পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে এলাকার বাসিন্দা মহঃ আরিফের মদিনাচক এলাকায় ইমারত সামগ্রীর দোকানে এসে আচমকাই ধাক্কা মারে একটি বাইক। এই নিয়ে প্রতিবাদ করলে বচসা বেঁধে যায়। এরপরই কয়েকজন এসে সেখানে গন্ডগোল বাঁধায়।
গন্ডগোল চলকালীন আচমকাই গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। গুলিতে জখম হয় এক যুবতী সহ মোট চারজন। এরা হলেন
মহঃ আরিফ, হাবিবা খাতুন, বাবুল ও সেইদুল। গুলি চালনার ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে পঞ্চায়েত প্রধান নাজিস ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। গন্ডগোল চলাকালীন পুলিশে খবর দেওয়া হলেও কেউ আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। থানার তরফে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের পাঠানো হলেও, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।
গুলিকান্ডে আহতদেরকে প্রথমে লোধন ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, পরে তাদের ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে মহঃ আরিফের। বাকিদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের রাতেই শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
গন্ডগোল থামাতে পুলিশে বারবার ফোন করা হলেও আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন মৃতের আত্মীয় মহম্মদ খলিলুর রহমান। গোটা ঘটনায় পঞ্চায়েত প্রধানের দিকে আঙুল তুলে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় এখনও অবধি ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাদেরকে শনিবার ইসলামপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে, সেই কারণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে চলছে পুলিশি টহলদারিও। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে বিজেপি নেতা সুরজিত সেন। যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় বিধায়ক ও মন্ত্রী গোলাম রব্বানি বলেন, “ঘটনার পরেই পুলিশ প্রশাসনকে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে আবেদন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
