জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জল্পনা ছিলই, শেষপর্যন্ত সিপিএম ছেড়ে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ঘাসফুল পতাকা তুলে নিলেন প্রতীক উর রহমান। আর তৃণমূলে যোগ দিয়েই জি ২৪ ঘণ্টার ‘যা বলব সত্যি বলব’ অনুষ্ঠানে ডেপুটি এডিটর পিউ রায়ের প্রশ্নে বোমা ফাটালেন প্রতীক উর।
এতদিনের লড়াই যে দলের বিরুদ্ধে সেই দলেই যোগ দিয়ে বললেন, মনটা খচখচ করছিল কিন্তু যোগ দেওয়ার পর তা আর নেই। কারণ নতুন দল তাঁকে আপন করে নিয়েছে। তাঁকে ফোন করেছেন দলের নেতৃত্ব। দল ছাড়ার কারণ হিসেবে প্রতীক উর বলেন, লড়াইটা মানুষের জন্য। তাই লড়াইটা যদি শেষপর্যন্ত মানুষের জন্য হয় তাহলে সেই লড়াইটা লড়া যায়।
চার বছর আগে যে তৃণমূল চোর ছিল তারাই এখন ভালো হয়ে গেল! প্রতীক উর বলেন, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় স্পষ্ট করে বলেছেন, সব দল ভালো মানুষ আছে, খারাপ মানুষ আছে। বলব না যে তৃণমূল যারা করে তারা সবাই সাধু পুরুষ। আবার সিপিএম ও বিজেপি যারা করে তারা সবাই খারাপ মানুষ। কালো চশমা পরে থাকলে কালো কালো লাগে। আবার সাদা চশমা পরলে অন্য রকম লাগে।এমনটা তো হতে পারে যে আমি এতদিন কালো চশমা পরে ছিলাম! সবাই একজন লোককে চোর বললেন, সেই লোকটাকে একদিনও জেলে রাখতে পারলেন না! পাল্টা তো এই প্রশ্নটাও করা যায়। সময় বাস্তবতা অনেক কিছু শেখায়। পথ চলতে চলতে আপনারা আসল বন্ধু কে, আসল শত্রু কে সেটা চিনতে শেখায়।
এখন বন্ধু ও শত্রু বোঝা হয়ে গিয়েছে? প্রতীক উর বলেন, আপাতত বোঝা হয়ে গিয়েছে। শত্রু কাউকে মনে হচ্ছে না। যারা নিজেরাই মানুষের শত্রু, তারাই আমার শত্রু। বামপন্থী আদর্শের কথা যদি ধরেন তাহলে প্রায় ২০ বছর দলটি করছি। যখন এসএফআই করেছি তখন সততার সঙ্গে টিএমসিপির সঙ্গে লড়াই করেছি। আগামিদিনেও সততার সঙ্গেই লড়াই করব। ২০ বছর আগে যে সিপিএমকে দেখে এসেছিলাম সেই সিপিএম ও আজকের সিপিএম আকাশ পাতালের পার্থক্য।
কী পার্থক্য? সেলিমদার আগে যিনি রাজ্য সম্পাদক ছিলেন তিনি যখন মিটিংয়ে বসতেন তখন সেই মিটিংয়ে প্রশ্ন করেছি। সামালোচনা করেছি। বলেছি, এই কথাটা মনে হয় ভুল, এর সঙ্গে একমত হতে পারছি না ইত্যাদি। বেরিয়ে আসার সময়ে উনি বলতেন শোনো, তোমার কথা লিখে দাও। আমি লিখে দিতাম। দুদিন পরে ফের ফোন করে ডাকতেন, বলতেন আলিমুদ্দিনে এসো। বলতেন এই দেখ, নতুন একটি থিসিস এসেছে। তোমর অ্যাংলটা ঠিক। তবে এই অ্যাংলটাও ভাবতে পার। এটাই তো নেতার কাজ।
আরও পড়ুন-‘৪৮০ কোম্পানি কেন ১৪৮০ কোম্পানি দিক না! ভোটটা তো….’, বিস্ফোরক কল্যাণ
ব্যক্তিকে অপছন্দ হতেই পারে, দলের আদর্শটা উবে গেল? প্রতীক উর বলেন, আদর্শটা কী! ব্যক্তির জন্য আদর্শ নাকি আদর্শের জন্য ব্যক্তি? আদর্শের জন্যই ব্যক্তি। আপনি আদর্শকে চেপে রেখে ব্যক্তিকে উপরে তুলবেন, এটা তো হয় না।
সিপিএম মুখে অন্তত বলে, আমরা ব্যক্তিতে বিশ্বাস করি না। দলগত সিদ্ধান্ত বিশ্বাস করি না। সেই সিপিএম কি নেই আর? প্রতীক উর বলেন, নেই। আমরা মনে হয়েছে নেই আর।
আজকের দিন দাঁড়িয়ে সিপিএম মানেই মহম্মদ সেলিম? প্রতীক উরের সাফ জবাব, একদমই তাই। দলে আর কেউ ছিলেন না বলার? প্রতীক উর বলেন, যারা বলেছেন তাদের শাস্তি পেতে হয়েছে। নাম ধরে বলতে পারি- অমিয় পাত্র। বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, জঙ্গলমহলের বিরাট নেতা। কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকার বয়স আর এক বছর বাকী ছিল। প্রশ্ন করতেই উড়ে গেলেন। অনেক প্রশ্নে একমত ছিলেন না অশোকদা। উত্তরবঙ্গে বিশাল প্রভার। সেই মানুষটাকে অপাংতেয় করে ঘরের মধ্যে বসিয়ে রাখা হল! কান্তি গাঙ্গুলী দীর্ঘদিনের মন্ত্রী ছিলেন, পার্টির হোল টাইমার। গাড়ির তেলের পয়সা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেন? কান্তি গাঙ্গুলী মহম্মদ সেলিমের সমালোচনা করেছিলেন বলে?
