Mukul Roy Passes Away: ‘আমাকে বধ করতে চেয়েছিল… খাদের ধারে নিয়ে গিয়ে ঠেলে ফেলে…’ প্রয়াত ‘মুকুলদা’কে নিয়ে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ…


জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রবিবার গভীর রাতে প্রয়াত মুকুল রায়। কলকাতার বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত উপসর্গ-সহ একাধিক জটিল অসুখে ভুগছিলেন। ৬০০ দিনের উপর ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। তারপরই রবিবার গভীর রাতে কার্ডিয়াক ফেলিওর ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু। এককালের সহযোদ্ধা মুকুল রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। অগ্রজের সাংগঠনিক দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে এক্স-হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তৃণমূল দলের তরফেও মুকুল রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়েছে। তবে কিছুটা ভিন্ন সুর কুণাল ঘোষের পোস্টে। মুকুল রায়কে নিয়ে পোস্টে যেন অভিমান ও অভিযোগের বিস্ফোরণ ঘটালেন কুণাল ঘোষ।

Add Zee News as a Preferred Source

এক্স-হ্যান্ডেলে দীর্ঘ পোস্টে কুণাল ঘোষ লিখেছেন, “মুকুল রায় প্রয়াত,  চিরশান্তিতে থাকুক। দীর্ঘকাল চিনি। সাংবাদিক হিসেবে বা পরে রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে। একটা সময়ে মমতাদির পরম অনুগত। দলের কঠিন সময়েও তৃণমূলভবন আগলে পড়ে থাকত। কর্মীদের সময় দিত। দিদির নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ ছিল। বাংলা চিনত। পরে সময়ের সঙ্গে বদল। আমার রাজনৈতিক উচ্চাশা ছিল না। তবু, রজ্জুতে সর্পভ্রম করে আমাকে বধ করার দরকার মনে করেছিল। আমার বিশ্বাসের মর্যাদা না দিয়ে আমাকে খাদের ধারে নিয়ে গিয়ে ঠেলে ফেলে দেওয়ার মূল কারিগর ছিল মুকুলদা। আমাকে, আমার ঘনিষ্ঠদের যা বলেছিল, ধ্রুবসত্য ধরেছিলাম। কঠিনতম দিনে ক্রমশ বুঝেছি রাজনীতির খেলা।”  

আরও লিখেছেন, “পরে মুকুলদা তখন বিজেপিতে, আমাকে নানা কথা বলে আবার কাছে টেনে বিজেপিতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আমার বাড়িতে এসেছে একাধিকবার, আমি না বলায় আমার এলাকার ভাই, বন্ধুদের বুঝিয়েছে। বলেছে, ‘অমুক অমুক ‘ কারণে এই পার্টি করা যাবে না। কুণাল চলে আসুক। আন্তরিকভাবে আমাকে ওর সঙ্গে নতুন দলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বুঝিয়েছে। আমি বলেছি, সব বুঝলাম, কিন্তু দল ছাড়ব না, দলের ভেতরেই নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা করে যাব। আরও পরে মুকুলদা অসুস্থ। মনেপ্রাণে চেয়েছি, সেরে উঠুক। ওর ছেলে শুভ্রাংশুর সঙ্গে আমার টুকটাক যোগাযোগ থাকে। মুকুলদাকে দেখতেও গেছি। শুভ্রাংশু ও পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা। মুকুলদা একজন দক্ষ রাজনৈতিক কর্মী ছিল। ওর সঙ্গে কিছু মুহূর্ত মনে থাকবে। ওর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের আগের রাতে দিল্লির বাড়ির সামনের গাছের তলার আলোচনা এবং দিদির ঘরের দরজা নক করে আরও অনুরোধ ; কিংবা কালিম্পংএ শীতের রাতে আমি আর মুকুলদা রুম হিটার কোলে নিয়ে জেগে গল্প, এরকম বেশ কিছু মুহূর্ত আছে।” 

কুণাল ঘোষের স্পষ্ট কথা, “ওর প্রতি আমার রাগ, অভিমান আছে। কিন্তু ওর বৈশিষ্ট্যগুলো অস্বীকার করব কেন? ও আমার ক্ষতি করার কারিগর। অনেক পরেও সিবিআইকে কত বড় মিথ্যা বয়ান দিয়ে আমাকে আরও ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে, আমি দেখেছি, আমি জানি, ঈশ্বর আছেন। কিন্তু ও  তৃণমূলের দুঃসময়ের অন্যতম সৈনিক, পাল্টেছে অনেক পরে। তবে, আমার মতে কারণ যাই হোক, ওর তৃণমূল ছাড়াটা মস্ত ভুল। তৃণমূলে ও একটা বড় নাম।  দলবদলের জটিল আবর্তে সম্মান ও গুরুত্বটা হারিয়ে ফেলেছিল। আজ ওর বিদায়ের মুহূর্তে সুন্দর কিছু স্মৃতি মনে থেকে যাক। বাকি পর্যালোচনা চলতে থাকবে।”

আরও পড়ুন, Mukul Roy: কেমন ছিলেন ‘বাবা’ মুকুল রায়? চোখে জল নিয়ে ছেলে শুভ্রাংশুর বড় সার্টিফিকেট…

আরও পড়ুন, Mamata on Mukul: কালের নিয়মে ঝরল মুকুল! ‘আমি বিচলিত-মর্মাহত’, সহযোদ্ধার মৃত্যুতে কাঁদছে মমতার মন… ভূয়সী প্রশংসা অভিষেকের…

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল) 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *