আসিনা বিবি নামক স্থানীয় এক অভিভাবক জানালেন, “রুটিন অনুযায়ী পড়ুয়াদের কোনোদিনই খাবার দেওয়া হয় না। ডিম, মাছ ও মাংস দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া হচ্ছে না। আর দেওয়া হলেও তার মান একেবারেই ভালো নয়। তাছাড়া ভাত সঠিক পরিমাণে দেওয়া হয় না। সব্জিতেও প্রায় একই দশা।” এছাড়াও তাঁর আরও অভিযোগ, “স্কুলের যে জায়গাটিতে রান্না করা হয়, সেই জায়গাটি সম্পূর্ণ অন্ধকার। খাবারে যদি কিছু পড়ে যায় রান্না করার সময়, তাহলে কোনোভাবেই বোঝা সম্ভব নয়। টিকটিকি পড়ে গিয়েছে সেই কারণেই।”
এই বিষয়ে স্কুলটির রন্ধনকারী রোশনারা বিবি জানান, “জায়গাটি সত্যিই অন্ধকার। পুরো অন্ধকারের মধ্যেই আমাকে রান্না করতে হয়। এই বিষয়ে স্কুলে অনেকবার অভিযোগ করেছি আমি।” ICDS স্কুল পর্ষদ ইনচার্জ শ্যামলী বাসকির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “এই বিষয়ে নিয়ে একটি অভিযোগ আমি পেয়েছি যে স্কুলের রান্নার মধ্যে টিকটিকি পাওয়া গিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য আমি ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছি।”
প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্যে মিড ডে মিল (Mid Day Meal) ও স্কুলের খাবার ঘিরে বিস্তর অভিযোগ উঠছে। বীরভূমের ময়ুরেশ্বরের একটি স্কুলের মিড ডে মিলে মরা সাপ পাওয়ার পর বুধবার মালদার (Malda) চাঁচল (Chanchal) থানার সাহুরগাছি বিদ্যানন্দপুর প্রাইমারী স্কুলে মিড ডে মিলের চালের ড্রাম থেকে মরা টিকটিকি ও ইঁদুর পাওয়া যায়। যা নিয়ে কার্যত ঝড় বয়ে যায় গোটা রাজ্য জুড়ে। আর আজ ICDS স্কুলের খাবারে মরা টিকটিকি এই বিতর্কের আগুনে যে আরও ঘি ঢালল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
