West Bengal
-Ritesh Ghosh
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা সামনে আসছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এমনকী বিজয়ী প্রার্থীরাও আক্রমণের শিকার হয়েছেন, যার জন্য বিজেপিকে দায়ী করা হচ্ছে।
পরাজিত বিদায়ী বিধায়ক অরূপ বিশ্বাসের টালিগঞ্জের পার্টি অফিস ফল ঘোষণার পরই যাদবপুরের বিজয়গড়ে বিজেপির কর্মীরা দখল ও ভাঙচুর চালায়। এদিকে, উদয়নারায়ণপুরে তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী সমীর পাঁজাকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। জয়ের শংসাপত্র নিতে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছলে তিনি এই হামলার শিকার হন।

প্রার্থী সমীর পাঁজা অভিযোগ করেন, ফল ঘোষণার পর থেকে দুষ্কৃতীরাই তাঁকে গণনাকেন্দ্রের বাইরে আক্রমণ করে, যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। অন্যদিকে, সোমবার এক গণনাকেন্দ্রে তৃণমূল সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। তাঁকে লক্ষ্য করে স্লোগান, অশালীন মন্তব্য এবং জুতো ছোঁড়ার অভিযোগও উঠেছে।
শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক কার্যালয় দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। মেদিনীপুরে বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইতের জয়ের পর কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন টিএমসি কার্যালয় দখল করে। হুগলির ডানকুনিতেও তৃণমূল কাউন্সিলর চিন্ময় নন্দীর পার্টি অফিসে হামলা চালিয়ে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
ডানকুনিতে ওই অফিসে বিজেপির পতাকাও লাগানো হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি জলপাইগুড়ির ডাবগ্রাম এবং কোচবিহারে তৃণমূলের একাধিক কার্যালয়ে ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক হামলার এই ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি উদ্বেগ ও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, যা প্রশাসনেরও চিন্তার কারণ।
অন্যদিকে সন্তু পান, তরুণজ্যোতি তিওয়ারীর মতো জয়ী বিজেপি বিধায়কেরা অভিযোগ করেছেন যে কিছু লোক বিজেপি সেজে আচমকা মানুষকে মারতে, অত্যাচার করতে মাঠে নেমে পড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
