Aindrilla Sharma News : একাদশের পরীক্ষাও হাসপাতালে শুয়েই – aindrilla sharma passes away baharampur neighbours recollect many of bengali actress childhood memories


শীর্ষেন্দু গোস্বামী, বহরমপুর
হেমাভ সেনগুপ্ত, বোলপুর
লড়াই শুধু হাসপাতালের বেডেই নয়। লড়াই তাঁর ছোটবেলা থেকেই। তার পরও শেষরক্ষা হয়নি। রবিবার দুপর থেকেই তাই শোকের ছায়া পৌঁছে গিয়েছিল বহরমপুরে। এখনও সেখানকার ইন্দ্রপ্রস্থ এলাকার চারতলা বাড়িটার নেমপ্লেটে বাবা, মা ও দিদির সঙ্গে তাঁর নামটাও জ্বলজ্বল করছে। পাড়া-পড়শিরা তাঁর ছোটবেলার লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে চোখের জল ফেলছিলেন। হাসিখুশি মেয়েটা যে এ ভাবে চলে যাবে, তা কেউ বুঝতে পারেনি। সেলেব হওয়ার অনেক আগেই বীরভূমের রাঙামাটিকে ভালোবেসে বার বার এসেছেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। ক‍্যান্সার জয়ের কথা আর গ্রামে এসে কে শোনাবে! তাই শোকে মূহ‍্যমান কৃষ্ণপুর। বীরভূমের নলহাটি থানার শীতলগ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণপুরে ছিল তার অন্তরের টান। ঐন্দ্রিলা ও নলহাটির কৃষ্ণপুরের কোথাও যেন একটা প্রাণের যোগসূত্র ছিল। রক্তের সম্পর্কের না হলেও, এক অর্থে এই গ্রাম ছিল তাঁর মামার বাড়ি। তাই বারংবার ফিরে আসতেন কৃষ্ণপুর গ্রামে।

Aindrila Sharma Actress: গ্রন্থকীট ঐন্দ্রিলার বিনোদন জগতে আসা কী ভাবে? ‘যুদ্ধের ইতিহাস’ জানালেন মেয়েবেলার বন্ধু
ইন্দ্রপ্রস্থের প্রতিবেশী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলছিলেন, শনিবারও তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলার পর জানতে পেরেছিলেন যে একমাত্র মিরাকলেই শেষরক্ষা হতে পারে। আর তার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে বলেছিলেন বাবা উত্তম শর্মা। বহরমপুরের মানুষও দিনরাত প্রার্থনা করছিলেন তাঁদের একান্ত আপন ঐন্দ্রিলার জন্য। ইন্দ্রপ্রস্থের বাসিন্দা ঐন্দ্রিলা ও তাঁর দিদি ঐশ্বর্য শহরেরই কাশীশ্বরী গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী ছিল। ২০১৫ সালে একাদশ শ্রেণিতেই মারণরোগের শিকার হন ঐন্দ্রিলা। একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা চলাকালীন খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেও হাল ছাড়েননি ঐন্দ্রিলা।ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা চৈতালী চট্টোপাধ্যায় বলছিলেন, ‘ঐন্দ্রিলার এই লড়াই ছোট থেকেই। অসুস্থ অবস্থায় একাদশের দু’টো পরীক্ষা স্কুলেই দিয়েছিল ঐন্দ্রিলা। এরপর ওকে ভর্তি করা হয় এক বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু ঐন্দ্রিলা জানায়, ওই অবস্থাতেই হাসপাতালের বেডে শুয়ে পরীক্ষা দেবে। তেমনটাই দিয়েছিল।’ প্রতিবেশী বলাকা চন্দ্র বা জাহ্নবী চট্টোপাধ্যায় কিংবা ঐন্দ্রিলাদের বাড়িতেই ভাড়া থাকা সুস্মিতা দে-রা জানাচ্ছেন, জুলাই মাসে শেষ এসেছিলেন ঐন্দ্রিলা। তার পরই আসার কথা ছিল পুজোতে। কিন্তু আসতে পারেননি। এর পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই পাড়ার মেয়েকে শেষ দেখাটা টিভি-তেই সারতে হলো।