বিমান বসু ফোন করেছেন, তাঁকে তো বলা যেত! প্রতীক উর বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বিমান বোস এখনও বিমান বোস। বিমান বোসের কোনও অনুরোধ আমার কাছে আদেশ। আমি চিঠিটা করেছিলাম টু দ্যা সেক্রেটারি-চেয়ারকে। চেয়ারটা মহম্মদ সেলিমকেই দেওয়া হয়েছিল। বিমান বোসকে দেওয়া হয়নি। আপনার এত ঔদ্ধত্য কেন? আপনি কথা বলতে পারলেন না বিমান বোসকে পাঠিয়ে দিলেন! বিমান বোসের ভ্যালু নেই, আপনার ভ্যালু আছে! আমি যদি ঘুরিয়ে প্রশ্ন করি?
বিমানদার ফোন এসেছিল। আমি বললাম, দাদা আমি আপনাকে ফেস করতে পারব না। উনি বললেন, তুমি এস আমি কথা বলতে চাই। আমি বললাম, আমি ভাবছি। পরদিন ভাবছি সন্ধেয় গিয়ে ঘুরে আসব। হঠাত্ একজন সাংবাদিক ফোন করলেন, আপনার সঙ্গে বিমান বোসের কী কথা হল? এই কথা সাংবাদিকরা কীভাবে জানলেন? তখন মনে প্রশ্ন এল কেউ ইচ্ছে করে এমনটা করছেন না তো! যাতে এমন একটি পরিস্থিতি দাঁড় করানো যায় যে বিমান বোস ডাকলেন প্রতীক উর গেল না। এত উদ্ধত্য!
সবকিছু ভোটের আগে হয় কেন! প্রতীক উর বলেন, বিশ্বাস করুন কমিউনিস্ট পার্টির কোনও নেতা রাতের অন্ধকারে কোনও দাঙ্গাবাজের সঙ্গে দেখা করতে যায়নি। কমিউনিস্ট পার্টির কোনও রাজ্য সম্পাদক কোনও দিন জামাত বা ওয়েলফেরায় পার্টির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেনি। সিপিআইএমের কোনও রাজ্য কমিটির সদস্য কখনও এসডিপিআইয়ের কেনাও নেতার সঙ্গে বৈঠক করেননি। কারা এরা! এসআইও ব্যান হয়েছিল। নতুন ফরম্যাট পিএফআই। সেটাও ব্যান। নতুন ফরম্যাট এসডিপিআই। সেই মিটিংয়ে যাচ্ছেন জামি মোল্লা। উনি খুব সহজ সরল মানুষ। তাঁকে যখন জিজ্ঞাসা করা হল তিনি বলে ফেলেছেন, রাজ্য নেতৃত্বের অনুমতি নিয়ে এসেছি। যাদের সঙ্গে আরএসএসের তুলনা করা হয়। তাদের সঙ্গে মিটিং যদি ভোটের আগে হয় তাহলে প্রতীক উর রহমানের কিছু করার নেই। হুমায়ূনের সঙ্গে বৈঠক যদি ৬ মাস আগে হত তাহলে প্রতীক উর ৬ মাস আগেও এই কথাগুলোই বলত।
তোমরা কথা মতো সিপিআইএম দলটা ক্রমাগত পেছনের দিকে যাচ্ছে, এর জন্য কি মহম্মদ সেলিম একাই যথেষ্ট ? প্রতীক উর বলেন, না না দলটি ভীষণই এগিয়ে যাচ্ছে। খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হল সেই এগনোটা খাদের দিকে। বাসের যিনি ড্রাইভার রয়েছেন তিনি খুব সুন্দর গাড়ি চালান। শুধু ব্রেকে পা মারতে ভুলে যান। রাজ্য সম্পাদকের চেয়ারে যিনি বসেন তিনিই তো ড্রাইভার হবে। এটাই তো স্বাভাবিক।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
