অর্কদীপ্ত মুখোপাধ্য়ায়: পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়ার হিয়ারিংয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন চলছে স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় শুনানিতে আসা ভোটারদের তথ্য যাচাই করছে নির্বাচন কমিশন। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি বেরোবে ফাইনাল ভোটার লিস্ট। আর সেই লিস্টে অনেক মানুষের বাদ যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পূর্ব ঘোষিত সূচি অনুসারে, রাজ্যে এসআইআর-এর শুনানির শেষ দিন ছিল শনিবারই। তবে শুক্রবার পর্যন্তও খবর ছিল, সব জায়গায় শুনানি শেষ হয়নি। সে ক্ষেত্রে শুনানির জন্য সময়সীমা আরও বৃদ্ধি করা হবে কি না, তা নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে শুরু করেছে।

আর এই আবহেই কমিশন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং বাংলার বাড়ি স্কিম-সহ এই ধরনের সরকারি উদ্যোগের ফাইনান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স অনুমোদন লেটার এস আই আর (SIR) এর ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এতেই মাথায় হাত লক্ষ লক্ষ সাধারণ নাগরিকের।
SIR- এর তথ্য সংক্রান্ত ক্ষেত্রে আগে কমিশন জানিয়েছিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজে স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র (পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট) একটি গ্রহণযোগ্য নথি।SIR-এর শুনানির জন্যে ‘পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট’ গ্রহণযোগ্য হবে না বলে আগে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু শুনানির শেষদিন জানিয়ে দিয়েছিল, ‘পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট’ গ্রাহ্য হবে। তবে সেই সার্টিফিকেট শুধুমাত্র জেলাশাসক/অতিরিক্ত জেলাশাসক/মহকুমা শাসক কর্তৃক জারি হতে হবে।
তবে কোন শংসাপত্রগুলি বৈধ হিসেবে গ্রাহ্য হবে, তা স্পষ্ট করে দিল নির্বাচন কমিশন। জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক এবং কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টর যে সকল শংসাপত্র দিয়েছেন, সেগুলিকেই বৈধ বলে ধরা হবে। শনিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দফতরে চিঠি পাঠিয়ে তা জানিয়ে ছিল কমিশন।
১৯৯৯ সালের ওই নিয়ম অনুযায়ী, বাঙালি নন, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে অনেক দিন ধরে রয়েছেন এবং আর্মি / ডিফেন্স / প্যারামিলিটারি বাহিনীতে চাকরির জন্য ডোমিসাইল বা স্থায়ী বাসিন্দার সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। আবেদনকারী বা তাঁর বাবা-মা কমপক্ষে প্রায় ১৫ বছর ধরে একটানা পশ্চিমবঙ্গে থাকলে তাঁরা এই শংসাপত্র পেতে পারেন। আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের পশ্চিমবঙ্গে নিজের বাড়ি বা জমি থাকলে তাঁরা এটি পেতে পারেন। আবেদনকারী পশ্চিমবঙ্গে জন্মেছেন এবং এখানকার স্কুল বা কলেজে পড়াশোনা করেছেন, সেই প্রমাণ থাকলেও স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র পাওয়া যায়।
সিইও দফতরে চিঠি পাঠিয়ে কমিশন জানিয়েছে, এই নির্দেশ কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সকল অফিসারকে তা জানিয়ে দিতে হবে বলে জানিয়েছিল কমিশন।
কী কারণে কমিশন থেকে চিঠি পাঠিয়ে এই নির্দেশিকা জানানো হল সিইও দফতরকে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বস্তুত, কমিশন উল্লেখিত আধিকারিকেরা ছাড়াও অনেকে এই শংসাপত্র জারি করতে পারেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর দফতর থেকেও এই শংসাপত্র দেওয়া যেতে পারে। অনুমান করা হচ্ছে, এসআইআর-এর কাজে কোন কোন শংসাপত্রকে বৈধ বলে ধরা হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতেই সিইও দফতরে এই নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল কমিশন।
কিন্তু এখন নিয়ম গেল পালটে।
এখন বাড়ি বা জমির অ্যালটমেন্ট সার্টিফিকেট যাঁরা SIR- এর নথি হিসেবে দেখিয়েছিলেন, তাঁরা কি হিয়ারিঙে বাদ যেতে চলেছে? ২৮ ফেব্রুয়ারির দিকে তাকিয়ে বাংলা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
