সূত্রের খবর, দিন দশেক আগে গড়বেতার বড়পাড়া এলাকায় একটি স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করে এক বেসরকারী সংগঠন। সেই স্বাস্থ্য শিবিরে ভিড় জমান গ্রামবাসীরা। হাঁটুর ব্যথা, পায়ের ব্যথা, কোমর যন্ত্রণা থেকে শুরু করে নার্ভের সমস্যা, নানান রোগ নিয়ে স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন এলাকাবাসীরা।
রোগী দেখে নানান আয়ুর্বেদিক ওষুধ দেন চিকিৎসক। আর এই ওষুধ খেয়েই দিন দুয়েক পর থেকে একটু একটু করে অসুস্থ বোধ করেন গ্রামবাসীরা। দিন দুয়েক আগে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে, চাঁদমনি সরেন (৬২) নামের এক মহিলাকে তড়িঘড়ি ভর্তি করা হয় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
এরপরই জ্যোৎস্না মুর্মূ নামের আরও একজনকে ভর্তি করা হয় মেদিনীপুরে। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শুক্রবার সকালে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় চাঁদমনির। জ্যোৎস্নার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে খবর হাসপাতাল সূত্র।
এলাকাবাসীর অভিযোগ মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেয়া হয়েছিল গ্রামবাসীদের। আর সেই ওষুধ খেয়েই মৃত্যু হয়েছে একজনের। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে মেডিকেল টিম পাঠিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। ঘটনা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্য শংকর সারেঙ্গী।
এই বিষয়ে ওই গ্রামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমাদের জানা ছিল না যে ওই স্বাস্থ্য শিবিরের ওষুধ খেয়ে সবার এই হাল হবে। ওনারা নিজে থেকে আমাদের গ্রামে এসে শিবির বসিয়েছিলেন। তারপর আমরা আমাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ওই শিবিরে গিয়ে চিকিৎসা করাই।”
ঘটনার খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসেছে জেলার স্বাস্থ্য দফতর। সূত্রের খবর, এই শিবির নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হতে চলেছে। পরীক্ষা করে দেখা হবে শিবিরে থাকা ওষুধগুলিও। অন্যদিকে মৃতের বাড়ির অভিযোগের ভিত্তিতে ওই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ধৃতের নাম উত্তম দে। ধৃতকে আজই পেশ করা হয় গড়বেতা মহকুমা আদালতে। উল্লেখ্য, আজ গড়বেতার গোয়ালতোড়ে সরকারি উদ্যোগে দুয়ারে ডাক্তার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর তার মাঝেই এই খবরে শোক নেমে এসেছে গোটা জেলায়।
