাপতি ২’ (projapoti-2)। শোনা যাচ্ছে, এই পর্বে গল্প আরও গভীর হয়েছে, সম্পর্কের টান আরও সূক্ষ্মভাবে ফুটে উঠেছে। বিদেশের লোকেশনে শুটিং, বড়দিনে মুক্তির পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে ছবি ঘিরে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে।
দেবের পাল্টা জবাব
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেব লিখেছেন, ‘এই বছর আমাকে অনেকে অনেক তকমা দিয়েছেন। কেউ মাফিয়া তো কেউ মেগাস্টার। তার পরেও সিনেমা হলে আমার সিনেমার পোস্টার লাগার পরেও, আমার সিনেমা জায়গা পায়নি।’ তবে নিজের অভিমান লুকিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, হল মালিকরা ভালো থাকলে তবেই বাংলা সিনেমা বাঁচবে।
উল্লেখ্য, গত দুর্গাপুজোয় ‘রঘু ডাকাত’ ছবির সময় বেশি শো পাওয়ায় অনেকে দেবকে ‘মাফিয়া’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। বড়দিনে ছবিটা বদলে যাওয়ায় দেবের এই পোস্ট সেই সমালোচনারই এক প্রচ্ছন্ন জবাব বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মিঠুন চক্রবর্তী ও রাজনীতির ছায়া?
২০২২ সালের সুপারহিট ছবি ‘প্রজাপতি’-র মতো এবারও ‘প্রজাপতি ২’-তে দেবের সঙ্গে রয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী। গতবার মিঠুন চক্রবর্তীর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সরকারি প্রেক্ষাগৃহ ‘নন্দন’-এ শো না পাওয়া নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। এবারও নন্দনে শো পাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। যদিও দেবের দাবি, এটি রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং তাঁরই কিছু ‘বিশেষ বন্ধু’রা বোধহয় এই অসহযোগিতার নেপথ্যে রয়েছেন।
প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের বক্তব্য
নবীনা: হল মালিক নবীন চৌখানি বিষয়টি স্বীকার করলেও কেন দেবের ছবি রাখা হয়নি, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অশোকা: মালিক প্রবীর রায় জানিয়েছেন, শুরুতে সমস্যা হলেও সোমবার থেকে ‘প্রজাপতি ২’-এর আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে এবং তা হাউসফুল।
অন্যান্য হল: কিছু হল মালিকের দাবি, আগের সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া ছবি (যেমন ‘ধুরন্ধর’) ভালো ব্যবসা করায় নতুন ছবিকে শো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
লড়াই চলবে
এত বাধা সত্ত্বেও দেব ময়দান ছাড়তে নারাজ। তিনি জানিয়েছেন, বাংলা ছবিকে দেশের বাইরে এবং বিদেশের আরও নতুন শহরে ছড়িয়ে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। তাঁর কথায়, ‘যেদিন আমি স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দেব, সেদিন আর কারও সঙ্গে লড়াই হবে না।’
বড়দিনের বক্স অফিসে ‘মিতিন মাসি’, ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ এবং ‘প্রজাপতি ২’—এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু দেবের এই লড়াই বাংলা ছবির বন্টন ব্যবস্থা নিয়ে আবারও এক বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
