ঘটনাচক্রে, এ দিনই ১৪ দিনের জেল হেফাজত শেষে পার্থ-কল্যাণময়-সুবীরেশ-শান্তিপ্রসাদ-অশোক সাহাদের আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে সশরীরে হাজির করানো হয়। অভিযুক্তদের আইনজীবীরা বলেন, একদিকে সিবিআই বলছে তদন্ত শেষ, চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, আবার বলছে, আরও তদন্ত দরকার। তাঁদের প্রশ্ন, তদন্তের নামে আর কতদিন অভিযুক্তদের জেলে রাখা হবে?
বিচারক শেখ কামালউদ্দিন তখন নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগ-দুর্নীতিতে সিবিআইয়ের তদন্তকারী মহিলা অফিসারকে কাঠগড়ায় তুলে কেস ডায়েরি দেখতে চান। কেস ডায়েরি দেখে তাঁর প্রশ্ন, ‘মোট কত জনকে আপনারা সন্দেহের তালিকায় রাখছেন?’ তদন্তকারী অফিসার জবাব দেন, ‘এমন ৬৭৭ জন আছেন।’ বিচারক জানতে চান, এর মধ্যে ক’জনকে তাঁরা জেরা করেছেন? তাতে উত্তর আসে, ‘চার জন।’ বিস্মিত বিচারকের প্রত্যুত্তর, ‘৪-৫ মাসে মাত্র ৪ জনকে জেরা করেছেন? ৬৭৭ জনের জন্য মাত্র এক জন তদন্তকারী অফিসার? তদন্ত কি অনন্তকাল ধরে চলবে?’
তার পরেই শান্তিপ্রসাদের আইনজীবী সঞ্জয় দাশগুপ্ত বলেন, ‘তা হলেই ভাবুন! চার মাসে যদি চার জনকে জেরা করা হয়, তা হলে তো ৬৭৭ জনকে জেরা করতে ৬৭৭ মাস লাগবে। তত দিন কি আমাদের মক্কেলরা জেলেই থাকবেন?’ সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার উত্তর দেন, ‘আমরা স্টেটমেন্ট রেকর্ড করছি।’ সিবিআইয়ের কৌঁসুলি বলেন, ‘প্রমাণ সংগ্রহ করাই আমাদের প্রধান কাজ।’ বিচারক আবার প্রশ্ন করেন, ‘আর কত দিন?’ সিবিআইয়ের কৌঁসুলি কার্যত মেনে নেন, এর জন্য সত্যিই সময় নির্দিষ্ট করা আছে। তাঁর যুক্তি, ‘আমরা তো প্রতিদিনই আদালতের সামনে নতুন নতুন তথ্যপ্রমাণ পেশ করছি, নথিও আনছি।’
অভিযুক্তদের মধ্যে যাঁরা সরকারি পদে ছিলেন, বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে তাঁদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে স্যাংশন লেটার আনা হয়েছে কি না, বিচারক তা জানতে চান। সিবিআইয়ের কৌঁসুলির দাবি, দু’মাস আগে তারা রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ওই চিঠির জন্য আবেদন করলেও উত্তর মেলেনি। বিচারকের প্রশ্ন, ‘তা হলে রিমাইন্ডার দেওয়া হয়নি কেন?’ সিবিআইয়ের কৌঁসুলি জানান, এই ব্যাপারে তাঁরা কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