Aindrila Sharma Death: ১৯ দিনের লড়াই শেষ, নিয়তির কাছে হার মেনে প্রয়াত ঐন্দ্রিলা
নাচের প্রশিক্ষক সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমার কাছেই প্রথম নাচ শিখেছিলো। কোনও দিন দ্বিতীয় বার দেখাতে হয়নি কিছু। সাত-আট বছর আমার কাছেই নাচ শিখেছে।’ তিনি জানান, বহরমপুরে প্রথম রিয়ালিটি শো যখন চলছে, সেই সময়েই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ঐন্দ্রিলা। কিন্তু সকালেই জানান, তিনি অডিশনে যোগ দেবেন। সেই রিয়িলিটি শো থেকেই রূপোলি পর্দার সুযোগ। বন্ধু বান্টি সাহা বলেন, ‘অনেক অনুষ্ঠানে আমরা একসঙ্গে নাচ করেছি। স্টেজে কোনও ভুল হলে সংশোধন করে দিত। কোনও কিছুকে ভয় পেত না।’

Aindrila Sharma Death : চিরঘুমে ‘ফাইটার’, চোখের জল বাঁধ মানছে না বহরমপুরবাসীর
বীরভূম কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা, ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা বিভাসচন্দ্র অধিকারী ও তাঁর ভাই সুপ্রকাশ অধিকারী ঐন্দ্রিলার দুই সম্পর্কিত মামা। ঐন্দ্রিলার পেশায় চিকিৎসক বাবা নলহাটির লোহাপুর লাগোয়া মুর্শিদাবাদের পাঁচগ্রামে ডাক্তারি করতেন। সেই সুবাদে বিভাস অধিকারী পরিবারের সঙ্গে ঐন্দ্রিলাদের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। দুই বাড়ির মধ্যে ছিল ঘনিষ্ঠ যাতায়াত। অধিকারী বাড়ির পাশাপাশি চার-পাঁচ বার কৃষ্ণপুর গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসেছেন ঐন্দ্রিলা ও তাঁর বন্ধু সব‍্যসাচী। গত বছরও কালীপুজোয় ওঁরা দু’জনেই এসেছিলেন। ক্লাবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে ঐন্দ্রিলা তাঁর ক‍্যান্সার জয়ের কাহিনী শোনান।

Aindrila Sharma : ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কাকে বলে এরাই জানে’, সংকটজনক ঐন্দ্রিলা শর্মার আরোগ্য কামনা অনিন্দ্যর
সেই ‘রিয়েল লাইফ’-এর জয়ের কাহিনী রিলের সংলাপকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। ঐন্দ্রিলা জয় করে নেন মানুষের মন। সুপ্রকাশ অধিকারীর স্ত্রী বনলতা অধিকারীকে ‘মামনি’ বলে ডাকতেন ঐন্দ্রিলা। তিনি বলেন, ‘আমাদের শাশুড়ি আরতী অধিকারীর হাতের রান্না খেতে খুব ভালোবাসত ঐন্দ্রিলা। এই তো সেদিন, মেয়েটা ভাত, ডাল, মাছ, জিলিপি ও মিষ্টি খেল। ওরা খেতে বসেছে। এমন সময়ে গ্রামের মানুষ এসেছে শুনেই, নিজে খেতে খেতে উঠে গিয়ে, গ্রামের মানুষের আবদার রাখতে, সকলের সঙ্গে সেলফি তুললো। তারপর আবার খেতে বসলো।’ চোখে জল নিয়ে বনলতার প্রশ্ন, ‘তাড়াতাড়ি চলে যাবে বলেই কি এ ভাবে সকলকে আপন করে নিয়েছিল?’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *