জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আতঙ্কের আরেক নাম অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। বিপক্ষের বোলারকুলের হাড়হিম ‘বামপন্থী’ ত্রাস ২৫ বছরের এই পঞ্জাব পুত্তর। চলতি ভারত-নিউ জিল্যান্ড ৫ ম্যাচের সিরিজ (IND vs NZ T20I Series 2026) ভারত ২ ম্যাচ হাতে রেখেই ৩-০ পকেটে পুরে ফেলেছে।
গত ২৫ জানুয়ারি, রবিবার গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ছিল ভারত-নিউ জিল্যান্ডের তৃতীয় টি-২০আই। ভারত ৬০ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটে ম্যাচ বার করে নেয়। এই জয়ের ফলে ভারত ঘরের মাঠে টানা ১১টি টি-টোয়েন্টিআই সিরিজ জয় নিশ্চিত করল। যা পূর্ণ সদস্য দেশগুলির মধ্যে বিশ্বরেকর্ড।
গুয়াহাটিতে অভিষেকের গর্জন
গুয়াহাটিতে অভিষেকের ব্যাট গর্জনেই কিউয়িরা কুঁকড়ে গিয়েছিল। বিপক্ষের ১৫৩ রান তাড়া করতে নেমেছিলেন অভিষেক ও সঞ্জু স্যামসন। অভিষেকের ওপেনিং পার্টনার প্রথম বলেই ক্লিন বোল্ড হয়ে যান। তবে ঈশান কিষানকে নিয়ে অভিষেক শুরু করেন ভয়াবহ তাণ্ডব। এক ঘণ্টার ৯ মিনিট কম সময়ে তিনি ক্রিজে থেকে একা হাতে ম্যাচ বার করে আনেন অভিষেক। ২০ বলের অপরাজিত ৬৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন ৩৪০.০০-র স্ট্রাইক রেটে। ৭টি চার ও ৫টি ছয় হাঁকিয়েছেন অভিষেক। তাঁর বেদম প্রহারে নিউ জিল্যান্ডের বোলারদের সব তালগোল পাকিয়ে গিয়েছিল। এমনকী খেলার পর প্রতিপক্ষের ক্রিকেটাররা এসে অভিষেকের ব্যাট পরখ করে দেখেন, বুঝতে চান যে এই ব্যাটে কী আছে।
অভিষেকের ঐতিহাসিক রেকর্ড
অভিষেক গুয়াহাটিতে ১৪ বলে ৫০ করেছেন। টি-২০আই-তে ভারতের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধ-শতকের রেকর্ডে নিজের নাম লেখান অভিষেক। তবে রেকর্ড করেও তাঁকে হজম করতে হয়েছে গুরু যুবরাজ সিংয়ের রেকর্ড খোঁচা। অভিষেক তাণ্ডবের পরেও, দেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণে, ভারতীয় হিসেবে দ্রুততম ফিফটির নজির যুবরাজেরই রয়ে যায়। কিংবদন্তি বিশ্বকাপজয়ী ১২ বলে ৫০ করেছিলেন। যা অভিষেক ভাঙতে পারেননি। খেলার পর যুবরাজ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘এখনও ১২ বলে ৫০ করতে পারলে না? তুমি কি পারবে?’ এই অভিষেককেই যুবরাজ নিজে হাতে গড়েছেন। অভিষেকের ক্রিকেটগুরু কিন্তু তাঁর এক নম্বর শিষ্যের প্রশংসাও করেছেন। যুবি ওই পোস্টেই লিখেছেন, ‘খুব ভালো খেলেছো – এভাবেই এগিয়ে যাও’। মেন্টরের রেকর্ড ভাঙার প্রসঙ্গে অভিষেক খেলার শেষে কথা বলেছেন। ‘যুবরাজ সিংয়ের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড ভাঙা কারোর পক্ষেই অসম্ভব। তারপরেও বলব, কিছুই বলা যায় না। যে কোনোও ব্যাটারই এটা করতে পারে। কারণ আমার মনে হয় এই সিরিজে সব ব্যাটারই খুব ভালো ব্যাটিং করছে। ভবিষ্যতেও এটা বেশ মজার হতে চলেছে।’
অভিষেকের রেকর্ড বন্যা
শূন্য ডট বল: অভিষেক তাঁর ৬৮ রানের ইনিংসে কোনও ডট বল খেলেননি! যা পূর্ণ সদস্য দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিআইয়ের ইতিহাসে যা সর্বাধিক রান।
ছক্কার রাজা: কেএল রাহুলকে ছাড়িয়ে ভারতীয় ওপেনারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক ছয় মারা ব্যাটার হয়ে গিয়েছেন অভিষেক। তাঁর আগে রয়েছেন শুধুই রোহিত শর্মা।
ধারাবাহিকতা: ২৫ বল বা তার কম বলে খেলা নবম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ফিফটি করলেন অভিষেক। সূর্যকুমার যাদবকে (৮) ছাপিয়ে ভারতীয় হিসেবে এই রকম ইনিংসের সংখ্যায় শীর্ষে।
