অসুস্থ বাবাকে বাঁচাতে বিপদে পড়ে ২০১৯ সালে বুড়ো প্রামাণিক নামে এক মহাজনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন কাটোয়া নিবাসী এক মধ্যবিত্ত স্কুলশিক্ষক। সেই শুরু ঋণের অন্ধকূপে (Loan Racket Busted) পড়ে প্রাণান্তকর অবস্থা শিক্ষকের। ওই টাকার জন্য মাসে ৬০ শতাংশ হারে সুদ নিত ও মহাজন বলে দাবি। ২০২২ সালের মধ্যে সেই টাকা চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ লাখ টাকা। আসল টাকার বহুগুণ অর্থ দিলেও দিলেও চড়া সুদের হারের জেরে ঋণ আর শোধ হচ্ছিল না।
অভিযোগ, পাঁচ লাখ টাকার ঋণে প্রায় ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়ে গেলেও প্রতিনিয়ত চলত সুদ আদায়ের জন্য অত্যাচার। ঋণের টাকা মেটাতে ঘটি-বাটি-বাড়ি বেচে সর্বস্বহারার অবস্থা শিক্ষকের। অভিযোগ, সুদ কারবারিদের উলটে টাকা মেটানোর জন্য আরও টাকা ধার নিত বাধ্য হন তিনি। অত্যাচার এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে জোর করে বাড়ি লিখিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ। শিক্ষকের স্ত্রীকেও কুপ্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঋণের ফাঁসে পড়ে দিশেহারা শিক্ষক ভাগীরথী নদীতে আত্মহত্যার কথাও ভাবেন। শেষ মুহূর্তে তাঁর ছোট ছেলে সুইসাইড নোট দেখে ফেলায় প্রাণে রক্ষা পান তিনি।
কাটোয়া থানায় দায়ের করা অভিযোগ ওই শিক্ষকের স্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর সন্তানের স্কুলে গিয়েও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। স্কুলশিক্ষকের দাবি, তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় আত্মহত্যা করলেও মুক্তি নেই। বাড়ি বেচে হলেও টাকা মেটাতে চাপ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত কাটোয়া থানায় ডায়েরি করেন ওই শিক্ষকের স্ত্রী । মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে খবর। এরপরই পুলিশ তদন্তে নেমে চারজনকে গ্রেফতার করে। বাকিদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।
পশ্চিমবঙ্গের আরও খবরের জন্য ক্লিক করুন। প্রতি মুহূর্তে খবরের আপডেটের জন্য চোখ রাখুন এই সময় ডিজিটালে।
