জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং ডলারের মূল্যের ক্রমাগত ওঠানামায় ভারতীয় বাজারে সোনার দামে ফের বড়সড় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সোনার দামের পারদ চড়ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরো বাজারেও।
ফলে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারী—সবার মধ্যেই এখন সোনা কেনা নিয়ে উৎকণ্ঠা তুঙ্গে। কেন এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার এই অগ্নিমূল্য হওয়ার পিছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব:
লন্ডন ও নিউ ইয়র্কের কমোডিটি মার্কেটে সোনার ফিউচার দামের (Gold Futures) ক্রমাগত ওঠানামা সরাসরি ভারতীয় বাজারের ওপর প্রভাব ফেলছে।
ডলারের শক্তি বৃদ্ধি: বিশ্ববাজারে ডলার শক্তিশালী হওয়ার ফলে সোনার ওপর চাপ বাড়ছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ডলারের মান বাড়লে সোনার দামেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।
মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার: বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার সংক্রান্ত নীতি বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সোনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
চাহিদার চাপ: বিশেষ করে বিয়ের মরশুমে দেশীয় বাজারে সোনার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
আজকের বাজার দর:
কলকাতা ও দেশের চিত্র শনিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (তথ্যসূত্র অনুযায়ী), সোনার দামে বড় অঙ্কের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। গতকালের তুলনায় আজ সোনার প্রতিটি বিভাগেই দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
কলকাতায় আজকের সোনার দাম (জিএসটি ছাড়া):
সোনার ধরন ১ গ্রামের দাম (টাকা) ১০ গ্রামের দাম (টাকা) বৃদ্ধি (১০ গ্রামে)
১৮ ক্যারেট ১১,৯৪৬১, ১৯,৪৬০১, ৪৩০ টাকা
২২ ক্যারেট ১৪,৬০০১, ৪৬,০০০১, ৭৫০ টাকা
২৪ ক্যারেট ১৫,৯২৮১, ৫৯,২৮০১, ৯১০ টাকা
উল্লেখ্য যে, উপরে উল্লিখিত দামের সঙ্গে গয়না কেনার সময় আরও ৩ শতাংশ জিএসটি (GST) যুক্ত হবে।
এছাড়া রুপোর বাজারেও আজ অস্থিরতা দেখা গেছে। প্রতি কেজি রুপোর দাম বর্তমানে ২,৫৬,৬৭৯ টাকায় ঠেকেছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
সোনালি ধাতুর দাম যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে অনেকেই একে একটি লাভজনক বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। তবে বর্তমান বাজারের অস্থিরতা দেখে বিশেষজ্ঞরা সরাসরি গয়না কেনার চেয়ে ডিজিটাল গোল্ড বা গোল্ড বন্ডের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে বলছেন।
যাঁরা গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন,তাঁদের জন্য দামের সামান্য পতনও বড় সুযোগ হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে Gold ETF বা Sovereign Gold Bond-এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ (SIP পদ্ধতিতে) করলে ঝুঁকির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সোনার দামে এই বিপুল পরিবর্তন মধ্যবিত্তের পকেটে টান ফেললেও, নিরাপদ সম্পদ হিসেবে এর গুরুত্ব কমছে না। ১ গ্রাম সোনার দামে সামান্য হেরফের বড় অঙ্কের কেনাকাটায় বিশাল প্রভাব ফেলে। তাই গয়না বা সোনা কেনার আগে বর্তমান বাজার দর ভালো করে যাচাই করে নেওয়া এবং মেকিং চার্জ ও জিএসটি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।
