কিন্তু কেন এই আনন্দ-আয়োজন?
গড়িয়াহাটের এক আধা-ঝুপড়ি বছর পঁচিশের গৌতম গায়েনের ঠিকানা। তিনি গিটার বাজিয়ে রাস্তায় রাস্তায় গান করেন, যার পোশাকি নাম বাস্কিং। গৌতমের গান শুনে তাঁর প্রেমে পড়েছিলেন গড়িয়ার চন্দ্রিমা চক্রবর্তী। ভালোবেসে গৌতমকে বিয়ে করার জন্য চন্দ্রিমাকে কার্যত বিতাড়িত হতে হয় নিজের বাড়ি থেকে। বছর দুয়েক আগে গৌতমকে বিয়ে করা ইস্তক চন্দ্রিমারও ঠিকানা হয় গড়িয়াহাটের ফুটপাথের ওই আধা ঝুপড়ি। তাতেও স্বস্তি নেই।
গৌতম বলেন, ‘ফুটপাথে থাকলে যা হয়। মাস খানেক আগে এক রাতে তাড়া খেতে হয়েছিল। জিনিসপত্র নিয়ে পালাতে গিয়ে আমার সাধের গিটারটাই ভেঙে যায়।’ যার ফলে ঘোর সঙ্কট। আবার সেই সময়েই পৃথিবীর আলো দেখে চন্দ্রিমা ও গৌতমের কন্যাসন্তান। কিন্তু জন্মের পরেই যে জন্ডিস হয়, সদ্যোজাতের সেই জন্ডিস পৌঁছেছিল বাড়াবাড়ি পর্যায়ে। কিন্তু কী ভাবে হবে চিকিৎসা? গিটার ভেঙে যাওয়ার পর তো পেট চলছে পড়শিদের সাহায্যে! ওই অসহায় দম্পতিকে দেখে থমকে দাঁড়িয়েছিলেন নৃত্যশিল্পী ও সমাজসেবী, সল্টলেকের ইন্দ্রাণী গঙ্গোপাধ্যায়। গৌতম-চন্দ্রিমার গল্প, একরত্তির কান্না তাঁর মনকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
ইন্দ্রাণী বলছেন, ‘সবটা জেনে-শুনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম।’ ইন্দ্রাণীই সদ্যোজাতকে হাসপাতালে ভর্তি করান দু’দফায়। শিশুটির ভ্যালেন্টাইন নাম তাঁরই দেওয়া। আজ নামকরণ অনুষ্ঠান চন্দ্রিমা-গৌতমের ঝুপড়ি লাগোয়া ফুটপাথে। সেই জন্য পুলিশের অনুমতিও নেওয়া হয়েছে। ইন্দ্রাণী বলছেন, ‘গৌতমের জন্য একটা নতুন গিটার কিনেছি। আর ফুটপাথের অন্য বাচ্চাদের জন্য ভালোবাসার দিনের উপহার আঁকার সরঞ্জাম।’ আজ, হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে। ভালোবেসে বিয়ে করা চন্দ্রিমা ও গৌতমের কন্যা ভ্যালেন্টাইনের জন্মদিন- পুনর্জন্মের দিন।
