Pradipta Chakraborty Balurghat : উল্কার গতিতে তৃণমূলে উত্থান! দণ্ডিকাণ্ডে নাম জড়ানোয় রাতারাতি ‘অন্ধকার’-এ বালুরঘাটের প্রদীপ্তা – balurghat trinamool leader may be arrested on tapan dandi case


শ্বশুরমশাই শংকর চক্রবর্তী ছিলেন প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী। স্বামী বর্তমানে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সরকারি আইনজীবী। জেলায় চক্রবর্তী পরিবারের প্রভাব ও প্রতিপত্তি যথেষ্ট রয়েছে। তবে ২০২১ সালে চক্রবর্তী পরিবার থেকে কাউকে টিকিট দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই রাজনীতির আঙ্গিনায় পুরোপুরি ভাবে প্রবেশ প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর। তপন দণ্ডিকাণ্ডের পর তাঁকে দ্রুত জেলার মহিলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেয় তৃণমূল।Balurghat Dandi Controversy : দণ্ডিকাণ্ডে বিপদে তৃণমূল নেত্রী! প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে আইনি নোটিশ পুলিশের
রাজনীতিতে নেমেই একের পর এক ছক্কা হাকিয়েছেন। বরাবরই রাজনীতির আঙ্গিনায় চমক দিতে পছন্দ করতেন প্রদীপ্তা। জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর, তাঁর যে কোনও কর্মসূচিতেই থাকত নতুন চমক। গত দু’বছরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় নিজের প্রভাব যথেষ্ট বিস্তার করে প্রদীপ্তা। সেই কারণে ২০২২ সালের পুর নির্বাচনে মেলে টিকিটও। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের ওয়ার্ড থেকে লড়ে ভোটে যেতে প্রদীপ্তা। পরবর্তীতে ভোটে জয়ী হয়ে হন পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। এমনকি মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভানেত্রী পদও তিনি পান।

TMC MLA Abdul Karim Chowdhury : ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে ডাকলেও যাব না’, ফের বিস্ফোরক বিধায়ক
তবে এখনও রাজনীতির অঙ্ক বদলে গিয়েছে তপনের দণ্ডিকাণ্ড। জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দণ্ডিকান্ডে নাম জড়ানোয় এখন প্রদীপ্তার পূর্বসুরিরাও বিপাকে পড়তে পারেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর বালুরঘাটের রাজনিতিতে দু’জনের দ্রুত গতিতে উত্থান হয়েছে। তার মধ্যে একজন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। অন্যজন হলেন দণ্ডিকান্ডে অভিযুক্ত প্রদীপ্তা চক্রবর্তী। ষাটের দশকে জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ব্যোমকেশ চক্রবর্তীর পরিবারের বধূ প্রদীপ্তা চক্রবর্তী। শ্বশুরমশাই শংকর চক্রবর্তী পূর্তমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠও ছিলেন। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শংকরবাবু হেরে গেলেও মমতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও খারাপ হয়নি।

শঙ্করবাবুর ছেলে রাজনীতিতে না এলেও, তাদের পরিবারের পুত্রবধূ প্রদীপ্তা চক্রবর্তী সরাসরি রাজনীতিতে নেমে পড়েন। তিনিও টিকিট পেতে মরিয়া ছিলেন। কিন্তু সেবার বিধানসভার টিকিট না পেলেও, প্রদীপ্তা চক্রবর্তী কলকাতা ঘরানার রাজনীতি জেলায় আমদানী করতে চেয়েছিলেন। ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা তৃণমূল সভাপতির পাশাপাশি জেলার কোর কমিটিতেও ঠাঁই হয় প্রদীপ্তা। জেলার রাজনীতিতে মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র বিরোধী গোষ্ঠীর মুখও হয়ে ওঠেন তিনি। সেই প্রদীপ্তাই দণ্ডিকাণ্ডের পর তিমিরে।

Paschim Medinipur TMC : তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ভার্চুয়াল মিটিং চলাকালীন উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগান! ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে বিতর্ক
আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক দূরে সরে যেতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই প্রদীপ্তাকে নিয়ে কড়া মনোভাব নিয়েছে দল। পুলিশের রিপোর্টকে ভরসা না করে একের পর এক পদ থেকে তাঁকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব হারিয়ে এখন রাজনৈতিকভাবে প্রায় শূন্য প্রদীপ্তা।

দণ্ডি কান্ড এতটাই আদিবাসী মহলে প্রভাব ফেলেছে যে, খোদ তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। ফলে দণ্ডির ঘটনার প্রায় এক মাস পরেও তাকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে রেখে দেওয়া হলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক নির্দেশে রাতারাতি তাকে সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রদীপ্তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। আগামী দিনে তিনি আবার দলের মূলস্রোতে ফিরে আসতে পারেন কিনা, সেটা দেখায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *