Tiljala News : খুনের পর মাংস রান্না করে ঘরে গান শুনছিল অলোক – tiljala case accused alok kumar cooked chiken after murder


এই সময়: রান্না ঘরে রাখা গরমাগরম মাংসের ঝোল। আর ঘরে শুয়ে গান শোনায় মগ্ন তিলজলায় বালিকা খুনের অভিযুক্ত অলোক কুমার। রবিবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশীরা অলোকের ঘরে ঢুকে এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান। তখন অবশ্য বোঝার উপায় ছিল না যে, সেদিন সকালেই ঘরের মধ্যে এক শিশুকে খুন করেছে ওই ব্যক্তি। তবে প্রতিবেশীরা তার ঘরে ঢুকলেও যাতে কারও সন্দেহ না হয় সেজন্য হেসে হেসেই কথা বলে অভিযুক্ত।

Tiljala Murder: বার বার গর্ভপাত এড়াতে তান্ত্রিকের নির্দেশে নরবলি! তিলজলায় নাবালিকা খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য
কিন্তু অলোকের এই অস্বাভাবিক ব্যবহারে সন্দেহ বাড়ে বাসিন্দাদের। তাঁরা বুঝে যান, এই আচরণের পিছনে কোনও না কোনও রহস্য রয়েছে। ফলে ঘর জুড়ে শুরু হয় তল্লাশি। এরপর খবর যায় তিলজলা থানায়। পুলিশ এসে ঘর থেকে নাবালিকার দেহ ছাড়াও একাধিক হাতুড়ি উদ্ধার করে। এমনকী, অভিযুক্তের ঘরের দেওয়ালে আঁকা ছোটবড় নানা সাইজের কঙ্কালের ছবিতে চোখ আটকে যায় পুলিশ কর্মীদের। সোমবার এক পুলিশ কর্তা জানান, ঘর থেকে উদ্ধার করা হাতুড়ির মধ্যে কোনটি নাবালিকা খুনে ব্যবহার করা হয়েছিল তা জানার জন্য ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হচ্ছে।

Tiljala Incident: নাবালিকার মাথায় স্ক্রু ড্রাইভারের ক্ষত, শরীরে নৃশংস আঘাতের চিহ্ন! তিলজলার ঘটনায় ৩ মামলা দায়ের
খুন হওয়া নাবালিকার মা সোমবার বলেন, ‘যার জন্য আমার কন্যা সন্তানের এই করুণ পরিণতি তাঁকে যেন উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।’ এদিন ওই নাবালিকার স্কুলের শিক্ষিকারাও দাবি করেন, ‘এক মেধাবী ছাত্রীর সঙ্গে এমন আচরণ যে করতে পারে তার ফাঁসি হওয়া উচিত।’

নিহত বালিকার প্রতিবেশীরা বলেন, ‘আমাদেরও ঘরে মেয়ে আছে। নৃশংসতার কথা শোনার পর থেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছি আমরা। দোষীর এমন শাস্তি হওয়া দরকার যাতে কেউ আর কোনও দিন এমন কাজ করার সাহস না পায়।’ স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, ‘আমরা সকাল থেকে ওই শিশুকে খুঁজছিলাম। পুলিশকেও জানাই। কিন্তু ওরা কোনও গুরুত্ব দেয়নি। অলোকের কথায় আমাদের সন্দেহ হয়।

Tiljala News: তিনজলায় নাবালিকা খুনের ঘটনায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি! পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর-আগুন
এরপর ওর ঘরে ঢুকে দেখি গান চলছে। আর রান্না ঘরে গরম মাংস। তার আগেই ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে নাবালিকাকে। এমন একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটানোর পরে একজন কী ভাবে মাংস রান্না করে গান শুনছিল তা ভেবেই শিউরে উঠতে হয়।’

অলোক গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারি বয়ের কাজ করত। কয়েক বছর আগে ওই ফ্ল্যাটটি স্থানীয় এক মহিলার থেকে ভাড়া নেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ‘খুন করবে বলেই হয়তো সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে সম্প্রতি বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল সে। এর পিছনে বড় কোনও পরিকল্পনা ছিল। ঠিক ভাবে তদন্ত করলে পুরো বিষয়টি হয়তো জানা যাবে। তবে তারও আগে ওই তান্ত্রিককে খুঁজে বের করা প্রয়োজন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *