কিরণ মান্না: বিধানসভা ভোটের মুখে খোদ শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় গেরুয়াশিবিরে ভাঙন অব্য়াহত। পূর্ব মেদিনীপুর ময়নায় এবার দলবদল করলেন পঞ্চায়েত প্রধান, সদস্য-সহ শতাধিক পরিবার। ফলে ওই পঞ্চায়েতটি হাতছাড়া হতে চলেছে বিজেপি।
আরও পড়ুন: Mukul Roy: কেমন ছিলেন ‘বাবা’ মুকুল রায়? চোখে জল নিয়ে ছেলে শুভ্রাংশুর বড় সার্টিফিকেট…
ময়নার গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত আসনসংখ্যা ১৭। গত পঞ্চায়েত ভোটে ১০ আসনে জিতেছিল বিজেপি। ৭ আসন ছিল তৃণমূলের দখলে। বিধানসভা ভোটের মুখে বদলে গেল সমীকরণ। তৃণমূলের আসনসংখ্যা বেড়ে হল ৯, আর বিজেপি ৮! কীভাবে? দিন কয়েক আগে তৃণমূল যোগ দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা চন্দন মন্ডল। স্বামীর পথেই হাঁটলেন চন্দনের স্ত্রী খুকুরানি মণ্ডল। বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতে প্রধান ছিলেন তিনি। তৃণমূলে যোগ দিলেন গোজিনা পঞ্চায়েতে বিজেপি সদস্য কাকলি চৌধুরী। সঙ্গে এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবারও।
এর আগে, খাস নন্দীগ্রামে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন দলের পঞ্চায়েত সদস্য ও বুথ সভাপতি। গত পঞ্চায়েত ভোটে নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের কালিচরণপুর ২৪৫ নম্বর বুথে পদ্ম প্রতীকে জিতেছিলেন তনুশ্রী দাস। বিধানসভা ভোটের মুখে এবার তিনি যোগ দিলেন তৃণমূলে। সঙ্গে ওই বুথের বিজেপি সভাপতিও। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিলেন তৃণমূল নেতারা।
এদিকে পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে যে ৩০ সংখ্যালঘু পরিবার বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল, তারা ফিরে গিয়েছেন তৃণমূলেই। তাঁদের অভিযোগ, ‘ভয় দেখানো হয়েছিল, তাই বিজেপিতে গিয়েছিলাম’।
তখন রাজ্য়ে সবেমাত্র SIR শুরু হয়েছে। খেজুরির কামারদা অঞ্চলে প্রায় ৩০ সংখ্যালঘু পরিবার যোগ দেন বিজেপিতে। দলের কার্যালয়ে তাদের হাতে পতাকা তুলে দেন কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী। ছিলেন খেজুরির বিজেপি বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক ও জেলা ও ব্লক স্তরের নেতারাও। তৃণমূল তৃণমূলে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছিলেন বিজেপিতে যোগদানকারী পরিবারের সদস্য়রা। তাঁদের দাবি ছিল, ‘প্রাণে মেরে ফেলার জন্য আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। এখনও শরীরে গুলি রয়েছে’। কিন্তু খেলা ঘুরতে সময় লাগে মাত্র ২ দিন।
বিজেপি ছেড়ে আবার তৃণমূলে যোগ দেন ওই ৩০ সংখ্য়ালঘু পরিবার। কাঁথি সাংগঠনিক জেলায় দলের যুব সভাপতি জালাল উদ্দিন খানের হাত থেকে পতাকা নিলেন পরিবারের সদস্যরা। শেখ মশিউর রহমানের নেতৃত্বে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি, আবার বিজেপি থেকে তৃণমূলে। মশিউর বলেন, ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এলাম। আমাকে ভয় দেখানো হয়েছিল, তাই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলাম’।
এর আগে, নন্দীগ্রামে দলত্যাগ করেছিলেন বিজেপির তমলুক জেলা কমিটির সদস্য়-সহ ৫০ জন। তাঁদের মতে, দলের ব্যবহার বেদনাদায়ক, ‘দুর্নীতির আখড়া’ এবং বর্তমানে নন্দীগ্রামে বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটি তাঁরা চাইছেন না।
আরও পড়ুন: Mukul Roy Demise: একদা বাংলা রাজনীতির ‘চাণক্য’ মুকুল রায়ের কত সম্পত্তি, জানেন…
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
