জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০২৩ সালের আফ্রিকা কোয়ালিফায়ারের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে গতবছর টি-২০ বিশ্বকাপ খেলার ছাড়পত্র মেলেনি জিম্বাবোয়ের। তবে এবার উত্তর আফ্রিকার ক্রিকেটীয় দেশ একেবারে আদা-জল খেয়েই কোমর বেঁধে নেমেছিল আফ্রিকা কোয়ালিফায়ারে। নামিবিয়ার সঙ্গে কাপযুদ্ধে খেলার টিকিট তাদের হাতেও এসেছে।
সামনেই যে বড় পরীক্ষা
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা আইসিসি-র শো-পিস ইভেন্টে রয়েছে জাম্বেজি নদীর তীরবর্তী দেশ। সিকান্দর রাজাদের রাখা হয়েছে গ্রুপ ‘বি’-তে। প্রাথমিক পর্বের গেরো টপকাতে জিম্বাবোয়েকে খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, ওমান এবং শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। ফলে প্রস্তুতিতে কোনও খামতিই রাখছে না একসময়ে ক্রিকেটের নামকরা দেশ। জিম্বাবোয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে ওমানের বিরুদ্ধে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে এবং এরপর ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে।
কোর্টনি ওয়ালশ ঢুকলেন দলে
বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই, জিম্বাবোয়ে তাদের সাপোর্ট স্টাফে জুড়েছে কোর্টনি ওয়ালশকে! ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি স্পিডস্টার ইতোমধ্যেই দলের সঙ্গে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ৬৩ বছরের বাইশ গজের জামাইকান গ্রেট। মিডিয়াকে দেওয়া জিম্বাবোয়ে ক্রিকেট বোর্ডের বিবৃতিতে ওয়ালশকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। ওয়ালশ বলেছেন, ‘ জিম্বাবোয়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত রোমানঞ্চিত। এবং সামনের চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমি বিশ্বাস করি, এবার আমরা যদি আমাদের পরিকল্পনাগুলি ভালো ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করি এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি, তাহলে আমাদের আমাদের খুব ভালো সুযোগ থাকবে। আমি যা দেখেছি, তাতে বোলিং আক্রমণের সমন্বয় বেশ চিত্তাকর্ষক এবং দলে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।’
গিভমোর মাকোনি বললেন
জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের ম্যানেজিং ডিরেক্টর গিভমোর মাকোনি বলেন, ‘কোর্টনি ওয়ালশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ স্তরের, বিশেষ করে ফাস্ট বোলিংয়ে। অতুলনীয় অভিজ্ঞতা এবং অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে তিনি এসেছেন। আমরা যখন আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন এমন একজনকে আনা গুরুত্বপূর্ণ ছিল যিনি বোঝেন যে বিশ্ব মঞ্চে সাফল্যের জন্য কী কী প্রয়োজন। কোর্টনির জ্ঞান, পেশাদারিত্ব এবং খেলোয়াড়দের পরামর্শ দেওয়ার ক্ষমতা অমূল্য হবে যখন আমরা সামনের চ্যালেঞ্জগুলির জন্য আমাদের বোলিং সংস্থানগুলিকে উন্নত করব।’
কিংবদন্দি ওয়ালশের বায়োডেটা
ওয়ালশ ছিলেন অত্যন্ত সফল ফাস্ট বোলার, গতি, বাউন্স এবং নির্ভুলতায় তাঁর সময়ের মহারথী ব্যাটারদেরই ঘুম কাড়তেন। বিশেষ করে টেস্টে ওয়ালশ ছিলেন অসাধারণ। ২৪.৪৪ গড়ে ৫১৯টি উইকেট নিয়েছিলেন। সচিন তেন্ডুলকর, স্টিভ ওয়া, অ্যালান বোর্ডার এবং মাইক আথারটনের মতো ব্যাটাররা তাঁদের কেরিয়ারে নিয়মিত ওয়ালশের মুখোমুখি হয়েছেন। পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায় যে, টেস্টে আথারটনের বিপক্ষে তাঁর গড় ছিল ২২.৬৪! যা থেকে বোঝা যায় যে তিনি প্রায়শই এই ইংলিশ ওপেনারের মাথায় চড়ে বসতেন।
আরও পড়ুন: ‘রোহিত শর্মা যা অর্জন করেছে তার ৫% তোমার নেই’- ইন্ডিয়ার কোচকে ধোপার ধোলাই মনোজ তিওয়ারির…
ক্রিকেট ছাড়ার পরেও ক্রিকেটে
টেস্টে ৫০০০ ওভার বল করার বিরল কৃতিত্ব যে কয়েকজন বোলারের আছে, সেই তালিকায় ওয়াশও। ২০ বছরের বর্ণময় কেরিয়ারে ওয়ালশ ক্রিকেটের সব সংস্করণ মিলিয়ে ৩১০৪ উইকেট নিয়েছেন। অবসরের পর জামাইকান পেসার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কোচিং পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দলের হেড কোচ এবং বাংলাদেশের পুরুষ দলের বিশেষজ্ঞ বোলিং কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। এপ্রিল ২০২৪-এ তাঁকে জিম্বাবোয়ের মেয়েদের জাতীয় দলের টেকনিক্যাল পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
