শান্তনুর মতো তৃণমূলের প্রায় সাড়ে তিনশো বড়-ছোট নেতা-নেত্রীকে এমন সুপরিকল্পিত রুটিন মেনেই গ্রাম সফর করতে হচ্ছে। দুপুরে কার বাড়িতে খেতে হবে, তা-ও রুটিনে বলে দেওয়া হয়েছে। শান্তনু যেমন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি প্রবীর চক্রবর্তীর বাড়িতে দুপুরের খাবার খাবেন। দু’ঘণ্টা বিশ্রামের পর বিকেল ৩টে থেকে ফের কাজে নেমে পড়তে হবে তাঁকে। গ্রাম পঞ্চায়েতের বিলকুমারি গ্রামে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করবেন শান্তনু। এই পর্বের নাম ‘পঞ্চায়েত সংলাপ’। এক ঘণ্টার এই বৈঠকের পর একটি স্কুলের মাঠে ‘জনসংযোগ সভা’ শুরু হবে। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫টি প্রকল্পের সুবিধে মানুষ পাচ্ছেন কি না, তার তথ্যতালাশ করতে হবে বিশদে। বিকেল ৫টা থেকে নাকাশিপাড়ার আরবাটি গ্রামে তৃণমূলের অঞ্চল-কর্মিসভা করতে হবে এই সাংসদকে। রাত ৮টার পর শম্ভুনগর গ্রামে জগদীশ বারিকের বাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে সেখানে রাত কাটাবেন তৃণমূলের এই চিকিৎসক নেতা।
বুধবারই রাজ্যে দিদির সুরক্ষাকবচ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ঘড়ি ধরে এই ‘টাইট শিডিউল’ অনুসরণ করতে গিয়ে বেশ কয়েক জন তৃণমূল নেতা অল্পবিস্তর হোঁচট খেয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের খবর। যদিও শান্তনুর বক্তব্য, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনায় এই সুশৃঙ্খল কর্মসূচি নতুন তৃণমূলের পরিচয়। যেখানে নির্দিষ্ট কাঠামো, পূর্ব পরিকল্পনা, রিসার্চ করে কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। যেখানে প্রতিটি দায়িত্ব সুষ্ঠু ভাবে বণ্টন করা হয়েছে। কোথাও কোনও সমন্বয়ের অভাবের সুযোগ নেই।’ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র এ দিন একই রকম ব্যস্ত কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন। একাধিক মন্দিরে প্রার্থনা, পাঁচটি প্রাথমিক স্কুল, একটি উচ্চ-মাধ্যমিক স্কুল, দু’টি আইসিডিএস সেন্টারে গিয়েছেন তিনি। অন্য কর্মসূচিও পালন করেছেন। তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সৌমেনের কথায়, ‘অত্যন্ত টাইট শিডিউল হলেও দিনের শেষে আমার উপলব্ধি হলো, এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। প্রথমে কিছুটা উদ্বেগ ছিল। কিন্তু সারা দিন পর পর কর্মসূচি করে অত্যন্ত তৃপ্তি পেয়েছি। মানুষ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।’ এ দিন দুপুরে ভাত, শাকভাজা, পটলভাজা ও মাছের ঝোল খেয়েছেন সেরেছেন সৌমেন।
কর্মসূচির প্রথম দিন, বুধবার দু’জন মন্ত্রী, দু’জন সাংসদ, একাধিক জেলা সভাপতি ও একদল বিধায়ক ময়দানে নেমেছিলেন। কয়েক দিন আগেই রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসেছে। চিকিৎসক বিশ্রাম নিতে বললেও স্বপন বুধবার দিনভর নাদনঘাটে ঘুরেছেন। স্বপনের কথায়, ‘চিকিৎসক বিশ্রাম নিতে বললেও দলের কর্মসূচি রূপায়ণ করতে আমি প্রাণ দিতেও রাজি আছি।’ আজ, বৃহস্পতিবার ও কাল, শুক্রবার তৃণমূলের আরও কয়েক জন মন্ত্রী ও নেতা-নেত্রী রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামে যাচ্ছেন। ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং পুরুলিয়ার পারা বিধানসভার প্রত্যন্ত জোড়াডি গ্রামে দিদির দূত হয়ে যাচ্ছেন। দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদ মালা রায় বাঁকুড়ার ছাতনার একটি গ্রামে শুক্রবার জনসংযোগ সেরে সেখানে রাত্রিবাস করবেন। রাজ্যের পোড়খাওয়া মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আজ চাকদহের ঘেঁটুগাছি গ্রামে দিদির সুরক্ষাকবচে অংশ নেবেন। বাবুল সুপ্রিয় যাচ্ছেন হুগলির পাণ্ডুয়ায়। আইএনটিটিইউসি সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের গলসির বুদবুদ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রাত্রিবাস করবেন। তা ছাড়া, সাংসদ খলিলুর রহমান, মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, শিউলি সাহা, বিরবাহা হাঁসদা, জ্যোৎস্না মাণ্ডি, বিধায়ক লাভলি মৈত্র, প্রাক্তন পুলিশকর্তা হুমায়ুন কবীর, ফিরদৌসি বেগম, পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা, জাকির হোসেন, শ্রীকান্ত মাহাতো প্রমুখ দিদির দূত হয়ে গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন।
