জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিধ্বংসী আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে আটক ডেকরেটরের মালিক। বারুইপুর পুলিস সুপারের অফিসে আটক করা হয়েছে ওই ডেকরেটর কোম্পানির মালিক গঙ্গাধরকে। দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু এদিনই সাংবাদিক বৈঠক করে কড়া বার্তা দেন। বলেন, এই ঘটনার জন্য যে-ই দায়ি হোক, সে তার দায় এড়াতে পারে না। ওদিকে আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে মৃত ৮ জনের দেহাংশ নিয়ে আসা হয়েছে কাঁটাপুকুর মর্গে। নিহতদের শনাক্ত পর্যন্ত করা যাচ্ছে না। মৃতদের শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে পোড়া হাড়!
এদিন আনন্দপুর অগ্নিকান্ড নিয়ে সুজিত বসু সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক একটা ঘটনা ওখানে ঘটল গাফিলতির জন্য। তারা তাদের দায় কখনও এড়াতে পারে না। আমরা আইনত যা ব্যবস্থা অলরেডি বলেছি। এফআইআর, ইনকোয়ারি যা যা তদন্ত করার দরকার এবং ফরেনসিক ওখানে হবে। এতগুলো মানুষ মারা গেছে, যদি কেউ দোষী হয় এই ঘটনায় আইনের যে বিধান আছে তা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সেই ব্যবস্থা-ই নেওয়া হবে। সবকিছুই এখানে দেখা হবে, সে যে-ই দোষী হোক। আমরা পরিবারগুলোর সাথে আছি।”
বলেন, “তদন্ত ভালো করে করতে বলেছি, আর যদি কোথাও কোনও গাফিলতি থেকে থাকে সেটা FIR শুধু না দৃষ্টান্তমূলক যাতে শাস্তি হয় সেটা আমরা দেখব। এর আগেও একাধিক ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা সত্ত্বেও কিছু মানুষ সবসময় আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থটাকে বড় করে দেখে। আর তাদের জন্যই এই ধরনের ঘটনা ঘটে। অডিট হওয়ার পরেও দেখা যাচ্ছে কিছু মানুষের প্রবণতা থাকে আইন ভেঙে কী করে কাজ করবে, তার ফন্দি খোঁজা। তার জন্যই এই ধরনের ঘটনা ঘটে।”
দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু সাফ জানান,”আমরা ইন্সট্রাকশন দিয়েছি। এফআইআর হচ্ছে। অ্যারেস্টও হবে। যে-ই মালিক হোক, এই ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত আছে, মালিক হোক বা ম্যানেজার হোক, গ্রেফতার হবে।” বলেন, “যারা প্রাইভেট ব্যবসা করছে তাদেরও রেস্পন্সিবিলিটি থাকে। তারাও যেন কখনও মনে না করে যে আমাদের রেসপন্সিবিলিটি কিছু নেই! শুধু ব্যবসা করলে হবে না। ব্যবসা করতে গেলে নিয়ম মেনে করতে হবে। SOP একটা ঠিক করা আছে। সেগুলো যারা মেইনটেইন করছে না, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন হবে। ওই এলাকায় যতগুলো ওয়ারহাউজ আছে , একটা অডিট টিম তৈরি করে ইমিডিয়েট ওখানে অডিট করার জন্য বলা হয়েছে। যদি দেখা যায় কেউ নিয়ম মানছে না, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে যা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সেটা নেওয়া হবে।” ঘটনাক্রমে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর এই সাংবাদিক বৈঠকের পরই আটক ডেকরেটর কোম্পানির মালিক গঙ্গাধর।
প্রসঙ্গত, ঘটনাস্থলে দমকলমন্ত্রীর দেরিতে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যে প্রসঙ্গে সুজিত বসু বলেন, “আগুন যখন লেগেছিল রাত তিনটের সময় কন্ট্রোল থেকে ফোন আসে আমার কাছে। তারপর থেকে সারাদিন মনিটরিং আমি ঘর থেকেই করেছি। প্রথম থেকে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার সাথে আমি যুক্ত রয়েছি। আমি পরে গিয়েছি কি আগে গিয়েছি, এটা কোনও ম্যাটার না। আমার অফিসাররা ওখানে রয়েছেন। আমিও গিয়েছি, দেখে এসেছি।”
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
